সস্ত্রীক বিশ্বভ্রমণ করা সেই চা–বিক্রেতা মারা গেছেন

0

চা–বিক্রেতা ৭১ বছর বয়সী কে আর বিজয়নের আর বিশ্বভ্রমণ করা হবে না। গতকাল শুক্রবার মারা গেছেন তিনি। চা–বিক্রির আয়ে স্ত্রী মোহানাকে নিয়ে বিশ্বভ্রমণ করে সবার নজর কেড়েছিলেন ভারতের কেরালার কে আর বিজয়ন। দুই সপ্তাহ আগেই সস্ত্রীক রাশিয়া ঘুরে এসেছেন। এরপর জাপান ভ্রমণের পরিকল্পনা করছিলেন, ইচ্ছা ছিল ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়া যাওয়ার।

বিজয়নের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে ভারতের পর্যটন বিভাগ। টুইটারে বিজয়নের ছবি পোস্ট করে পর্যটন বিভাগ লিখেছে, ‘নিরহংকার এক ভ্রমণকারী তাঁর শেষ যাত্রা শুরু করলেন।’ লেখক এন এস মাধবন বিজয়ন দম্পতির দোকানে কাটানো সময়ের কথা স্মরণ করে তাঁদের ভ্রমণের গল্প উপভোগ করার কথা লিখেছেন।

ভারতের হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ভ্রমণপিপাসু চা–বিক্রেতা এই দম্পতি গত ১৪ বছরে ছয় মহাদেশের ২৬টি দেশ ঘুরে বেড়িয়েছেন। শিরোনাম হয়েছেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের।

কেরালার কোচি শহরে সেলিম রজন সড়কের পাশে তাঁদের চায়ের দোকান। অসংখ্য দেশ ঘুরে ঘুরে তাঁরা যেসব ছবি তুলেছেন, তাঁদের চায়ের দোকানে চারপাশে সেসব ছবি সাঁটানো আছে। চা খেতে খেতে মানুষ ছবিগুলো দেখেন, কথা বলেন।

২০০৭ সালে মিসরদিয়ে এই দম্পতির বিশ্বভ্রমণ শুরু। প্রথমবার ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ভ্রমণে গিয়েছিলেন। চা বিক্রি করে দিনে সাকুল্য ৩০০ রুপির উপার্জন তাঁদের। সেখান থেকে অর্থ বাঁচিয়ে ঋণ শোধ করেন তাঁরা। এরপর সফরের সংখ্যা যত বাড়তে থাকে, ততই বেড়েছে ঋণ। তবে বেশি দিন ঋণ নিতে হয়নি।

দুনিয়া ঘুরে দেখার শখের কারণে ওই দম্পতির সুনাম চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। গণমাধ্যমে শিরোনাম হওয়ার পর অনেকে এগিয়ে আসেন, তাঁদের বিশ্বভ্রমণের স্বপ্ন বাস্তবায়িত করতে পৃষ্ঠপোষকতা করেন। এরপর এ নিয়ে তাঁদের আর ভাবতে হয়নি। পৃষ্ঠপোষকদের অর্থেই তাঁরা অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও রাশিয়া ঘুরে এসেছেন।

বিজয়ন মনে করতেন জীবন হলো অনেকগুলো সফরের সমষ্টি। তবে এই দম্পতি যে শুধু দেশ ঘুরে বেড়াতেন তাই নয়। সিঙ্গাপুর সফরে গিয়ে এক ভ্রমণ সংস্থার অফিস উদ্বোধন করেছিলেন তাঁরা। ওই ভ্রমণ সংস্থার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর ছিলেন বিজয়ন। সেখান থেকেই কিছু আর্থিক সংকুলান হতো তাঁদের।

২০২০ সালে বিজয়ন ও মোহানা দম্পতির একটি বই প্রকাশিত হয়। তাঁদের বইয়ের নাম ‘দ্য গ্লোবাল টুরস অব বিজয়ন অ্যান্ড মোহানা বাই সেলিং টি’।

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন