যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মা-বাবা-বোন-নানিকে হত্যার পর দু’ভাইয়ের আত্মহত্যা

0

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের অ্যালেন শহরে বসবাসরত বাংলাদেশি একটি পরিবারের ছয় সদস্যের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মা, বাবা, বোন ও নানিকে হত্যার পর ওই পরিবারের দুই সন্তান আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। দুই ভাই ‘সুইসাইড নোট’ রেখে গেছেন। এই নোট থেকে মনে করা হচ্ছে, তাঁরা হতাশায় ভুগছিলেন। পরিবারকে লজ্জা ও কষ্ট থকে মুক্তি দেওয়ার জন্য দুই ভাই সবাইকে হত্যা করে নিজেরা আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন বলে সুইসাইড নোটে উল্লেখ রয়েছে। পুলিশ এ নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে।

মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন ১৯ বছর বয়সী যমজ ভাই-বোন ফারহান তৌহিদ ও ফারবিন তৌহিদ, বড় ভাই তানভীর তৌহিদ (২১), মা আইরিন ইসলাম (৫৬), বাবা তৌহিদুল ইসলাম (৫৪), তানভীর তৌহিদের নানি আলতাফুন্নেসা (৭৭)।

জানা গেছে, ওই পরিবারের এক বন্ধু তাঁদের ফোন করে পাচ্ছিলেন না। এরপর তিনি পুলিশে খবর দেন। স্থানীয় সময় রোববার মধ্যরাত একটার দিকে নগরীর পাইন ব্লাফ ড্রাইভ এলাকার বাড়িটিদে প্রবেশ করে অ্যালেন পুলিশ ওই ঘরে ছয়জনের লাশ উদ্ধার করে। পুলিশ জানিয়েছে, বন্দুকের গুলিতে ছয়জন মারা গেছেন। বাড়িটি থেকে বন্দুকও উদ্ধার করেছে পুলিশ। ২২ বছর বয়সী তানভীর তৌহিদ আইনসম্মতভাবে সম্প্রতি আগ্নেয়াস্ত্র ক্রয় করেছিলেন।

পুলিশ জানিয়েছে, দুই ভাই চারজনকে হত্যার পর নিজেরা আত্মহত্যা করেছেন বলে মনে হচ্ছে। মানসিক বিষণ্নতা থেকে মুক্তি পেতে তাঁরা এই কাজ করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা পাওয়া গেছে। ঘটনার আগে ফারহান তৌহিদ ইনস্টাগ্রামে একটি দীর্ঘ ‘সুইসাইড নোট’ পোস্ট লিখেছিলেন, ‘আমি নিজেকে ও আমার পরিবারকে হত্যা করেছি।’ ফারহান আরও লিখেছেন কীভাবে তিনি নবম শ্রেণি থেকে মানসিক হতাশার বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। তাঁর বড় ভাইও হতাশার সঙ্গে লড়াই করেছেন। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইনস্টাগ্রাম পোস্টে ফারহান লেখেন, তাঁর ভাই বলেছেন, ‘আমরা যদি এক বছরে সবকিছু ঠিক করতে না পারি, তবে আমরা নিজেদের ও পরিবারকে হত্যা করব।’

নিজেরা আত্মহত্যা করলে পরিবার লজ্জায় পড়বে। তাই লজ্জা ও কষ্ট থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য অন্যদের হত্যা করে নিজেদের আত্মহত্যার কথা সুইসাইড নোটে উল্লেখ রয়েছে বলে পুলিশের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে। সুইসাইড নোটে হত্যার পরিকল্পনার কথাও লেখা আছে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গত শনিবার কোনো এক সময় মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ এ ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি। মেডিকেল পরীক্ষার পর এ বিষয়ে জানা যাবে বলে নগরীর পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

মরদেহ উদ্ধারকারী অ্যালেন পুলিশের সার্জেন্ট জন ফেলটিকে বলেছেন, তিনি ২১ বছর ধরে শহরটিতে আছেন। এমন দুঃখজনক ঘটনার মুখোমুখি তিনি আগে কখনো হননি। পুরো ঘটনাকে মর্মান্তিক বলে উল্লেখ করেছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

টেক্সাসে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা , সব সময় হাসিখুশি থাকা পরিবারটিতে এমন কোনো ঘটনা ঘটতে পারে বলে বিশ্বাস করতে পারছেন না। বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য ঘটনাটি মর্মান্তিক বলে তারা উল্লেখ করেন।

মর্মান্তিক ঘটনার শিকার বাংলাদেশি পরিবারটির কোনো নিকটাত্মীয় আশপাশে না থাকায় বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ টেক্সাস লাশ দাফনের ব্যবস্থা করছে। অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট হাশমত মোবীন মিডিয়াকে জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের পর মরদেহ স্থানীয় কবরস্থানে দাফনের জন্য তাঁরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে স্থানীয় সময় আগামীকাল বুধবার ছয়জনের জানাজার পর দাফন হতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।

হাশমত মোবীন জানান, প্রায় ২২ বছর আগে ডিভি ভিসায় তৌহিদুল ইসলাম আমেরিকায় আসেন। তৌহিদুল ইসলামের জন্ম ও বেড়ে ওঠা পুরান ঢাকায়। পরিবার নিয়ে প্রথম দুই বছর নিউইয়র্কে ছিলেন। ২০ বছর আগে তাঁরা টেক্সাসে স্থানান্তর হন। প্রথমে তথ্যপ্রযুক্তিতে কাজ করলেও সম্প্রতি সিটি ব্যাংকের ভালো পদে কাজ করছিলেন তৌহিদুল।

হাশমত মোবীন জানান, নিহত আইরিনের এক ভাই নিউইয়র্কে থাকেন। দুঃসংবাদ পেয়ে তিনি টেক্সাসের পথে রওনা দিয়েছেন। একইভাবে মায়ামিতে বসবাসরত তৌহিদুল ইসলামের ভাইও টেক্সাসের পথে রয়েছেন।

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন