অনুসমর্থনকারী বাংলাদেশকে স্বাগত জানিয়েছে আন্তর্জাতিক ভ্যাকসিন ইনস্টিটিউট

দক্ষিণ কোরিয়ায়

0

প্রতিষ্ঠা চুক্তির অনু সমর্থনের মাধ্যমে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক যোগদানকে স্বাগত ও সম্মান জানিয়েছে কোরিয়া ভিত্তিক আন্তর্জাতিক ভ্যাকসিন ইনস্টিটিউট (আইভিআই)।

১৫ জুলাই (বৃহস্পতিবার) রাজধানী সিউলে আইভিআই-এর সদর দফতরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯ তম দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বাগত জানায়।

এ ছাড়া আইভিআই-এর মৌখিক কলেরা ভ্যাকসিনের আভ্যন্তরীণ বিকাশ এবং বিতরণসহ ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে অংশীদারদের সঙ্গে ভ্যাকসিন গবেষণা এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ, বিশ্ব জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জনকেও এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্মরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম। এ সময় দক্ষিণ কোরিয়ারও জাতীয় সংগীত বাজানো হয়।

অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক বাংলাদেশ ও আইভিআই-এর মধ্যকার সহযোগিতামূলক কর্মকাণ্ড বিশেষতঃ কলেরা, শিগেলা, অ্যান্টি-মাইক্রোবায়াল জাতীয় রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম তুলে ধরেন।

তিনি প্রত্যাশা করেন, এই সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশ ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে এবং বৈশ্বিক বাজারের জন্য স্থানীয়ভাবে বাংলাদেশেই ভ্যাকসিন তৈরি করতে সক্ষম হবে।

ভিডিও বার্তায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক সদস্যপদ প্রাপ্তিতে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সমর্থন, বাংলাদেশে ভ্যাকসিন গবেষণা ও উন্নয়ন, ভ্যাকসিন প্রযুক্তি হস্তান্তর, বাংলাদেশের গবেষক ও চিকিৎসকদের সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সহযোগিতা প্রদানের জন্য আইভিআইকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি প্রত্যাশা করেন, সদস্য দেশ হিসেবে নতুন ভূমিকা আগামীতে বাংলাদেশ ও আইভিআই-এর মধ্যেকার সহযোগিতার সম্পর্ককে আরো বিস্তৃত ও সুদৃঢ় করবে।অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তায়  স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে আইভিআই-এর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান George Bickerstaff আইভিআই প্রতিষ্ঠা-চুক্তির প্রথম পর্যায়ের স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর অন্যতম বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক সদস্য প্রাপ্তিতে স্বাগত জানান।

তিনি বলেন, আইভিআই-তে বাংলাদেশের সদস্যপদ লাভ জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে জরুরী চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবেলায় সহায়ক হবে এবং সহযোগিতার সম্পর্ককে আরো বিস্তৃত করবে।

আইভিআই-এর মহাপরিচালক ড. জেরোম কিম (Dr. Jerome Kim) বিশ্ব জনস্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ, কার্যকর ও সাশ্রয়ী মূল্যের ভ্যাকসিন আবিষ্কার, বিকাশ এবং বিতরণে আইভিআই-এর কার্যক্রম ও চলমান প্রকল্প এবং বাংলাদেশের সঙ্গে আইভিআই-এর সম্পর্ককে তুলে ধরে একটি বিশদ ও তথ্যমূলক উপস্থাপনা প্রদান করেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সংস্থা ব্যুরোর মহাপরিচালক চ্যাংগ হুক-জিন (Chang Wook-jin) তাঁর বক্তব্যে সংক্রামক ব্যাধিমুক্ত বিশ্ব গঠন-বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আইভিআই-এর সদস্য দেশ হিসেবে যোগদানের জন্য বাংলাদেশকে স্বাগত জানান।

তিনি দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক ফোরামে ইতিবাচক প্রচারণার মাধ্যমে আইভিআই-এর বিকাশে কোরিয়ার সরকারের দৃঢ় সমর্থনের কথা ব্যক্ত করেন।

