ওমানের বদর আল শেহি, সমুদ্রই যার ঘর!

0

বদর আল শেহি। ওমানের একজন স্কুবা ডাইভিং প্রশিক্ষক। দেশটির মুসান্দামের প্রদেশের খাসাবে তার প্রশিক্ষণ স্কুল রয়েছে। জীবনের প্রকৃত অর্থ তিনি খুঁজে পান গভীর নীল সমুদ্রের প্রায় ২০-৩০ মিটার নিচে, যেখানে সামুদ্রিক জগতের নানান কল্পনা সব হাজার রঙের মধ্য দিয়ে জীবন্ত হয়ে ওঠে। কোভিড ১৯ মহামারিতে তার এই জীবনবোধকে জাগিয়ে রাখতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে কারণ এ সময়কে মোকাবেলায় তার কোন ব্যাক-আপ পরিকল্পনা প্রস্তুত ছিল না। তবে তিনি এখন আশা করছেন যে শীঘ্রই সতর্কতা অবলম্বন করে তার ডাইভিং জীবনে আবার ফিরে যাবেন এবং এই নতুন পরিস্থিতিতে বিকল্প পরিকল্পনায় বিপর্যয়কে সামাল দিবেন।

ওমানে করােনা পরিস্থিতির প্রার্দূভাব রোধে দুদফা লকডাউন শেষে জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও এখনও বন্ধ রয়েছে প্রাকৃতিক পর্যটনকেন্দ্র ও দর্শনীয় স্থানগুলাে। সঙ্গত কারণেই স্থবির স্কুবা ডাইভিংও!

তার প্রশিক্ষণ স্কুলে সব বয়সীদের স্কুবা ডাইভিং শেখান বদর। এছাড়াও তিনি ওমানি একটি ডুবুরি দলের প্রধান, যেটি ২০১৩ সালে বিনোদন এবং নতুন নতুন ডাইভিং এলাকা আবিস্কার করার উদ্দেশ্যে চালু করা হয়েছিল। দলটি যখনই কোন ডাইভিং অভিযানে যায় তখন মুসান্দামের সামুদ্রিক জীবন রক্ষার ব্যাপারটিকে খুব গুরুত্বের সাথে নেন। ২০১৬ সালে ডুবুরিদের এই দলটি নিজেদের মুসান্দাম ডিসকভারি ডাইভার হিসেবে নিবন্ধন করে যার সদস্য ৪৫ জন।

স্থানীয় মিডিয়াকে বদর বলেন, “আমরা শুধু ডাইভিং উপভোগ করি না, একই সাথে প্রতিটি ভ্রমণকে সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণের একটি মিশন হিসেবে বিবেচনা করি। ডাইভিং উপভোগ করা এবং পানির নিচে সবচেয়ে আকর্ষণীয় দৃশ্য দেখার পাশাপাশি আমরা সমুদ্রে ফেলা আবর্জনা পরিষ্কার করার চেষ্টা করি।”

তিনি যোগ করেন, “মাঝে মধ্যে আমরা কিছু ঝুঁকিপূর্ণ কাজও করে থাকি যেমন সমুদ্রে বিপদে পড়া বা ডুবে যাওয়া মানুষদের উদ্ধারের মত কাজ।”

লকডাউনের কারণে বদরের সকল নিয়মিত কার্যক্রম থমকে যায় যেহেতু সবাই ঘরের মধ্যে আটকা পড়ে। এতে স্কুবা ডাইভিংয়ের মত ওমানের নিয়মিত অনেক দুঃসাহসিক কর্মকাণ্ড থেমে যায়। বদরকে তাই তার ব্যবসার জন্য নতুন পরিকল্পনার ছক আঁকতে হয়। এরমধ্যে তিনি নতুন নতুন ডাইভিং সাইট নিয়ে পড়াশোনা করেন এবং একই সাথে অনলাইনে নিজের ব্যবসার জন্য মার্কেটিং অব্যাহত রাখেন। এছাড়াও তিনি ওমানের অন্যপ্রান্তে নতুন ডাইভিং স্পট আবিষ্কার করতে বের করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিলেন যদিও লকডাউনের কারণে তিনি রাজধানী মাস্কাটে আসতে না পারায় তা ভেস্তে যায়।

