সৌদি ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান
সৌদি আরবের জেদ্দা ওয়ার্ল্ড ট্রেড এক্সপো ২০২৫-এ পণ্য প্রদর্শনীর পাশাপাশি বিটুবি (Business-to-Business) ম্যাচমেকিংয়ের মাধ্যমে সৌদি ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেমিনারের আয়োজন করে জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কন্স্যুলেট জেনারেল।
সেমিনারের প্রতিপাদ্য ছিল — “Bangladesh–Saudi Arabia Trade & Investment Partnership: Unlocking New Opportunities”। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কন্স্যুলেটের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর সৈয়দা নাহিদা হাবিবা ।
শ্রম কাউন্সেলর মোহাম্মদ আরিফুজ্জামানের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন কাউন্সেলর (কনসাল) এ এস এম সায়েম, সৌদি ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারী, প্রবাসী বাংলাদেশি উদ্যোক্তা, বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা ।
বক্তারা বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের অগ্রগতি তুলে ধরেন। পাশাপাশি সৌদি ভিশন ২০৩০ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ কীভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে— সে বিষয়ে আলোচনা করা হয়। 
বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণের পাশাপাশি সৌদি ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়।
বাংলাদেশের অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন রপ্তানিযোগ্য পণ্য সৌদি ব্যবসায়ীদের সামনে উপস্থাপন করে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, স্পোর্টসওয়্যার, পাট ও নানা ধরনের পাটজাত পণ্য, হস্তশিল্প এবং প্লাস্টিক পণ্য নিয়ে সৌদি উদ্যোক্তারা আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং সম্ভাব্য ব্যবসায়িক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সেমিনার শেষে আমন্ত্রিত অতিথিরা বাংলাদেশের স্টলগুলো পরিদর্শন করেন এবং পণ্যের মান ও বৈচিত্র্যের প্রশংসা করেন।
প্রসঙ্গতঃ ২৬ থেকে ২৮ নভেম্বর জেদ্দা ইন্টারন্যাশনাল এক্সিবিশন অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক মেলার আয়োজক ছিল সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠান আইকন ইন্টারন্যাশনাল ফর এক্সিবিশন অ্যান্ড কনফারেন্স। স্বাগতিক দেশ সৌদি আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে বাংলাদেশও এ মেলায় অংশ নেয়।
বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ইপিবি (EPB) ও জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ কন্স্যুলেটের তত্ত্বাবধানে ১১টি কোম্পানি এ প্রদর্শনীতে অংশ নেয়, যা বাংলাদেশের রপ্তানি সম্ভাবনা ও ব্যবসায়িক শক্তিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুনভাবে তুলে ধরেছে।
এই আয়োজন বাংলাদেশ–সৌদি অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল করবে এবং নতুন বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের পথ সুগম করবে বলে আশা রাখেন সংশ্লিষ্টরা।