তিনি প্রত্যাশা করেন, দক্ষিণ কোরিয়া এবং বাংলাদেশ যৌথভাবে আইভিআই-এর গঠনমূলক কার্যক্রমকে ভবিষ্যতে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে এবং বিশ্বব্যাপী সুস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠায় সহযোগী হবে।

আইসিডিডিআর,বি-এর নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ কলেরা ভ্যাকসিনসহ বিভিন্ন ধরণের ভ্যাকসিন তৈরির ক্ষেত্রে আইভিআই, আইসিডিডিআর, বি এবং বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে সহযোগিতামূলক কর্মসূচীর কথা তুলে ধরেন।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এরূপ সহযোগিতার সম্পর্ক ভবিষ্যতে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনসহ অন্যান্য রোগের ভ্যাকসিন তৈরিতে এবং ভাইরাসজনিত মহামারি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম বলেন, আইভিআই-এর সদস্য দেশ হিসেবে বাংলাদেশ রোগমুক্ত বিশ্ব নিশ্চিতকরনে আইভিআই-এর কর্মসূচীকে পূর্ণ সমর্থন প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে উন্নততর গবেষণা, ক্লিনিকাল বিকাশ এবং সাশ্রয়ী মূল্যের ভ্যাকসিন তৈরির পথ সুগম করবে এবং বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশকে মানবতার বৃহত্তর কল্যাণে অবদান রাখতে সহায়তা করবে।

ইনসেপ্টা ভ্যাকসিন লিমিটেডের চেয়ারম্যান আবদুল মুক্তাদির বলেন, আইভিআই এবং আইসিডিডিআর, বি-এর সার্বিক সহযোগিতা বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরণের ভ্যাকসিন তৈরিতে ইনসেপ্টাকে সক্ষমতা প্রদান করেছে।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আইভিআই, বাংলাদেশের ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং আইসিডিডিআরবি-এর মধ্যে যৌথ সহযোগিতার সম্পর্ক উত্তরোত্তর বৃদ্ধি করা হলে তা আগামীতে বিভিন্ন ধরনের ভ্যাকসিন তৈরি ও উৎপাদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

অনলাইনে অনুষ্ঠানে দক্ষিণ কোরিয়ায় নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত Sripriya Ranganathan তাঁর বক্তব্যে ভারত ও আইভিআই-এর মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী সহযোগিতামূলক সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। আইভিআই-এ বাংলাদেশের এই সদস্য পদ প্রাপ্তিতে তিনি বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানান এবং বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য সহযোগিতার অগ্রগতি সাধনে বাংলাদেশের সাথে তাঁর সরকারের ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

দক্ষিণ কোরিয়ায় সুইডেন দূতাবাসের চার্জ দ্য’আফেয়ার্স Gabriella Auhustsson এবং সিউলস্থ ফিনল্যান্ড দূতাবাসের সহকারী মিশন প্রধান Mika Ruotsalainenm সংক্রামক রোগের জন্য ভ্যাকসিন তৈরি ও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের ক্ষেত্রে স্ব স্ব দেশের সহযোগিতামূলক কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেন।

তাঁরা আইভিআই-এ আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের জন্য এবং সদস্য দেশ হিসেবে স্বীকৃতি লাভের জন্য বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানান এবং বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে একযোগে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

প্রসঙ্গতঃ, বাংলাদেশ ১৯৯৬ সালের ২৮ অক্টোবর আন্তর্জাতিক ভ্যাকসিন ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা চুক্তি স্বাক্ষর করে। চলতি বছরের ২১ শে মার্চ চুক্তিটি অনুসমর্থন করে এবং ৫ এপ্রিল জাতিসংঘ চুক্তির অনুসমর্থন প্রাপ্তির প্রজ্ঞাপন জারি করে। বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তিটি গত ১ মে থেকে কার্যকর হয়।

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন