ওমানে বহুতল ভবনে ফ্ল্যাট কিনতে পারবেন প্রবাসীরা

0

ওমানে এখন থেকে বহুতল ভবনে ইউনিট বা ফ্ল্যাট কিনতে পারবেন প্রবাসিরাও। রোববার দেশটির আবাসন ও নগর পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এমনই এক নজিরবিহীন ঘোষণা দিয়েছে। মূলত সালতানাতের ক্ষতিগ্রস্ত রিয়েল এস্টেট খাতকে চাঙ্গা করতেই সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ওমান অবজারভার জানিয়েছে, সরকারি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান আবাসন ও নগর পরিকল্পনা মন্ত্রী ড. খালফান বিন সাইদ আল শুয়াইলি। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, “রবিবারের এই সিদ্ধান্ত সম্ভাবনাময় রিয়েল এস্টেট খাতে বিনিয়োগকে উৎসাহিত করবে এবং ওমানের টেকসই উন্নয়নকে উৎসাহিত করবে।”

মন্ত্রণালয়ের আন্ডার সেক্রেটারি বরাতে ওমান অবজারভার জানায়, “গত বছরের তুলনায় রিয়েল এস্টেট যেই ধ্বসের মধ্য দিয়ে গেছে তার ক্ষতিপূরণ করতেই এই নতুন নীতি প্রবর্তনের প্রয়োজন ছিল।” তিনি বলেন, সাধারণ নীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে সুস্পষ্ট মান এবং নিয়ন্ত্রণ অনুযায়ী এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

ওমানের স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানায়, এই নিয়মের জন্য প্রাথমিকভাবে মাস্কাট প্রদেশকে নির্ধারণ করা হয়েছে। এটির সফলতার উপর পরবর্তীতে অন্যান্য এলাকায় তা প্রসারিত করা হবে। প্রথম পর্যায়ে, মাস্কাটের যেসব স্থানে এই সুবিধা চালু হবে, সেইসব স্থান হল: বাউশার (১-৩), আল খুওয়ের (২), ঘালা হাইটস (১-২), ওয়াত্তায়া (১-২), মিসফা (২), আমরাত, হাশিয়া (১), মাহজ (এলাকা ১), মদিনাত আল নাহদাহ (২-৫), সিব (দক্ষিণ মাওলাহ ৫), ও আল খৌহদ (২)।

জানা গেছে কোন বহুতল বাণিজ্যিক বা আবাসিক ভবনে মোট ইউনিটের সংখ্যার সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত প্রবাসীরা কিনে নিতে পারবে। এক্ষেত্রে কোন নির্দিষ্ট জাতীয়তার নাগরিকেরা ২০ শতাংশের বেশি ইউনিট কিনতে পারবেন না।

আবেদনের ক্ষেত্রে যারা দুই বছরের বেশী সময় ওমানে আছেন তারা গ্রহণযোগ্য হবেন এবং যিনি কিনবেন তাকে অবশ্যই ২৩ বছরের বেশি বয়সী হতে হবে। প্রবাসী বা তার প্রথম শ্রেণীর আত্মীয় শুধুমাত্র একটি ইউনিটের মালিক হতে পারবেন।

নিয়মে বলা হয়েছে, মালিক ইউনিট ক্রয় করার চার বছর পর তা বিক্রি করার অনুমতি পাবেন। তার মৃত্যুর ক্ষেত্রে আইনি উত্তরাধিকারীর কাছে তা হস্তান্তর করা হবে। সম্ভাব্য ক্রেতা যে কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বন্ধকীর ভিত্তিকে আর্থিক সুবিধা নিতে পারবেন।

এক্ষেত্রে শর্তে আরও বলা হয়েছে:
১.বহুতল ভবনটি অবশ্যই চার তলা বা তার বেশি তলার হতে হবে।
২.প্রতিটি আবাসিক ইউনিটের রুম হতে হবে ন্যূনতম দুটি যেখানে শৌচাগার এবং একটি রান্নাঘরের মত সুবিধা থাকতে হবে।
৩.ভবনটির বয়স নূন্যতম চার বছর হতে হবে এবং শুধুমাত্র সম্পূর্ণ নির্মাণ কাজ শেষ হওয়া প্রকল্পগুলো প্রবাসিদের কাছে বিক্রির জন্য অনুমতি পাবে।
৪. বিক্রেতা এবং ক্রেতা উভয়কেই রেজিস্ট্রেশন ফি হিসেবে ইউনিটের মোট মূল্যের তিন শতাংশ দিতে হবে।
৫. ভোগদখলের এই চুক্তিটি ৫০ বছরের জন্য বৈধ, যা নবায়ন করা যাবে। তবে এটি সবমিলিয়ে ৯৯ বছরের বেশি হওয়া উচিত নয়।

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।