সৌদিতে কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম বাংলাদেশি আ’মের

0

পবিত্র মদীনাহ মোনাওয়ারায় আত-তাইয়্যেবা বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত পূর্ণাঙ্গ ক্বোর’আনুল কারীম প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেছে বাংলাদেশি বংশদ্ভূত আ’মের হাফেজ খান। গত বছরের নভেম্বর অনুষ্ঠিত প্রতিেযাগিতার ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে গেল সাপ্তাহে।

প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে আরব অনারব মিলিয়ে প্রায় ২৫০ জন প্রতিযোগী, যার মধ্যে ছিলো মসজিদুন্নববী, মদীনাহ বিশ্ববিদ্যালয়, আত-তাইয়্যেবা বিশ্ববিদ্যালয় ও মদীনাহ অঞ্চলে অবস্থিত প্রায় ৫০ টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক শিক্ষার্থী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা কর্মচারী ও সাধারণ নাগরিকগন। বিচারক হিসেবে ছিলেন সৌদি আরবের প্রসিদ্ধ ক্বারী আলেম ও প্রফেসরবৃন্দ।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই প্রতিযোগিতায় বিচারকদের মুল্যায়নে ১০০% নাম্বার পেয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছে যৌথভাবে ১২ জন প্রতিযোগী। পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে এই ১২ জনের মধ্যে আরো বিশেষ বিশেষ কিছু শর্ত জুড়িয়ে পুনরায় ইন্টারভিউ নেওয়া হয়। আবারো দেখা গেলো একই সমস্যা, এই স্তরের প্রতিযোগিতায় ১২ জন থেকে ৩ জন ১০০% নাম্বার পেয়ে প্রথম স্থান অধীকার করেছে। এটি ছিলো এক চ্যালেঞ্জিং প্রতিযোগিতা। বিচারকবৃন্দ এককভাবে একজনকে প্রথম ঘোষণা কর‍তে হিমশিম খাচ্ছেন দেখে, আয়োজনকারী বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি পুর্বের বিচারকদের পাশাপাশি আরো কিছু নতুন বিচারকের সমন্বয়ে এই ৩ জন থেকে চ্যাম্পিয়ন বের করার জন্য পুনরায় ইন্টারভিউর আয়োজন করেন। সৌভাগ্যক্রমে আ’মের হাফেজ খান এই প্রতিযোগিতায় সেই ৩ জনের মধ্যে প্রথম হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। আ’মেরের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে শুধু বলেঃ “গোলামের প্রতি মওলার করুণা”!!

আ’মের বর্তমানে মদীনাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শ’রীয়াহ ফ্যাকাল্টির শেষ বর্ষের ছাত্র। পাশাপাশি তিনি মসজিদুন্নববীতে ক্বোর’আন শিক্ষা বিভাগের শিক্ষক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। যে সকল সুত্রে আমাদের নিকট ক্বোর’আন পৌছেছে তন্মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ “হাফস” রেওয়ায়েতের সনদ রয়েছে আ’মেরের কাছে, যা ধারাবাহিকভাবে রাসুল (স) পর্যন্ত পৌঁছেছে।

একজন মুসলিমের এরচেয়ে বড় আর কি কোন গর্বের বিষয় থাকতে পারে? আরো দুটি সুত্রে সে এজাজাত পাওয়ার পথে। ইসলামী সংস্কৃতি সভ্যতার উপর তার রয়েছে অগাধ ধারণা, হাজারো হাদীসে নববী (স), হাজারো কবিতার পংতি তার মূখস্ত। তার ভাষার প্রাঞ্জলতাগুণ থাকার কারণে তার ফ্যাকাল্টিতে অনুষ্ঠিত সকল অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে দিয়েই করিয়ে থাকে।

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে আ’মেরের পরিবার প্রায় ৬০ বছর যাবত মদীনায় বসবাস করছে। তার দাদা প্রিন্সিপাল ওয়াহিদুল্লাহ খান সেই ৭০ এর দশকে মদীনাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে সৌদি সরকারের স্কলারশিপ নিয়ে পড়তে যান, সেই সুবাদে তার বাপ চাচারা ছোটবেলা থেকে মদীনায় পড়ালেখা ও জীবন যাপন করার সুযোগ পান। তবে বাপ- চাচাদের মধ্যে শুধু আ’মেরের পিতা হাফেজ আব্দুল হালিম খান পরবর্তীতে মদীনাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপ পেয়ে সেখানে পড়াশোনা শেষ করে, পরিবার নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। দাদা গ্র‍্যাজুয়েশন শেষে সৌদি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দা’য়ী হিসেবে আরব আমিরাতে পোষ্টিং পেলে, চাচারাও দাদার সাথে আমিরাতে চলে যান। বর্তমানে তার ৩ চাচা আমিরাতের বিভিন্ন মসজিদে ইমাম ও খতীবের দায়িত্বে রয়েছেন। ২০০৯ এ দাদা ও ২০১৫ এ পিতা ইন্তেকাল করেন।

আ’মেরের পরিবারের আরেকটা বিশেষত্ব আছেঃ দাদা, পিতা-মাতা, ভাই-বোন, চাচা-চাচাতো ভাই বোন মিলে পুরো পরিবারে ৩২ জন ক্বোরা’নের হাফেজ কাম আলেম রয়েছে আ’মেরের পরিবারে। এদের মধ্যে ১০ জন শুধু মদীনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র‍্যাজুয়েশন করা। এদের কেউ কেউ আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও আমেরিকায় বিভিন্ন মসজিদের ইমাম ও খতিব হিসেবে এবং মদীনায় মসজিদুন্নববী সহ বিভিন্ন ইসলামিক সেন্টারের শিক্ষক ও কো-অর্ডিনেটর হিসেবে খেদমত আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছেন। ক্বোর’আন কতটা কতটা সম্মান ও বরকত বয়ে আনে তা এমন পরিবার দেখলে বাস্তবে বুঝা যায়।

বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী আ’মের একেবারে প্রচারবিমুখ, সাদামাঠা, সদালাপী, বিনয়ী ও গতিসম্পন্ন এক চরিত্র। প্রয়োজনের বাহিরে কথাবার্তা না বলার কারণে তার বাবা তাকে “ঘরের ১২ মাসের মেহমান” বলে সম্বোধন করতেন।

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।