ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় ক্ষতিপূরণ দাবী পোষা কুকুরের

1

ইউরোপিয়ান বিমান সংস্থাগুলোর কাছে ফ্লাইট বিলম্বের ক্ষতিপূরণ দেয়াটা রীতিমত আতঙ্কিত হওয়ার মত ব্যাপার। অপ্রত্যাশিত বিলম্বের কারণে তাদের হাজার হাজার পাউন্ড বা ইউরো মাসুল গুণতে হয় প্রায়ই। তবে এবারের ঘটনাটি বেশ অবিশ্বাস্য কারণ এই বিলম্বের কারণে ডেনমার্কের একটি বিমানসংস্থার কাছে ক্ষতিপূরণ চেয়ে বসেছে একটি পোষা কুকুর।

ঘটনার সূত্রপাত করোনাকালের আগে গেল ১৪ জানুয়ারি। ডেনমার্কের বিমানসংস্থা ডেনিস এয়ার ট্রান্সপোর্ট একটি ফ্লাইট ইতালির পালেরমো থেকে লাম্পেডুসা দ্বীপে ছেড়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল।

পূর্বনির্ধারিত টিকেটে সেই ফ্লাইটে জ্যাক নামের এক কুকুরও যাত্রী ছিল। স্বল্প সময়ের ফ্লাইটটি যাত্রার ঠিক আগেই কিছু যান্ত্রিক গোলযোগের শিকার হয়। এতে ফ্লাইটটি কয়েক ঘন্টা বিলম্বে ছাড়ার ঘোষণা আসলেও শেষমেশ তা বাতিল করতে হয়।

জ্যাকের মনিব ও তার পরিবার এই ফ্লাইট বিলম্ব ও বাতিলের জন্য প্রত্যেকেই ২৫০ ইউরো করে ক্ষতিপূরণ বুঝে পায়। তবে বেচারা জ্যাককে দেয়া হয়নি কিছুই। ব্যাপারটি আঁচ করতে পেরেছে বুদ্ধিমান কুকুরটি। ক্ষতিপূরণ না পাওয়ার আক্ষেপ তাকে পেয়ে বসে, ঘেউ ঘেউ করে ক্ষোভও প্রকাশ করে বিমানবন্দ মাথায় তোলে।

জ্যাক এর মালিকও এ ঘটনায় বেশ ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তার যুক্তি, যে তারা জ্যাক এর টিকেটের জন্য ২৭ ইউরো খরচ করেছেন। তাই ইউরোপিয় আইন ২৬১ অনুযায়ী কুকুরটিও এই ক্ষতিপূরণের দাবীদার। ফ্লাইট বিলম্বে কুকুরের ক্ষতিপূরণ চাওয়ার এই নজির তাই ইতিহাসে প্রথমবারের মত কোন ব্যাপার।

ইউরোপিয়ান রিজিয়নস এয়ারলাইন অ্যাসোসিয়েশন এর মহাপরিচালক মন্টসেরাট ব্যারিগা টুইটারে এই ঘটনা নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। টুইটে তিনি কুকুরের এই দাবিকে লোভী দাবী বলে অভিহিত করেন এবং এই দাবী করায় কুকুরের মনিবদের ভৎসর্না করেন।

তার টুইটে বলা হয়, “ইতিহাসে জ্যাক হল প্রথম কোন কুকুর যে কিনা বিমানযাত্রী হিসেবে ইউরোপি আইন EU261 এর ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ দাবী করেছে। এটা কোনও রসিকতা নয়। সম্প্রতি এমন ঘটনা ঘটেছে ডেনিস ট্রান্সপোর্টের একটি ফ্লাইটে। আপনি হয়তো বলবেন এটা একটি মজাদার ঘটনা। তবে ব্যাপারটি হল, এয়ারলাইন্সটির ক্ষতি করার একটি লোভী কর্মকান্ডের প্রমাণ।”

তার এই টুইটের সাথে অনেকেই দ্বিমত পোষণ করে কুকুরের পক্ষ নিয়েছে। তাদের বেশিরভাগ পোস্টে দেখা গেছে, কুকুরের টিকেটের জন্য যেমন টাকা দেওয়া হয়েছিল, তেমনি ক্ষতিপূরণের জন্য অর্থ প্রদান করা উচিত বলে মত দিতে। তার টুইটে বেশিরভাগ কমেন্টকারীই কুকুরের পক্ষ নিয়েছিল, যদিও বেশ কয়েকজন বিস্মিত হয়ে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন যে কুকুর কিভাবে ফর্ম পূরণ করেছিল!

EU261, এই নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ পেতে হলে একজন যাত্রীর কাছে টিকেট বা অনুরূপ ভ্রমণ নথির থাকা জরুরী। এতে নির্দিষ্ট করে বলা নেই যে যাত্রীকে মানুষই হতে হবে। তাই যেহেতু জ্যাকের কাছে একটি টিকেট ছিল, সে আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের যোগ্য দাবীদার।

এরোটেলিগ্রাফ নামের একটি পত্রিকাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বিমানসংস্থাটির সিইও জেসপার রাংহোলম কুকুরটি ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী বলে মেনে নিয়েছন। যদিও তিনি এই দাবি নিয়ে খুব একটা খুশি নন। তিনি এরোটেলিগ্রাফকে বলেছেন,”ইইউ-261 আইনটি আমাদের মত প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি দুর্যোগ, এটির খুব জরুরী ভিত্তিতে সংশোধন দরকার।”

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

1 মন্তব্য
  1. আব্দুল ওহাব বলেছেন

    ফাজলামি ছাড়া আর কিছুই না সব কুকুরের মনিবের চালাকি

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।