এই সময়টাতে তাই বদর তার পরিবারের সাথে অতিরিক্ত সময় কাটান যেটি স্বাভাবিক সময়ে তার পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “সাধারণত আমি পুরো সপ্তাহ এবং এমনকি ছুটির দিনেও খুব ব্যস্ত থাকি যার কারণে আমার পরিবারের সাথে কাটানোর জন্য খুব কম সময় পাই। আমি সারাদিন আমার দলকে গোছাতে এবং প্রশিক্ষণে ব্যস্ত থাকি। তবে এবার লকডাউনের সময় আমি আমার পরিবারের সদস্যদের সাথে কাটানোর জন্য খুব ভালো সময় পেয়েছি এবং তা ছিল বেশ উপভোগ্য। ”

তিনি জানান, এই সময়টাতে তার মন এবং শরীরকে প্রশান্ত করার পাশাপাশি অতীতে মনোনিবেশ করার করার সুযোগ পেয়েছেন। তবে এক্ষেত্রে নেতিবাচক দিক ছিল তার ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং প্রতিদিন সেটিকে আবার দাঁড় করানো নিয়ে নানা অনিশ্চয়তায় থাকা।

এই লকডাউন থেকে একটি বড় শিক্ষা নিয়েছেন জানিয়ে বদর বলেন, এই পরিস্থিতি আমাকে শিক্ষা দিয়েছে যে সবসময় আমাকে একটি বিকল্প পথ খোলা রাখতে হবে। আমি বেশ সফলভাবে আমার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালিয়েছি অথচ মহামারী এবং লকডাউনে আমার ‘প্ল্যান বি’ প্রস্তুত ছিল না।”

বদর আরও বলেন, তিনি এখন তার কর্মজীবনে নতুন নতুন পরিকল্পনার উপর মনোযোগ দিচ্ছেন যাতে আয়ের বিকল্প পথ তৈরি হয়।

সম্প্রতি বদর ডাইভিংয়ে গিয়ে বেশ বিস্মিত হয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি লক্ষ্য করেছি যে পানির নিচে সামুদ্রিক জীবন আগের থেকেও বেশ প্রানবন্ত আর সমৃদ্ধ হয়েছে। প্রবালগুলো আরো সুন্দর হয়ে উঠেছে। এর কারণ হিসেবে আমার মনে হয়েছে দীর্ঘ ২/৩ মাস ধরে সমুদ্রে মানুষের হস্তক্ষেপ বন্ধ হওয়া।

এটা আমাদের সামুদ্রিক জগতের জন্য একটি ভালো লক্ষণ এবং এটিকে সমৃদ্ধ হতে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব,” তিনি জোর দিয়ে বলেন।

বদর আরও বলেন যে, কোভিড-১৯ এর পর সকল ডাইভিং কার্যক্রমে বেশ সাবধানতা অবলম্বন করা হবে। ডাইভিং-এর আগে ডুবুরিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সকল অংশগ্রহণকারীকে একটি মেডিকেল ফর্ম পূরণ করতে হবে যেখানে উল্লেখ থাকবে যে তিনি সুস্থ এবং সংক্রামক রোগমুক্ত।

স্বাস্থ্য বিধি মানতে সকল সরঞ্জাম এবং গিয়ার পরিষ্কার করা হবে এবং প্রতিটি ডাইভের আগে এবং পরে সেগুলো পরিচ্ছন্ন ও জীবাণুমুক্ত করা হবে বলেও জানান বদর। বলেন, সবাইকে তাদের নিজস্ব সরঞ্জাম কিনতে এবং বহন করতে উৎসাহিত করা হবে যাতে তারা নিরাপদে থাকে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে শীঘ্রই সকল পর্যটন কার্যক্রম শুরু হবে এবং তার কার্যক্রম আগের অবস্থায় ফিরে আসবে।

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।