ওমানে বেশিরভাগ ব্যবসায়ে ১০০% মালিক হতে পারবে প্রবাসীরা

আরবাব ছাড়াই ব্যবসা, নতুন আইন পাস

0

অল্প কিছু বাণিজ্য এবং সেবা খাত ছাড়া ওমানের বেশিরভাগ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে ১০০% (শতভাগ) বিদেশি মালিকানা এখন আর স্বপ্ন নয়, বাস্তব। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পাশ হওয়া ওমান সরকারের নতুন বিদেশি মুলধন বিনিয়োগ আইনের আওতায় এখন থেকে তা সম্ভব হবে। বিদেশি বা প্রবাসীরা এখন ওমানি মালিক (আরবাব) ছাড়াই সুলতানাতে ব্যবসা করতে পারবেন।

ইনভেস্টমেন্ট ইনসাইডার বলছে, দেশটির বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রনালয় আগের কঠোর অবস্থান থেকে সরে এসে নতুন আইনে শেয়ার মূলধনের জন্য কোন নূন্যতম মাত্রা বা সংখ্যা বাধ্যতামূলক করা হয়নি। এতে বিদেশি বা প্রবাসীরদের ওমানে বিনিয়োগ বা ব্যবসা-বানিজ্য অনেক সহজ হয়ে যাবে।

বাণিজ্য ও মন্ত্রনালয় (“এমওসিআই”) রয়্যাল ডিক্রি নং: ৫০/২০১৯ দ্বারা প্রচারিত এই নতুন বিদেশী মূলধনী বিনিয়োগ আইন (এফসিআইএল) কার্যকর করেছে, যা চলতি বছরেরর ২ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে। আইনটির মাধ্যমে ওমানের বৈদেশিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য প্রবিধান এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া পরিবর্তন করা হয়েছে।

এখন যে কোন কোম্পানির এক বা একাধিক বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের জন্য নূন্যতম শেয়ার মূলধন ৩ লাখ ৯০ হাজার ডলারের নীতিটি শিথিল করা হয়েছে। তবে ১০০% বিদেশি মালিকানা কোম্পানি নিবন্ধনের জন্য ফি আগের তুলনায় বেশি ধরা হয়েছে। এক্ষেত্রে নূন্যতম ৩ হাজার ৫০০ ওমান রিয়াল বা ৭,৮০০ ডলার দিয়ে নিবন্ধন করার বিধান রাখা হয়েছে যা নতুন কোম্পানির প্রস্তাবিত শেয়ার মূলধনের উপর নির্ভর করে বৃদ্ধি পাবে।

ওমানের কর্পোরেট আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, “মন্ত্রনালয় তাদের এই নতুন আইনের মাধ্যমে ওমানকে একটি বিনিয়োগ-বান্ধব ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে এসেছে। এটি দেশটির অর্থনীতির আধুনিকীকরণের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। এই আইনের মাধ্যমে ওমানে বিদেশি যে কোন প্রতিষ্ঠানে এখন শতভাগ মালিকানার অনুমতি পাচ্ছে।“ কর্পোরেট আইনের বিশেষজ্ঞ, কর্পোরেট বিভাগের প্রধান অলিভার স্টিভেনস (চিত্রযুক্ত) বলেছেন।

যেসব ব্যবসায়ে প্রবাসীরা ১০০% মালিকানা পাবেন না তাতে আছে ৩৭ ধরনের সেবা ও বাণিজ্য খাত। এসব খাতের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, অনুবাদ এবং ফটোকপি পরিষেবা, টেইলারিং, লন্ড্রি, যানবাহন এবং মোটরগাড়ি মেরামত, পানীয় জলের পরিবহন এবং বিক্রয়, জনশক্তি এবং নিয়োগ পরিষেবা, হেয়ারড্রেসিং এবং সেলুন, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী এবং এতিমদের জন্য ট্যাক্সি অপারেশন, ফিশিং এবং পুনর্বাসন ঘর।

তবে এই ব্যান্ড লিস্টে রেস্তোঁরা কেন্দ্রিক ব্যবসা রাখা হয়নি, যা প্রবাসীদের জন্য বড় একটা সুযোগ বয়ে আনবে।

এইসব খাত গুরুত্বপূর্ণ হলেও ওমানি অর্থনীতিতে অপেক্ষাকৃত ছোট অংশের প্রতিনিধিত্ব করে। তবে, নতুন রয়্যাল ডিক্রি ৫০/২০১৯ (এফসিআইএল) দ্বারা প্রবর্তিত নতুন আইনটি খুলে দিয়েছে বিদেশি বিনিয়োগের নতুন দুয়ার। উন্মুক্ত করেছে প্রবাসীদের জন্য নতুন সম্ভাবনা, অভিমত কর্পোরেট বিশেষজ্ঞদের।

তাদের মতে,”ব্যান্ড বা ব্ল্যাকলিস্টে যে ৩৭ খাত আছে সেগুলোর মধ্যে প্রতিরক্ষা, তেল-গ্যাস এবং রেস্তোঁরা কেন্দ্রিক ব্যবসাগুলোকে রাখা হয়নি। যদিও পূর্বে এসব খাতগুলোতে ওমানি মালিকানার শর্ত ছিল এখন তা শিথিল হয়েছে।

ওমানের বৈদেশিক বিনিয়োগের নতুন এই ধারার প্রবণতার উপর গুরুত্ব দিয়ে কর্পোরেট ব্যক্তিত্ব অলিভার স্টিভেনস উল্লেখ করেছেন কর্পোরেট ব্যক্তিত্ব অলিভার । তিনি দৈনিক পত্রিকা ওমান অবজারভারক বলেছেন, নতুন এই আইন বিদেশী বিনিয়োগকারিদের কাছে দেশের অর্থনীতিকে আরও উন্মুক্ত করেছে।

“যারা এখানে ব্যবসা করার আগ্রহ পোষণ করবে তাদেরকে এই আইন স্বাগত জানিয়েছে, যার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ কাঠামোতে বিদেশি বাণিজ্যে ওমানি বাজারকে আরও শক্তিশালী অবস্থানে যাবে। আমরা বিশ্বাস করি যে ওমানের বৈদেশিক বিনিয়োগের সার্বিক চিত্র একটি বিপ্লব ঘটে গেছে,” যোগ করেন তিনি।

এই বছরের শেষের দিকে নির্বাহী বিধিমালা জারি করা হলে নতুন এই আইনের সুনির্দিষ্ট বিধানেগুলো আরো পরিস্কার করে বোঝা যাবে বলেও জানান স্টিভেনস।

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

Loading...