কুকুর দিয়ে করোনা রোগী শনাক্ত, ফ্রান্সের সফলতা

0

ফ্রান্সের একদল গবেষক বের করেছেন কোভিড-১৯ নির্ণয়ে একটি বড় মাধ্যম হতে পারে কুকুর। টেস্ট কিটের বিকল্প হিসেবে তারা গবেষণায় বের করেছেন প্রশিক্ষিত কুকুরের পক্ষে মানব শরীরে করোনার উপস্থিতি শনাক্ত করা সম্ভব।

প্যারিসের অদূরে ন্যাশনাল ভেটেরিনারি স্কুল অফ আলফোর্টের গবেষকরা করোনাভাইরাস সংক্রামিত লোকদের শনাক্ত করতে আটটি বেলজিয়াম মালিনোয়াই রাখাল কুকুরকে প্রশিক্ষণ দিয়ে এই সফলতা পান। দেখা গেছে ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রে এই কুকুরগুলো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে পারছে।

এছাড়াও প্রশিক্ষিত জার্মান শেফার্ডদের দিয়ে কোনিড -১৯-এর পরীক্ষায় ৯৫% সাফল্যে মাইসনস-অ্যালফোর্টের (ভ্যাল-ডি-মার্ন) ভেটেরিনারি স্কুলে। কয়েক সপ্তাহ ধরে পরীক্ষা চালিয়ে সেখানকার গবেষকরা বলেছেন যে, তাদের জার্মান শেফার্ডরা করোনভাইরাস শনাক্ত করতে পুরেপুরি সক্ষম।

কেইপ টাইমসের প্রতিবেদনের সূত্রে জানা গেছে, গবেষকরা ৩৬০ জনেরও বেশী ব্যাক্তির বগলের গন্ধকে নমুনা হিসেবে ব্যবহার করেছে। এই নমুনার ঘ্রাণ দিয়ে প্রশিক্ষিত কুকুরগুলো বলে দিতে পেরেছে কারা ভাইরাসে আক্রান্ত আর কারা নয়।

গবেষণাপত্রে গবেষকরা জানিয়েছেন, কুকুরগুলোর এই ঘ্রাণ নেয়া পদ্ধতি একটি সাশ্রয়ী, দ্রুত এবং নির্ভরযোগ্য করোনা সনাক্তের মাধ্যম। যেসব ব্যক্তি করোনার প্রাক-পরীক্ষা করতে ইচ্ছুক এবং যাদের জরুরি ভিত্তিতে করোনা সনাক্তের প্রয়োজন তাদের জন্য এটি দ্রুত পরীক্ষা করার বিকল্প হতে পারে।

গবেষণাপত্রে বলা হয়, এই ধরনের পদ্ধতির প্রথম ধাপ ছিল যে আমরা যে নমুনা (বগলের ঘাম) বেছে নিয়েছি তা কুকুররা কোভিড-১৯ আক্রান্ত আর সুস্থ ব্যক্তিদের আলাদা করতে পারে কিনা।“

“এই প্রুফ-অফ-কনসেপ্ট স্টাডি বা ধারণার প্রমাণ করতে গবেষণাটি সফল হয়েছে এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের এক্সিলারি ঘাম আলাদা করে প্রশিক্ষিত কুকুর দ্বারা সনাক্ত করা সক্ষম হয়েছে”, গবেষণাপত্রে বলা হয়।

গবেষকরা জানান, আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ হচ্ছে এই প্রুফ-অফ-কনসেপ্ট স্টাডির একটি গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করা এবং এক্ষেত্রে একই কুকুরগুলোর রোগ নির্ণয়ের সংবেদনশীলতা এবং সুনির্দিষ্টতা বের করার চেষ্টা চালানো হবে।

গবেষণয় দেখা গেছে যারা সত্যিকারভাবে ইতিবাচক তাদের গন্ধে কুকুরটি বসে গিয়ে প্রতিক্রিয়া জানায়। মিথ্যে পজেটিভের ক্ষেত্রে কুকুটি টার্গেট ফেলে অন্য দিকে লক্ষ্য করে। মিথ্যা নেতিবাচকের ক্ষেত্রে কুকুরটি প্রশিক্ষণের সতর্ক করার উপায় ভুলে যায় এবং সত্যিকারের নেতিবাচক ব্যাক্তির ক্ষেত্রে কুকুরটি কোন সতর্কতা প্রদান করে না।

গবেষণার সময় কুকুরগুলোর আচরণ ও শোঁকার ধরণ আরো নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করতে তা ভিডিওতে ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে প্রতিটি পরীক্ষার সময়কাল নির্ধারণ করতে পেরেছেন গবেষকরা।

গবেষকরা বলেন যে, কুকুরদের এভাবে ব্যবহারের বিষয়টি নতুন নয়। ১৯৮৯ সালে একটি ম্যালিগন্যান্ট টিউমার সনাক্তে এভাবে কুকুরদের ব্যবহার করা হয়েছিল। এই ভাইরাস সনাক্তে তারা তিন ধরনের শনাক্তকরণ কুকুর ব্যবহার করছে – বিস্ফোরক শনাক্তকারী কুকুর, অনুসন্ধান এবং উদ্ধার কুকুর এবং কোলন ক্যান্সার-শনাক্তকরণ কুকুর।

এদিকে বিবিসি জানিয়েছে, চলতি বছরেই যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানিরাও প্রশিক্ষিত কুকুর দিয়ে করোনা রোগী শনাক্তের জন্য গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। সে ক্ষেত্রে করোনা রোগীর নমুনা এবং সাধারণ মানুষের নমুনার পার্থক্য প্রথমে কুকুরকে তারা বুঝিয়ে দিচ্ছেন। এরপর কুকুরের সাহায্যে করোনা রোগী চিহ্নিতের চেষ্টা করে যাচ্ছেন তারাও।

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

Loading...