দক্ষিণ কোরিয়ায় ইপিএস কর্মী, বঞ্চিত হল বাংলাদেশ!

0

২০২০ সালে বাংলাদেশ থেকে আসা ইপিএস কর্মী কর্মস্থলে যোগদান সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে ৮৫ জনকে। ২০২০ সালে আর কাউকে প্রশিক্ষণ করানো যাবে তার কোন সম্ভাবনা নাই বললেই চলে। অথচ বিগত বছর গুলোতে ১২০০ জনের বেশী, কোনো কোনো বছরে ১৫০০ জন বা ২০০০ জনের বেশীও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। কম করে ধরলেও ২০২০ সালে কোরিয়াতে আসতে পারলেন না ১১০০ জন ইপিএস কর্মী। তার মানে ১১০০ টা পরিবার নতুনভাবে আর্থিক স্বচ্ছলতা থেকে বঞ্চিত হলেন।

কোরিয়া থেকে একজন খাঁটি ইপিএস কর্মী প্রতি মাসে এক লক্ষ বিশ হাজার টাকা দেশে পাঠাতে পারেন। যদিও কেউ কেউ দুই লক্ষ-আড়াই লক্ষ টাকা বা তার চেয়েও অনেক বেশী পাঠিয়ে থাকেন। একজন ইপিএস কর্মী কোরিয়াতে দুই ধাপে কমপক্ষে ৯বছর ৮মাস অর্থাৎ ১১৬মাস কোরিয়াতে চাকুরী করতে পারেন।

[১,২০,০০০×১১৬(মাস)=১,৩৯,২০,০০০ টাকা একজন ইপিএস কর্মী দেশে পাঠাতে পারতেন এবং দুই ধাপে তেজিকুম পেতেন কমপক্ষে ১৪ লক্ষ টাকা। তেজিকুমসহ একজন ইপিএস কর্মী দেশে পাঠাতেন (১৩৯২০০০০ + ১৪০০০০০= ১,৫৩,২০,০০০) ১ কোটি ৫৩ লক্ষ ২০ টাকা। ১১০০ জন ইপিএস কর্মী পেতেন (১,৫৩,২০,০০০×১১০০=১,৬৮৫,২০,০০০০০) ১হাজার ৬শত ৮৫কোটি ২০লক্ষ টাকা।

এক কথায় বাংলাদেশ বঞ্চিত হলো ১ হাজার ৬ শত ৮৫ কোটি ২০ লক্ষ টাকা। বঞ্চিত হলো এক হাজার একশত পরিবার আর্থিক স্বচ্ছলতা থেকে। কে বঞ্চিত করলো বাংলাদেশকে, কে বঞ্চিত করলো এতগুলো পরিবারকে?

সাধারণভাবেই এটা প্রতিরোধ করা যেতো। যথেষ্ট সময় ছিল। যারা এসেছেন তারা নিজেরাও যদি নিজেদেরটা নিশ্চিত হয়ে আসতেন। অথবা নিজেদের মধ্যে করোনাভাইরাস সনাক্ত হলেও ভাইরাস নেগেটিভ হওয়ার পর ফ্লাই করলে হতো। অথবা যাঁরা সরাসরি দায়িত্ব পালন করেছেন তাঁরা নিশ্চিত হওয়ার পর ফ্লাই করার সুযোগ দিলে এমনটি হতো না। নিশ্চিত হওয়ার পন্থা ছিল।

চাটার্ড ফ্লাইটে কোরিয়াতে শুধু বাংলাদেশ থেকে লোক এসেছেন এমন নয়, অন্যান্য দেশ যেমন নেপাল, শ্রীলঙ্কা, কম্বোডিয়া, মিয়ানমার, উজবেকিস্তান থেকেও এসেছেন। চাটার্ড ফ্লাইটে যে কেউ ইচ্ছা করলেই টিকেট কিনে আসতে পারেন না। তবে কিছু প্রক্রিয়া বা ধাপ অতিক্রম করে টিকেট পেতে হয়, করোনাক্রান্ত কেউ যাতে ফ্লাইটে উঠতে না পারেন। দেশগুলো ধাপগুলো অতিক্রম করে আসায় চার্টার্ড ফ্লাইটে কোরিয়ায় আগতদের মধ্যে তেমন করোনাক্রান্ত পাওয়া যায় নি। কিন্তু একই ধাপগুলো অতিক্রম করে বাংলাদেশ থেকে আগতদের করোনাক্রান্ত পাওয়া গেছে, তাও আবার ২-৫জনবা ১৫জনও নয়, তারও বেশী। যা কোরিয়ার মিডিয়া ফলাও করে প্রচার-প্রকাশ হয়েছে। স্যোশাল মিডিয়া কোরিয়ানরা বিরূপ ও ন্যক্কারজনক মন্তব্য করেছেন। বিষয়টি গভীর দু:খজনক। অত্যন্ত লজ্জাজনক।

করোনার শুরুতে ইপিএস কর্মীরা যখন বাংলাদেশে গিয়েছিলেন তখন থেকে বলা শুরু করেছিলাম, এখন একটা সুযোগ আসবে বাংলাদেশি ইপিএস কর্মীর চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ার। আর তখন তেকেই বলা হচ্ছিল বাংলাদেশ থেকে খুব সাবধানে চেক হয়ে আসতে হবে, যাতে একজনও করোনাভাইরাস আক্রান্ত ইপিএস কর্মী কোরিয়াতে না আসে। যদি বাংলাদেশ থেকে করোনামুক্ত ইপিএস কর্মীরা আসে তাহলে বাংলাদেশী ইপিএস কর্মীর চাহিদা একটানে অনেক বেড়ে যাবে। কিন্ত তারপরও এমনটি হলো।

বিভিন্ন দেশের ইপিএস কর্মী যারা কোরিয়ান মালিকদের দ্বারা মনোনীত হয়ে সকল ধাপ অতিক্রম করে কোরিয়াতে ফ্লাই করার অপেক্ষায় রয়েছেন তারা আগস্ট মাস থেকে আসা শুরু হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে যারা মনোনীত হয়ে কোরিয়াতে আসার অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় আছেন তাঁরা নতুন নিষেধাজ্ঞার কারণের এ সময় আর আসতে পারবেন না বলেই ধরে নেওয়া হচ্ছে। করোনার কারণে তাদের কোরিয়ার জন্য নিরাপদ নয় মনে করা হচ্ছে। কাজেই তাঁদেরআরো অপেক্ষা করতে হবে। এই অপেক্ষার মেয়াদ কবে নাগাদ সেটা বলা যাচ্ছে না, ২০২০ সাল যে পার হয়ে যাবে না সেটাও বলা যাচ্ছে না।

অন্যদিকে কোরিয়ান মালিকেরা এতদিন অপেক্ষা করে আছেন। কর্মী কবে আসবে, মালিকরা জানতে চাইলে বলা হয়েছে “করোনার কারণে কোনো দেশ থেকেই আসছে না, আর কিছু দিন অপেক্ষা করতে হবে”। এখন অনেক দেশ থেকে ইপিএস কর্মী আসবে কিন্তু বাংলাদেশ থেকে আসতে পারবে না, এ ক্ষেত্রে মালিকরা কি আরো অপেক্ষা করতে পারবেন? তাঁদের তো এখনই কর্মী প্রয়োজন!

কোনো না ভাবে কোরিয়ান মালিকদের মন জুগিয়ে চেষ্টা করেছি যাতে একজন বেশী হলেও ইপিএস কর্মী বাংলাদেশ থেকে আসে। কি ভাবে বাংলাদেশি ইপিএস কর্মীর চাহিদা বাড়ানো যায় সেই জন্য সাধ্যমত পরামর্শ, গাইডেন্স, অনুপ্রেরণা, উৎসাহ, সেমিনার করে পয়েন্ট আউট করে বিভিন্ন পেপার নিউজ করে জানিয়ে দিয়েছি। সাধ্যের মধ্যে চেষ্টার কোনটা বাদ রাখিনি। যদি একজন হলে বেশী ইপিএস কর্মী বাংলাদেশ থেকে আসতে পারে। যদি একটা পরিবার হলেও আর্থিক স্বচ্ছলতার মুখ দেখতে পারে, রেমিট্যান্সে সমৃদ্ধ হবে প্রিয় মাতৃভূমি। সেই প্রয়াসে কি না করেছি ইপিএস-এর বর্তমান পদ্ধতি জন্মেরও আগে থেকে আজ অবধি।

সেটাকে এক হেচকা টানে উল্টােমূখী করে দেওয়া। যেখানে বেশী আসবে সেখানে বন্ধ হয়ে যাওয়া। কষ্টটা হয়তো তাই বড় হয়ে লাগছে।

লেখক : দক্ষিণ কোরিয়াপ্রবাসী বাংলাদেশি, অভিবাসন বিশেষজ্ঞ

কোরিয়ার শ্রম বাজার কোন পথে,বন্ধ হলো ভিসা ও ফ্লাইট

বাংলাদেশিদের ভিসা-ফ্লাইট নিষিদ্ধ করছে দক্ষিণ কোরিয়া

Posted by AkashJatra on Sunday, June 21, 2020

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

Loading...