মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সে ওই ফ্লাইটে বোমা পাওয়া যায়নি

0

বোমা আতংক নিয়ে অবতরণ করে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করা মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে কোনো বোমা পাওয়া যায়নি।

তল্লাশি শেষ হওয়ার পর বুধবার মধ্যরাতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরে সংবাদ সম্মেলন করে একথা জানায়।

সংবাদ সম্মেলনে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন তৌহিদ উল আহসান বলেন, আমরা বিমানের প্রত্যেক আরোহী ও বিমানটিতে তল্লাশি করেছি। বোমা বা বোমা সদৃশ কিছু পাওয়া যায়নি। এটি ছিল একটি নিয়মিত ফ্লাইট। অবতরণের পর থেকেই আমরা বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করেছি। ফায়ার সার্ভিসসহ অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী বিমানবন্দরে সতর্ক অবস্থানে আছেন।

জানা যায়, ঢাকার আইনশঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে গোপন সূত্রে খবর আসে, মালয়েশিয়া থেকে ঢাকামুখী একটি ফ্লাইটে বোমা নিয়ে আসছেন কয়েকজন যাত্রী। এরপর বিমানবন্দরের টার্মিনাল, বোর্ডিং ব্রিজ, ট্যাক্সিওয়ে ও রানওয়েতে সতর্ক অবস্থান নেন র‍্যাব–পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা। ডেকে আনা হয় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদেরও।

ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতির কারণে নির্ধারিত সময়ের আধা ঘণ্টা পরে এমএইচ-১৯৬ ফ্লাইটটি ঢাকায় অবতরণ করতে দেওয়া হয়। বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উড়োজাহাজটি বিমানবন্দরে নামার পর বোর্ডিং ব্রিজ থেকে কিছুটা দূরে ট্যাক্সিওয়েতে দাঁড় করানো হয়। উড়োজাহাজটি ঘিরে সশস্ত্র অবস্থান নেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

তল্লাশি চালায় বিমানবাহিনীর বোমা উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা
তল্লাশি চালায় বিমানবাহিনীর বোমা উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা

অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে একে একে যাত্রীদের বের করে আনা হয়। এরপর করা হয় প্রত্যেকের দেহ তল্লাশি। পরে উড়োজাহাজটি নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিয়ে সেখানে তল্লাশি চালায় বিমানবাহিনীর বোমা উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা। এই অভিযানে সেনাবাহিনী, র‌্যাব, এপিবিএন, ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা সহায়তা করে। তল্লাশি শেষে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি। উড়োজাহাজে তল্লাশি শেষে বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়।

রাত দেড়টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ এইচ এম তৌহিদ-উল-আহসান আরও বলেন, ‘আমাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য ছিল, ফ্লাইটিতে একজন যাত্রীর কাছে বোমাসদৃশ কিছু রয়েছে। যাঁর কাছে এটি রয়েছে তিনি পাকিস্তানের নাগরিক। কিন্তু যাত্রী তালিকায় পাকিস্তানের কোনো নাগরিক নেই। বিমানবাহিনীর বঙ্গবন্ধু ঘাঁটিতে যাত্রীবাহী ফ্লাইটটি সরিয়ে নিয়ে ১৩৫ যাত্রীকে নিরাপদে নামিয়ে আনা হয়েছে। পাশাপাশি কেবিন ও সব লাগেজ স্ক্যান করা হয়েছে। কোথাও বোমা পাওয়া যায়নি। কাউকে গ্রেপ্তারও করা হয়নি। উড়োজাহাজটিকে পরবর্তী ফ্লাইটের জন্য উপযুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) কর্নেল কে এম আজাদবলেন, ফ্লাইটটি রাত সাড়ে আটটায় কুয়ালালামপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার পরপরই তাঁদের কাছে খবর আসে, দুই যাত্রী বোমা বহন করছেন। এরপর নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোর সমন্বয়ে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, ঢাকার একটি পাঁচতারকা হোটেলের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তার কাছ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রথম এ ধরনের খবর পায়। খবরটি ছিল, পাকিস্তানের দুই ব্যক্তি মালয়েশিয়া থেকে ওই ফ্লাইটে বোমা নিয়ে ঢাকায় আসছেন, যাঁরা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত।

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন