সৌদি থেকে ফিরলেন আরও ১২৫ বাংলাদেশি রেমিট্যান্সযোদ্ধা

0

দুই বছর সেলুনে কাজ করেছেন কুমিল্লার নন্দন কুমার। কাজের অনুমতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নিয়োগকর্তা কফিলকে সাড়ে ছয় হাজার রিয়াল দিয়েছিলেন। কিন্তু অনুমতির মেয়াদ আর বাড়েনি তাঁর। পুলিশের হাতে নন্দন গ্রেপ্তার হলে কফিলকে ফোন করেন তিনি। কিন্তু কফিল আর নন্দনের দায়িত্ব নেননি। এতে তাঁকেও শূন্য হাতে দেশে ফিরতে হলো।

তেমনি নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজারের আফজাল (২৬) মাত্র আড়াই মাস আগে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা খরচ করে সৌদি আরব গিয়েছিলেন। একদিন ঘর থেকে বেরিয়েছিলেন বাজার করার জন্য, কিন্তু পথ থেকে ধরে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয় তাঁকে, যদিও আকামা বা কাজের অনুমতি ছিল তাঁর।

নন্দন কুমার ও আফজালের মতো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কামরুল ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা খরচ করে আড়াই মাস আগে সৌদি আরব গিয়েছিলেন। তাঁকেও দেশে ফিরতে হলো শূন্য হাতে।

এরাসহ আরও ১২৫ বাংলাদেশি রেমিট্যান্সযোদ্ধা একেবারে খালি হাতেই সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন। শুক্রবার (২২ নভেম্বর) রাত ১১টা ২০ মিনিটে সৌদিয়া এয়ারলাইনসের এসভি ৮০৪ ফ্লাইটযোগে দেশে ফেরেন তাঁরা।

সৌদি আরবে চলছে ব্যাপক পুলিশি ধরপাকড়। এমন পরিস্থিতিতে চলতি মাসের তিন সপ্তাহে মোট ২ হাজার ৬১৫ বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন। আর চলতি বছরে এ পর্যন্ত ২২ হাজার বাংলাদেশিকে সৌদি আরব থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

দেশে ফেরা বাংলাদেশিদের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহযোগিতায় ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম থেকে খাবার-পানিসহ নিরাপদে বাড়ী পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

 দেশে ফেরা সবাই ভবিষ্যত নিয়ে এখন দুশ্চিন্তায় আছেন
দেশে ফেরা সবাই ভবিষ্যত নিয়ে এখন দুশ্চিন্তায় আছেন

একই পরিস্থিতির শিকার হয়ে দেশে ফিরতে হলো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মন্টু মিয়া, সাইদুল ইসলাম, নরসিংদির নাইম, হবিগঞ্জের ফারুক হোসেন ও ঢাকার সাইফুল ইসলামকে। দেশে ফেরা এই কর্মীদের অনেকেরই অভিযোগ, আকামা বা কাজের অনুমতি তৈরির জন্য কফিলকে টাকা দেওয়া হলেও কফিল আকামা করে দেননি। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর কফিলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি গ্রেপ্তার হওয়া কর্মীদের দায়দায়িত্ব নেননি। বরং তিনি প্রশাসনকে এঁদের ভিসা বাতিল করে দেশে পাঠিয়ে দিতে বলেছেন।

ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, ‘চলতি বছ‌র এখন পর্যন্ত ২২ হাজার বাংলাদেশিকে সৌদি আরব থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। প্রায় সবাই খালি হাতে ফিরেছেন। যারা কয়েকমাস আগে গিয়েছিলেন তাদের কেউই খরচের টাকা তুলতে পারেননি। তারা সবাই ভবিষ্যত নিয়ে এখন দুশ্চিন্তায়।

তিনি আরও বলেন, আমরা আশা কর‌ছি তিন‌দিন পর‌ সৌ‌দি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের যে যৌথ বৈঠক হবে সেখানে নারী কর্মীদের‌ পাশাপা‌শি পুরুষদের বিষয়‌টি নিয়েও আলোচনা হবে। বিশেষ করে ফ্রি ভিসার নামে প্রতারণা বন্ধ করতে কাজ করতে হবে দুই দেশকে।’

[প্রিয় পাঠক, আকাশযাত্রা প্রবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিকসহ কমিউনিটির নানান খবর, সংগঠনের খবর, ভ্রমণ, আড্ডা,আনন্দ-বেদনার গল্প, ছোট ছোট অনুভূতি,দেশের স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। লেখা ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়]

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন