সারাবিশ্বে এখন উড়োজাহাজের তুলনায় পাইলট অনেক বেশি

0

এ বছরের শুরুতেও বিশ্বব্যাপী এভিয়েশন শিল্পে পাইলটদের ঘাটতি ছিল বড় একটি উদ্বেগের বিষয়। তবে এ শিল্পে করোভাইরাসের প্রভাব পাল্টে দিয়েছে পুরো চিত্র। এখন উড়োজাহাজের তুলনায় পাইলটদের সংখ্যা কম নয় বরং অনেক বেশি। দিন দিন এয়ারলাইন্সগুলোর টিকে থাকার যুদ্ধে চাকরি হারাতে হচ্ছে অনেক পাইলটদের। হঠাৎ পাল্টে গেছে সব হিসেব নিকেশ।

বিশ্বের অন্যতম ফ্লাইট গবেষণা সংস্থা সিরিয়াম ধারণা করছে, অন্তত ২০২৩ সালের আগ পর্যন্ত বিশ্ব এভিয়েশন ঘুরে দাঁড়ানোর কোন সুযোগ নেই। যদি এমনটা হয় তবে আগামী বছরগুলোতে যাদের পাইলট হিসেবে গড়ে উঠার উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল তা অনেক ক্ষেত্রেই কমে যাবে।

বিশ্বজুড়ে বহু বড় বিমানসংস্থা গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তাদের পাইলট ও ক্রুদের বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠিয়েছে। ডেল্টা এয়ারলাইন্স, কোয়ান্টাস, এবং জার্মানির লুফথানসা জানিয়েছে শিল্পটি পুনঃরুদ্ধারের সময় পর্যন্ত ধীরে ধীরে কর্মীসংখ্যা কমাবে তারা। ইজিজেট ঘোষণা করেছে, মহামারি প্রভাবের কারণে তাদের সব নিয়োগ আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।

ব্লুমবার্গের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাইলট পেশা গত কয়েক দশক ধরে চাহিদার দিক দিয়ে ছিল প্রথম সারির। এয়ারলাইন্সগুলো এক সময়ে তীব্র পাইলট ঘাটতিতে পড়েছিল, যখন বিশ্বব্যাপী বিমানের বহর বাড়তে থাকে। পাইলটের সংকটে এয়ারলাইন্সগুলোর অনেক প্লেন অব্যবহৃত থাকায় তাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।

তাই পাইলট সংকট কাটাতে সংস্থাগুলো বড় বোনাস দেয়ার প্রস্তাবও দিয়েছে বিভিন্ন সময়। যেমন জনবল যথেষ্ট ছিল না বলে তীব্র কোয়ান্টাস তাদের দ্বিতীয় পাইলট ট্রেনিং স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে করোনা সংকটে তাদের এই পরিকল্পনা আর এগিয়ে যায়নি।

বিশ্বব্যাপী লাখো মানুষের কাছে পাইলট হওয়া স্বপ্নের পেশা। এই পেশায় প্রণোদনা এবং উপার্জন বেশ সম্মানজনক থাকায় তা বিশ্বের অন্যতম সেরা চাকরি হিসেবে বিবেচিত। তবে সমস্যা হল কেবল টাকা থাকলেই এই পেশায় আশা সম্ভব। উদাহরণস্বরূপ, এই পেশায় আসার আগে যুক্তরাজ্যে কেউ যদি ১৮ মাসের দীর্ঘ প্রশিক্ষণ নেয় তবে তাকে গুণতে হবে ১ লাখ ৯ হাজার পাউন্ড।

তাই অনেক টাকা খরচ করে যারা আগামী কয়েক বছরের মধ্যে পাইলট হওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন, তাঁদের উপর অনেক মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে ।

একথা নিশ্চিত নয় যে আগামী দুই বছরের মধ্যে যাত্রী বাড়বে এভিয়েশনে। তা যদি হয়, সেক্ষেত্রেও সমস্যা আছে কারণ তখন সংস্থাগুলো তাদের ঝুঁকি কমানোর জন্য অভিজ্ঞ পাইলটদেরই নিয়োগ দিবে। ফলে ক্যাডেট পাইলট এবং অন্যান্য উচ্চাকাঙ্ক্ষী শিক্ষার্থীদের বিকল্প পেশায় যাওয়ার প্রবণতা বাড়বে।

যদিও এসব নেতিবাচক খবরের মধ্যে কিছু ইতিবাচক ঈঙ্গিত পাওয়া যায়। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে গড়ে পাইলটের বয়স তুলনামূলক বেশি। আশা করা হচ্ছে আগামী দুই বছরে আমেরিকার প্রায় ৫০০০ পাইলট অবসরে যাবেন। তাই সে হিসেবে নবীশ পাইলটরা হয়তো তখন শূন্যপদ পূরণ করতে নিয়োগ পাবেন।

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

Loading...