লেবাননে আরও দুই সপ্তাহ বাড়লো লকডাউন

0

লেবাননে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব রোধে দেশব্যাপী লকডাউনের মেয়াদ আগামী ১২ এপ্রিল পর্যন্ত আর দুই সপ্তাহের জন্য বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া সন্ধ্যা ৭ টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও সুপারমার্কেটগুলি বন্ধ রাখার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যাওয়া প্রেক্ষিতে দেশটির মন্ত্রিসভা এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। সবশেষ তথ্য অনুযায়ী লেবাননে করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা বর্তমান ৩৬৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এ পর্যন্ত দেশটিত ৬ জনের ছয়টি মৃত্যু হয়েছে, সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২০ জন।

বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বিশেষ অধিবেশন শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী হাসান ডিয়াবের পক্ষে তথ্যমন্ত্রী মনাল আবদেল-সামাদ বলেন,”আমরা এখনও চরম বিপদের মধ্যে রয়েছি এবং জনসমাবেশ বন্ধ রাখতে লকডাউনের সময়সীমা বাড়ানো দরকার ছিল, কারণ এই ভাইরাসটি ছড়াতে পাঁচ সপ্তাহ সময় নেয়।”

তিনি জানান, কেবল মিল, বেকারি, ফার্মাসি এবং মেডিকেল ফ্যাক্টরিগুলি ছাড়া সব প্রতিষ্ঠান সন্ধ্যা ৭ থেকে ভোর ৫ টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে এবং নাগরিক ও প্রবাসীদের রাস্তায় বের হওয়া নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী লেবানিজ এবং প্রবাসীদেরকে দেশের দরিদ্র পরিবারগুলির সহায়তায় অবদান রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বলে তথ্যমন্ত্রী জানান।

রাষ্ট্রপতি মিশেল আওন নাগরিকদের জন্য নেওয়া ব্যবস্থাগুলি বিশেষ করে হোম কোয়ারেন্টিনের প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার লেবাননের উচ্চ প্রতিরক্ষা কাউন্সিল বৈঠক করে এবং লকডাউনটি বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। কাউন্সিল এ পর্যন্ত যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, তার ফলাফলগুলি নিয়ে আলোচনা করে। লকডাউন ব্যবস্থার আলোকে ভাইরাসের বিস্তার ও অবনতিজনিত অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার বিরুদ্ধে কী কী অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত তাও নিয়েও চিন্তাভাবনা করা হয়।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী হাসান ডিয়াব, একাধিক মন্ত্রী, সেনাপ্রধান জেনারেল জোসেফ আওন এবং নিরাপত্তা ও সামরিক বাহিনীর প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বুধবার থেকে ৩২ টির বেশি করেনা আক্রান্ত রোগী রেকর্ড করা হয়েছে এবং দু’জনের মৃত্যু হয়েছে।

সবশেষ মারা যাওয়া ২ জন রোগী আগ থেকেই নানা অসুখে ভুগছিলেন। এদের মধ্যেপঞ্চাশ বছরের একজন বৈরুতের রফিক হারিরি বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে এবং ৭০ বছর বয়েসী দ্বিতীয় রোগী ইসবেলের নটরডেম ডি সিকোর্স হাসপাতালে ছিলেন চিকিৎসাধীন ছিলেন ।

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

Loading...