ওমানে আগামী বছরের শুরুতে প্রবর্তন হচ্ছে ‘ভ্যাট’

0

আগামী বছরের শুরু থেকে পাঁচ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আরোপ হবে ওমানে, মঙ্গলবার এমনটি জানিয়েছেন দেশটির বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রী।

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক বৈঠকে ব্লুমবার্গ টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে ওমানের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী ড. আলী বিন মাসউদ বিন আলী আল সুনাইদী বলেছেন, “ভ্যাট আনতে আমরা ২০২১ এর দিকে তাকিয়ে আছি। এটি এমন কিছু যা জনগন পছন্দ করে না, তবে এটি এমনটি যা বাস্তবায়নের আমরা চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছি। সুতরাং ২০২১ সালের শুরুর দিকে ভ্যাট আরোপ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।”

ছয় সদস্যের দেশ সম্মতি অনুযায়ী ২০১৮ সালে তিনটি জিসিসি দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব এবং বাহরাইন ভ্যাট আরোপ করেছে। বাকি তিন দেশ, ওমান, কুয়েত এবং কাতার এখনও এই শুল্ক কার্যকর করেনি। এ সারিতে যোগদানের জন্য সম্ভবত ওমান পরবর্তী জিসিসির দেশ হবে।

ইওয়াইয়ের একটি সমীক্ষা পূর্বাভাস করেছিল যে জিসিসি দেশগুলি দ্বারা ভ্যাট গ্রহণের ফলে ২৫ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত বার্ষিক আয় হবে।

সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, তেলের মূল্যের অস্থিরতায় রাজস্ব প্রভাব হ্রাস করার জন্য জিসিসি দেশগুলির জন্য নন-হাইড্রোকার্বন (পেট্রােলিয়াম শিল্প) রাজস্ব জোগাড় করা কঠিন হবে এবং কুয়েত, ওমান ও কাতারে ভ্যাট প্রবর্তনে আরও বিলম্ব করা উচিত নয়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ওমানে ভ্যাট নির্ধারণের দ্রুত কার্যক্রম চালু করারও আহ্বান জানানো হয় ঔ প্রতিবেদনে। ।

ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা না উঠলে দেশের বার্ষিক প্রবৃদ্ধির ২.৫ থেকে তিন শতাংশ অর্জনের লক্ষ্য রয়েছে উল্লেখ করে বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী বলেন “আমি মনে করি আমরা এটি করতে সক্ষম হব। ১৯৭০ এর পর থেকে ওমানের ইতিহাসের দিকে নজর দিলে দেখা যাবে, আমরা প্রায় ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি। এটি তখনই বাধাপ্রাপ্ত হয়েছিল যখন আমরা দেখলাম তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১৪ মার্কিন ডলার থেকে ২৬-২৬ মার্কিন ডলারে নেমে যেতে। এই ধাক্কা এমন বিশাল ছিল, যা আমরা সঙ্গে সঙ্গে মোকাবিলা করতে পারি নি ।”

ব্লুমবার্গ টেলিভিশনের সঙ্গে সাক্ষাত্কারে ওমানের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী  ড. আলী বিন মাসউদ বিন আলী আল সুনাইদী
ব্লুমবার্গ টেলিভিশনের সঙ্গে সাক্ষাত্কারে ওমানের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী ড. আলী বিন মাসউদ বিন আলী আল সুনাইদী

“আমরা অর্থনীতির বৈচিত্র্যকরণের দিকেও লক্ষ্য করি। সংস্কারগুলি অনিবার্য কারণে যখন তেলের দাম বিধ্বস্ত হয়েছিল, তখন আমাদের জিডিপি ৩০ বিলিয়ন ওমানি রিয়াল থেকে ২৬ বিলিয়ন রিয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিল, কিন্তু এখন এটি ৩০ বিলিয়ন রিয়ালে ফিরে এসেছে; আমাদের আবার সংস্কারে ফিরে আসতে হবে এবং যুব ও বেসরকারী খাতকে ভবিষ্যত বহন করতে সক্ষম করতে হবে, “ব্লুমবার্গ টিভিতে কথা বলার সময় বলেছিলেন মন্ত্রী।

মন্ত্রী আশা করেন যে, তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৭০ মার্কিন ডলার অতিক্রম করবে যা আঞ্চলিক অর্থনীতির জন্য সহায়ক হবে।

“অর্থনীতির পুনরুদ্ধার করা হচ্ছে ৪৬৫ এ, তবে ৭০ ডলার বেশি সুবিধাজনক হবে শুধু ওমান নয় এই অঞ্চলে আমাদের বেশিরভাগের জন্য। তবে, ৬৫ ডলার এবং এমনকি ৬০ থেকে ৬৫ ব্যারেলে আমরা পর্যটন, উত্পাদন, মৎস্য ও রসদ খাতে আরও গুরুত্বের সাথে দেখতে পারব”, তিনি যোগ করেন।

“২৬-২৭ ডলারে এক ব্যারেল মোটেই সহায়ক ছিল না এবং এখন ৬৫ ডলার খুব বেশি সহায়ক। আমরা আশা করছিলাম যে তেলের মূল্য ব্যারেল প্রতি ৭০ ডলার ছাড়িয়ে যাবে, তবে এখন আমরা ৬০ এর নিচে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছি এবং আমরা আমাদের বাজেট এভাবে চালিয়ে যাচ্ছি”, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী বলেন।

ওমানের অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনার প্রয়াসে, গত কয়েক বছরে সরকার আয়ের উত্সকে বৈচিত্র্যকরণ এবং করের রাজস্বসহ নন-হাইড্রোকার্বন আয় বাড়ানোর মনোনিবেশ দিকে করেছিল। ২০১৯ সালের প্রাথমিক বাজেটের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে যে, ২০১৯ সালের সরকারের করের আয় ২০১৮ সালের ১.৩ বিলিয়ন’র তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ১.৫ বিলিয়ন রিয়াল হয়েছে।

ওমানের ২০২০ সালের বাজেটে মোট নন-হাইড্রোকার্বন আয়ের পরিমাণ ৩ বিলিয়ন রিয়ালের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা ২০১৯ সালের বাজেটের তুলনায় ১৩ শতাংশ বেশি।

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।