শাহজালাল বিমানবন্দরে কার্গো স্ক্যানার নষ্ট, ডগ স্কোয়াড দিয়ে চলছে কাজ

প্রথম আলো প্রতিবেদন

0

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের দুটি এক্সপ্লোসিভ ডিটেকশন স্ক্যানার (ইডিএস) নষ্ট। স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতির বিপরীতে ডগ স্কোয়াডের চারটি কুকুর দিয়ে কার্গোর কাজ চলছে। এতে কার্গো ভিলেজে পণ্যজটের সৃষ্ট হচ্ছে। বিপাকে পড়ছেন রপ্তানিকারকেরা।

বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেটের সামনে সার বেঁধে অপেক্ষা করতে হচ্ছে পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে। বিমানবন্দরের ভেতরের কার্গো ভিলেজেও দীর্ঘ হচ্ছে জটলা। খোলা আকাশের নিচে পণ্য পড়ে থাকছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সময়মতো পণ্য পৌঁছাতে বিলম্ব হচ্ছে। এতে তৈরি পোশাকশিল্পসহ ব্যবসায়ীরা সময়মতো ক্রয়াদেশের পণ্য পাঠানো নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছেন। পচনশীল পণ্য পরিবহন করা যাচ্ছে না।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছে, কার্গো ভিলেজে দুটি এরিয়া—আরএথ্রি ও নন–আরএথ্রি। আরএথ্রি জায়গাটি হচ্ছে ইউরোপিয়ান দেশগুলোতে পণ্য পাঠানোর জন্য। সেখানে আছে দুটি ইডিএস ও দুটি এক্স–রে যন্ত্র। এর মধ্যে দুটি ইডিএস নষ্ট। ইডিএস নষ্ট থাকায় আরএথ্রি এরিয়াতে কার্গোর চাপ বেশি। একটি ইডিএস মে মাস থেকে নষ্ট। আরেকটি গত ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে নষ্ট। নতুন আরও দুটি ইডিএস স্থাপন করা হলেও যাচাই হয়নি বলে কাজ এখনো শুরু হয়নি।

এদিকে কার্গো ভিলেজের এ পণ্যজট নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। গত ২৯ সেপ্টেম্বর বিমানবন্দরে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে তিনি বলেন, বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে চারটি যন্ত্রের মধ্যে দুটি পুরোপুরি নষ্ট। বাকি দুটি নতুন যন্ত্র এ বছরের মার্চে বসানো হয়েছে। অথচ এখনো চালু হয়নি। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গাফিলতি রয়েছে। বেবিচক যে যুক্তি দিচ্ছে, তা দুঃখজনক।

ইডিএস বন্ধ থাকায় কুকুর দিয়ে পরীক্ষা করার বিষয়ে শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এ এইচ এম তৌহিদ–উল আহসান প্রথম আলোকে বলেন, এটি ইডিএস পদ্ধতির বিকল্প। এটিও ইউরোপিয়ান কর্তৃপক্ষের দ্বারা স্বীকৃত। তবে এ পদ্ধতিতে বেশি সময় লাগছে। অন্যদিকে নন–আরএথ্রিতে আছে চারটি এক্স–রে যন্ত্র। এ চারটি যন্ত্র অবশ্য সচল আছে।

বিমানবন্দরে ১৪ অক্টোবর থেকে ২০ অক্টোবর নতুন দুটি ইডিএস যন্ত্র যাচাই করতে একটি দল আসবে। তারা পুরো প্রক্রিয়া যাচাই করে সত্যায়ন করবে। তখন ওই দুই যন্ত্র চালু হয়ে যাবে।
তৌহিদ-উল আহসান, বিমানবন্দরের পরিচালক
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কার্গো ভিলেজে এখন দৈনিক গড়ে ৬০০ টন কার্গো স্ক্যান করা হচ্ছে। গত দুই মাসে এটা প্রায় দেড় গুণ বেড়েছে। প্রতিদিন প্রায় ২৫টি কার্গো ফ্লাইট বিমানবন্দরে যাওয়া–আসা করে। অনেক সময় যাত্রীবাহী (প্যাসেঞ্জার) ফ্লাইটেও পরিবহনের ব্যবস্থা করা হয়। কার্গোতে গার্মেন্টসের পণ্য ও সবজি বেশি থাকে। শাকসবজি, মাছ, ফলমূলের মতো পচনশীল পণ্য পরিবহনের জন্য নতুন করে আরও দুটি ইডিএস বসানো হবে। অবশ্য এটি চালু হতে আরও মাস দুয়েক সময় লাগবে।

এদিকে শাহজালাল বিমানবন্দরে কার্গো পরিবহনে জটিলতা তৈরি হওয়ায় রপ্তানিকারকেরা তাদের পণ্য পরিবহনে বিকল্প হিসেবে প্রথমে সড়কপথে কলকাতা, এরপর কলকাতা বিমানবন্দর ব্যবহার করতে এদেশীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়েছে। যেমন স্পেনের পোশাক বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান পুল অ্যান্ড বিয়ার বাংলাদেশে তাদের তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়ে শাহজালাল বিমানবন্দরের পরিবর্তে কলকাতা বিমানবন্দর ব্যবহার করে পণ্য পাঠানোর কথা জানিয়েছে। সেই চিঠিতে বলা হয়, শাহজালাল বিমানবন্দরে স্ক্যানার নষ্ট।

বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) বলছে, বিমানবন্দর থেকে রপ্তানি করা পণ্যের সিংহভাগই হচ্ছে তৈরি পোশাকশিল্পের। কার্গো ভিলেজের সামনে যত্রতত্র পণ্য ফেলে রাখা হচ্ছে। এসব দেখার কেউ নেই। পণ্য বিদেশে পাঠাতে সাত থেকে আট দিন লাগছে।

বিজিএমইএর সহসভাপতি শহিদুল্লাহ আজিম প্রথম আলোকে বলেন, শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং চার্জ অন্য যেকোনো দেশের বিমানবন্দরের তুলনায় বেশি। এখানে পণ্য পাঠাতে সময় লাগছে বলে বিদেশি বায়াররা অসন্তুষ্ট হচ্ছে। রপ্তানিকারকেরা বাধ্য হয়ে সড়কপথে বেনাপোল হয়ে কলকাতা; পরে কলকাতা বিমানবন্দর দিয়ে পণ্য পাঠাচ্ছে। তাতে খরচ ও সময় দুটিই বেশি লাগছে।

কার্গো ভিলেজের কার্যক্রমের ধীরগতি কবে নাগাদ ঠিক হতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে বিমানবন্দরের পরিচালক তৌহিদ-উল আহসান প্রথম আলোকে বলেন, গত বছরের অক্টোবরে দুটি ইডিএস মেরামত করা হয়েছিল। এরপর আবার তা নষ্ট হয়ে যায়। এ মাসের মধ্যেই একটি ইডিএস চালু হয়ে যাবে। আরেকটি যন্ত্রের সমস্যা খুঁজে বের করতে টেকনিশিয়ান দেখানো হচ্ছে। তিনি জানান, বিমানবন্দরে ১৪ অক্টোবর থেকে ২০ অক্টোবর নতুন দুটি ইডিএস যন্ত্র যাচাই করতে একটি দল আসবে। তারা পুরো প্রক্রিয়া যাচাই করে সত্যায়ন করবে। তখন ওই দুটি যন্ত্র চালু হয়ে যাবে।

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন