কোরিয়াকে আস্থায় আনতে পারলেই খুলে যাবে ইপিএস দ্বার

0

অনাকাঙ্খিত কোন ভুল হলে বা কিছু ঘটে গেলে তার জন্য অনুশোচনা থাকা উচিত। একই সাথে কেন এমনটি ঘটলো তার প্রকৃত কারণ খুজে বের করা উচিত। যদি প্রকৃত কারণ খুজে বের করতে ব্যর্থ হয় তাহলে পরবর্তীতে আরো বড় আকারে অনাকাঙ্খিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে থাকে।

এভাবে বার বার ঘটতে ঘটতে একটা মানুষকে, একটা পরিবারকে, একটা গোষ্ঠীকে, এমনকি একটা দেশকে-জাতিকে অনেক পিছনে ফেলে দেয়, পঙ্গু করেও দিতে পারে। শুধু কারণ উৎঘাটন করলেই হবে না, এমন ঘটনা শুধু নয় এর আনুষঙ্গিক এবং ঘটে যাওয়া ঘটনায় অর্জিত অভিজ্ঞতার আলোকে অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটতে পারার সম্ভাব্য সকল ক্ষেত্র চিহ্নিত করে বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করা, যাতে অনাকাঙ্খিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

আর যাঁর বা যাঁদের ভুল বা অজ্ঞতার কারণে অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটে যায় তাঁর বা তাঁদের আন্তরিক অনুশোচনা থাকা দরকার। এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিশাল ঘাটতি দেখা যায়। যে কারণে বাংলাদেশে অনাকাঙ্খিত ঘটনা বেশি ঘটে থাকে। অনাকাঙ্খিত ঘটনার জন্য অনুশোচনা থাকাটাই স্বাভাবিক। আর যদি সেটা ইচ্ছার কৃত বা পরিকল্পিত হয় সেখানে অনুশোচনা বালাইও থাকার কথা নয়।

বাংলাদেশ থেকে কোরিয়াতে চাটার্ড ফ্লাইটের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস বহনকারী ঘঠনা যদি অনাকাঙ্খিত হয় তবে সেজন্য অনুশুচণার প্রকাশ করা উচিত এবং সে অনুশুচণার কোরিয়ান অথরিটি যেন জানতে পারেন। দ্বিতীয়ত, প্রকৃত কারণ উৎঘাটন করে ব্যবস্থা নেওয়া যেটা কোরিয়ান অথরিটি যানবেন। তৃতীয়ত, বাংলাদেশ থেকে আর একজনও করোনা-১৯ পজিটিভ লোক কোরিয়াতে প্রবেশ করবে না সেটা কোরিয়ান অথরিটিকে বিশ্বাস করানো। এই বিশ্বাস অর্জন মুখের কথা বা কাগজে লেখায় সম্ভব নয়, বাংলাদেশকে সম্ভাব্য দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

আগের খবর : দক্ষিণ কোরিয়ায় ইপিএস কর্মী, বঞ্চিত হল বাংলাদেশ!

যেমন: কি ভাবে তাঁরা করোনা-১৯ মুক্ত লোক বাংলাদেশ থেকে ফ্লাই করবেন গৃহীত সে পদক্ষেপ গুলো জানাতে হবে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়- যিনি ফ্লাই করবেন তিনি ফ্লাই করার তিন সপ্তাহ আগের থেকে সঠিক ভাবে সেল্ফ আইসোলেশনে থেকে সেল্ফ আইসোলেশনের চৌদ্দ দিন পার হওয়ার পর নির্ধারিত নির্ভরযোগ্য হাসপাতাল থেকে টেস্ট করিয়ে নেগেটিভ পেলেই ফ্লাই করার সুযোগ দেওয়া অন্যথায় নয়। কোরিয়া প্রবেশ করে করোনা টেস্টে পজিটিভ পাওয়া গেলে বাংলাদেশ থেকে টেস্ট করানো প্রতিষ্ঠানের দায়বদ্ধতা থাকবে।

কোরিয়ান অথরিটির বাংলাদেশিদের ভিসা স্থগিতাদেশের সমালোচনা না করে (সমালোচনায় হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনা) উল্লেখিত পরামর্শগুলি যত দ্রুত সম্ভব কাজে লাগিয়ে পদক্ষেপ গুলো কার্যকরী করে কোরিয়ান অথরিটিরকে জানালে বাংলাদেশ আবারও দৃষ্টান্ত হতে পারেন। যেমনটি হয়েছিলেন অবৈধ ও কাজ পরিবর্তন প্রতিরোধে বাংলাদেশ জরিমানা ঘোষণা দিয়ে।

তৎকালীন ‘মাননীয়’ কোরিয়ায় এসে হাতেতালি ও বাহবা পেয়েছিলেন, আমি পাইনি। এবারও অনেকে সেই জুতা আবিষ্কারের মত বলবেন, “আমারও ছিল মনে”। তবু অভিজ্ঞতার কথা জানালাম। কোরিয়ানরা এটা পছন্দ করেন। এমনটা দেখলে স্থগিতাদেশের সংকীর্ণ হওয়ার সম্ভবনা আছে। সংশ্লিষ্ট কোরিয়ান বিজ্ঞজনদের অভিমত তাই।

আগের খবর : দক্ষিণ কোরিয়ায় স্ট্রোকে ইপিএস কর্মীর মৃত্যু

বাংলাদেশিদের কোরিয়ান ভিসা স্থগিতাদেশের পর আমি যে লেখাগুলো লিখেছি তা কাউকে আক্রমন বা হেয় করার জন্য নয়। এই পরিস্থিতি দ্রুত কাটিয়ে ওঠার জন্য রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ প্রয়োজন সেটা যাতে দ্রুত হয় সেই জন্য। সময়ে সময়ের কাজ না করতে পারলে দৃষ্টান্তমূলক ফল পাওয়া যায় না। বাংলাদেশ দৃষ্টান্তমূলক সুফল পাওয়ার অধীর প্রত্যাশা রইলো।

লেখক: অভিবাসন বিশেষজ্ঞ, সমাজ সেবক, সভাপতি- জিএএসকে।

কোরিয়ার শ্রম বাজার কোন পথে,বন্ধ হলো ভিসা ও ফ্লাইট

বাংলাদেশিদের ভিসা-ফ্লাইট নিষিদ্ধ করছে দক্ষিণ কোরিয়া

Posted by AkashJatra on Sunday, June 21, 2020

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

Loading...