শাহ আমানত বিমানবন্দরে চালু হল নতুন থার্মাল স্ক্যানার

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে

0

করোনা ভাইরাস নিয়ে নানা শংকা আর আলাপ-আলোচনার মধ্যে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালু হল থার্মাল স্ক্যানার।

এরইমধ্যে থার্মাল স্ক্যানরের মধ্যে দিয়ে দুটি ফ্লাইটের প্রায় ৩০০ শতাধিক যাত্রীকে পরীক্ষা করা হয়েছে বলে জানান বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা। বিকেল ও রাতের আরো বেশ কয়েকটি ফ্লাইটের যাত্রীদের প্রত্যেককেই এই থার্মাল স্ক্যানারের মধ্যে দিয়ে যাওয়া-আসা করতে হবে জানান তারা।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আট মাস ধরে নষ্ট থাকা পুরনো স্ক্যানারটির জায়গায় এখন শোভা পাচ্ছে একটি আধুনিক তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র। ফলে করোনাভাইরাস রোগী শনাক্তে এতদিনের ভরসা ইনফ্রায়েড থার্মোমিটারের নানা সীমাবদ্ধতা থেকে উত্তরণ ঘটল এই বিমানবন্দরের। নতুন স্ক্যানার বহনকারী উড়োজাহাজটি মঙ্গলবার সকালেই চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে পৌঁছেছে। দিনের মধ্যেই সেটিকে স্থাপন কর চালু করে দেয় বিমাবন্দরে নিয়োজিত থাকা কারিগরি টিম।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে কর্মরত সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এম জেড এ শরীফ আকাশযাত্রাকে বলেন,“থার্মাল স্ক্যানারটি বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বিমানবন্দরের ভিতরে এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে। আশা করছি বিমানবন্দরের করোনাভাইরাস রোগী সনাক্তের দীর্ঘদিনের সীমাবদ্ধতা অনেকাংশে দূর হবে।”

তিনি জানান, স্ক্যানারটি চালুর পর কারিগরি টিম তা বিমানবন্দর নিয়োজিত স্বাস্থ্য টিমকে পরিচালনার জন্য বুঝিয়ে দিয়েছে। এখন তারাই তা পরিচালনা করবে।

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বসানো নতুন থার্মাল স্ক্যানার  পরীক।সা করছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা
চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বসানো নতুন থার্মাল স্ক্যানার পরীক।সা করছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা

প্রতিদিন এত বিপুল যাত্রীর জন্য একটি থার্মাল স্ক্যানার যথেস্ট কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সঠিকভাবে সচল থাকলে একটি দিয়েই সম্ভব। কিন্তু সকালে একসাথে এতবেশি যাত্রী আসে সবার সঠিক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় হিমশিম খেতে হয়। এরপরও আগে একটি চালু হোক বাকিটা পরে দেখা যাবে। তবে এ কাজে আরো মেডিক্যাল সহায়তা দরকার বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

প্রতিদিন চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে দেশি-বিদেশি ফ্লাইটে গড়ে সাড়ে চার হাজার আর্ন্তজাতিক ও আভ্যন্তরীণ যাত্রী চলাচল করে থাকে। এর মধ্যে আর্ন্তজাতিক যাত্রী আছে দেড় হাজারের মতো। শুধুমাত্র সেই যাত্রীদেরই স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে চীন থেকে সরাসরি কোনো ফ্লাইট আসে না। তবে চীনের অনেক যাত্রী দুবাই, আবুধাবি, দোহা, মাসকাট ও ভারত হয়ে চট্টগ্রামে পৌঁছান। চট্টগ্রাম ঘিরে বড় উন্নয়ন প্রকল্পে বিপুল চীনা নাগরিক কর্মরত থাকায় তারা ওইসব দেশ ট্রানজিট বা উড়োজাহাজ পরিবর্তন করে চট্টগ্রামে পৌঁছান।

ফলে সেসব যাত্রীদের শতভাগ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছিল শুধুমাত্র ‘ইনফ্রায়েড থার্মোমিটার’ দিয়ে। এখন থার্মাল স্ক্যানার বসানোর ফলে কাজের গতি দ্রুত হবে। বিদেশি ফেরত যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে।

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ব্যবস্থাপক উইং কমান্ডার এ বি এম সারওয়ার-ই-জাহান বলেন, আমরা এখন অনেকাংশে দুশ্চিন্তা মুক্ত। দেশে দ্বিতীয় বৃহত্তম এই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কোভিড ১৯ (করোনাভাইরাস) পরীক্ষা আরও সহজ ও নির্ভরযোগ্য হল।”

জানা গেছে, চট্টগ্রাম আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দর দিয়ে গতকাল ৯ মার্চ পর্যন্ত ৪১ হাজার ৬৩১ জন আর্ন্তজাতিক যাত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে।

এদিকে একই উড়োজাহাজে আরেকটি স্ক্যানার মেশিন আনা হয়েছিল চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরের জন্য। চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরের ইমিগ্রেশন গেটে সেটি স্থাপনের জন্য স্থানও চূড়ান্ত করা হয়েছিল। পরে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে থার্মাল স্ক্যানারটি এখন ঢাকার শাহাজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

Loading...