কেনাকাটা বাড়ালেই চাঙ্গা হবে ওমানের অর্থনীতি

0

কোভিড-১৯ মহামারিতে সারা বিশ্বের মত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ওমানের অর্থনীতিও। এই অর্থনৈতিক সংকট থেকে রেহাই পেতে মানুষকে আরও বেশি কেনাকাটা করার পরামর্শ দিয়েছেন ওমানের অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিশেষ ছাড়সহ মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আরো নমনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করে বাজারের উপর ভোক্তাদের আস্থা ফেরানোর উদ্যােগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা। বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক পরিষেবাগুলোকে আরো বেশি ভোক্তাবান্ধব করে অর্থনীতির চাকা আবারও সচল করা যাবে।

টাইমস অব ওমানর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেশটির অর্থনেতিক বিশেষজ্ঞদের মতামত তুলে ধরেন।

দেশটিতে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সতর্কতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা যথাযথভাবে কার্যকর করা সাপেক্ষে এ পর্যন্ত ৬৩ টি শিল্প ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম পুনরায় চালুর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কমিটির সিদ্ধান্তে দেশটির আঞ্চলিক পৌরসভা ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ঘোষিত অব্যাহতিপ্রাপ্ত কার্যক্রমের তালিকা থেকে রাজধানী মাসকাটের ওয়াদি কবীর ও মাতরাহ’র এলাকা শিল্প ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমগুলো বাদ রাখা হয়েছে। এছাড়া মাসকাটের বাইরে শপিংমলগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে।

দেশটির তানফিধ লেবার ল্যাবস-এর প্রধান শাহসওয়ার আল বালুশি টাইমস অব ওমানকে বলেন,“এখানে আমাদের জোর দেয়া উচিত স্থানীয়ভাবে ক্রয় ক্ষমতা বাড়ানোর উপর। এক্ষেত্রে ক্রয়ক্ষমতা বাড়িয়ে ব্যবসাকে লাভজনক করার জন্য পরিকল্পনা নিতে হবে। যেসব ব্যবসায়ী স্থানীয়ভাবে তাদের ব্যবসা শুরু করতে চান তাদের জন্য আরো ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।”

ওমান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের অর্থনৈতিক গবেষণার প্রধান আহমেদ আল হুতি বলেন, “এখন থেকে দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এটা নিশ্চিত করতে হবে যে গ্রাহকরাই তাদের ব্যবসাকে আগের অবস্থায় ফেরত নিয়ে যাবে।”

আল হুতির মতে, “দোকানদার ও পণ্য বিক্রেতারা তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন বিপণন পরিকল্পনা তৈরি করে এগুতে হবে। এই যেমন এখন এমন অনেক জিনিসপত্র দোকানগুলোত পড়ে আছে যেগুলি তিন, চার বা পাঁচ মাসের পুরনো হয়ে গেছে। গ্রাহকেরাও এটা জানেন, তাই এই জিনিসগুলো যদি পুরো দামে বিক্রি করতে চান তবে সেটা তারা নিতে আগ্রহী হবেন না। তবে এই পণ্যগুলো যদি আপনি তাদের ডিসকাউন্টে অফার করেন তবে সেগুলো তারা লুফে নেবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমার মনে হয়, পণ্য বিক্রয়ে এমন কৌশলগুলো থাকা উচিত যা মানুষকে আসতে উৎসাহিত করবে এবং সেখানে জিনিস কিনতে প্রনোদনা দিবে।”

এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে তিনি ব্যবসায়ীদের প্রথম থেকেই লাভ না করার আহ্বান জানান। বলেন,”এক মাসের মত কেউ যদি মুনাফা না করেন তবে তা সাময়িক কিছু লোকসান ডেকে আনবে। তবে দুই তিন মাস পর থেকে তারা আবার লাভের হিসেবটা তুলে নিতে পারবে ঠিকই। প্রাথমিকভাবে তাই লাভ না করে ক্রেতা চাহিদা বাড়ালে ব্যবসা আগের অবস্থায় ফিরে আসবে নচেৎ সামনের আরো দীর্ঘ সময় ধরে তাদের লোকসানে ভুগতে হতে পারে।”

তিনি আরও বলেন,“যখন এই ধরণের স্কিমের কথা আসে তখন হয়ত সরকার খুব বেশি সাহায্য করতে পারবে না, কারণ এই বিষয়টি নির্ভর করছে দোকানদার ও গ্রাহকের মধ্যে। তাই বিক্রেতাদের আরো বেশি সৃজনশীল চিন্তা নিয়ে এগুতে হবে যাতে ক্রেতাদের চাহিদা ফিরে আসে। তবে সরকার হয়তো অন্য ক্ষেত্রে তাদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়াতে পারে, যেমন ভাড়া বা ফি কমানোর জন্য অনুরোধ করা, দোকানদারদের সাহায্য করা ইত্যাদি।”

এক্ষেত্রে আল হুতি কেবল অনলাইনে নির্ভরশীল না হয়ে দোকানে যেতে অনুরোধ করেন। বলেন, “যদি কেউ অনলাইনে পণ্য অর্ডার দেয় তবে তিনি জানেন না যে ডেলিভারিতে নিয়োজিত ব্যক্তি সঠিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেন কিনা। হয়তো তিনি মুখোশ পরে থাকবেন না, বা তাঁর হাত জীবাণুমুক্ত না। মোটকথা আপনি জানেন না যে ডেলিভারির পণ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি আছে কিনা”।

তবে দোকানগুলো যাতে ক্রেতাদের আস্থা ফিরে পায় সেজন্য সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি। বলেন, “দোকানে গেলে ক্রেতাদের উচিত অবশ্যই মাস্ক পরতে ভুলে না যাওয়া এবং দোকানগুলোতে যাতে তাপমাত্রা পরীক্ষার জন্য ও জীবাণুনাশক ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও ব্যবস্থা থাকে সেই দিকে মনযোগ দেয়ার জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। ”

এই সংকট মোকাবেলায় বেসরকারি খাতকে আরো বিকশিত করার উপর জোর দেন তানফিধ লেবার ল্যাবস-এর প্রধান শাহসওয়ার আল বালুশি। তিনি বলেন, “সরকারের উচিত নতুন করে কোন সরকারি কোম্পানি চালু না করে বেসরকারি খাতকে এর সাথে যুক্ত করা। কোভিড বা করোনা সংকট পরবর্তী সময়ে অর্থনীতিকে সচল করতে তাই সরকারি প্রতিষ্ঠানের মালিকানা শেয়ার বাজারে ছেড়ে দিয়ে কিংবা সরকারি মালিকানার কোম্পানি বেসরকারি খাতে বিক্রি করাটাই এখন শ্রেয়।”

ওমানে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য উপদেষ্টা এবং ওয়ার্ল্ড ওয়াইড বিজনেস হাউজের প্রতিষ্ঠাতা ড. আনচ্যান সিকে টাইমস অব ওমানকে বলেন, কোম্পানিগুলোতে কর্মীদের ধরে রাখতে হবে। কারণ স্থানীয় অর্থনীতিতে তারাও ব্যয় করেন।

তিনি ব্যাখা করেন,“কর্মীদের ধরে রাখাটা এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। কারণ আমাদের বুঝতে হবে যে এই সময়ে কোন কোম্পানির কর্মচারী একজন ভোক্তাও বটে।”

আনচ্যান যোগ করেন, “বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় একটি প্রশ্ন বারবার সামনে আসছে যে প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মীদের ছাটাই করাটা সমীচীন হবে কিনা। কিন্তু বেসরকারি খাতের প্রতি আমার বার্তা হচ্ছে আপনার কর্মচারীদের সাথে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করে তাদের যথাসাধ্য উৎসাহিত করার দিকে মনোনিবেশ করেন। তাদের কর্মক্ষমতা দিগুণ করার উপর জোর দিন। ছাটাই না করে তাদের রেখে দেয়া হলে আমাদের অর্থনীতিতে ক্রেতার সংখ্যা কমবে না এবং তা ভবিষ্যতে সামগ্রিকভাবে সব ব্যবসার জন্য লাভজনক হবে। আর যদি আপনি কর্মী এবং ক্রেতাদের হারান, তাহলে ঘুরে ফিরে তা আপনার ব্যবসার উপরও প্রভাব ফেলবে।

কর্মসংস্থান এবং ক্রেতার মধ্যে যোগসূত্রটা বোঝার জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি তিনি জোর আহ্বান জানান।

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

Loading...