লেবাননে আগাম নির্বাচনের ঘোষণায় ব্যাপক বিক্ষোভ, আহত ৭২৮

0

বৈরুত বিস্ফোরণের পর বিপর্যয় থেকে ঘুরে দাঁড়াতে লেবাননে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেয়ার পর থেকেই সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ করছে দেশটির নাগরিক। বিক্ষোভকালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় ৭২৮ জন বিক্ষুব্ধ আহত হয়েছেন বলে জানিয়ে সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরা। খবরে একজন পুলিশ নিহতের কথাও বলা হয়েছে। বিক্ষােভকারীর ব্যর্থতার অভিযোগে অভিলম্বে ক্ষমতাসীন সরকারের পদত্যাগে দাবি করছেন।

শনিবার (৮ আগস্ট) আগাম নির্বাচনের প্রস্তুতির ঘোষণা দেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী হাসান ডিয়াব। আগামী সোমবার (১০ আগস্ট) পার্লামেন্টে আগাম নির্বাচনের বিষয়টি তিনি উত্থাপন করবেন বলে জানান হাসান ডিয়াব। এই ঘোষণার পর থেকেই এর প্রতিবাদ জানিয়ে সংসদ এলাকায় বিক্ষোভ শুরু করেন লেবাননের নাগরিক। বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে সমবেতদের লক্ষ্য করে টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে পার্লামেন্ট ভবনের সামনে দায়িত্বরত পুলিশ।

গত মঙ্গলবার লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা কমপক্ষে ১৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৫ জন বাংলাদেশি রয়েছেন। ওই ঘটনায় ৬ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন এবং আরও অনেকে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। এই ঘটনা তদন্তে এরই মধ্যে ১৯ জনকে আটক করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী।

বৈরুত বন্দরে এই বিস্ফোরণের কারণ হিসেবে সরকারের অবহেলার অভিযোগ তুলে রাজপথে নামেন ক্ষুব্ধ নাগরিক। একই সঙ্গে রাজধানী জুড়ে ভাঙচুর আর অগ্নিসংযোগ করে ক্ষমতাসীন সরকারের পদত্যাগে দাবি জানান হাজার হাজার আন্দোলনকারী। এমন পরিস্থিতিতে আগাম নির্বাচনের ডাক দিয়েছেন লেবানন সরকার প্রধান হাসান ডিয়াব।

বেশ কিছুদিন ধরেই অর্থনৈতিক সংকটে ধুঁকছিল লেবানন। তার মধ্যেই গত মঙ্গলবার বৈরুত বিস্ফোরণ পরিস্থিতিতে লেবাননবাসীর চাপা ক্ষোভেরও বিস্ফোরণ ঘটেছে। তারই প্রকাশ যেন গতকাল শনিবার ঘটল বৈরুতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিক্ষোভকারীদের হামলার মধ্য দিয়ে।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, হাজার হাজার বিক্ষোভকারী মিছিল করে বৈরুত শহরের প্রাণকেন্দ্রে এসে জড়ো হন। নিরাপত্তা বাহিনীর মনোযোগ যখন সেদিকে, ঠিক তখনই সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে একদল বিক্ষোভকারী লেবাননের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন। ওই ভবনকে তাঁরা ‘বিপ্লবের সদর দপ্তর’ ঘোষণা করেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভবনের সম্মুখভাগে দাঁড়িয়ে সামি রাম্মাহ নামে অবসরপ্রাপ্ত এক সেনা কর্মকর্তা লাউড স্পিকারে ঘোষণা দেন, ‘বিপ্লবের কেন্দ্র হিসেবে আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছি। আমরা লেবাননের সচেতন জনগণের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, সড়কে নেমে আসুন এবং সব দুর্নীতিবাজের বিচার দাবি করুন।’ এ সময় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি লেবাননের সরকারকে বর্জন করারও আহ্বান জানানো হয়।

এ সময় বিক্ষোভকারীদের হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড, ব্যানার, ফেস্টুন ছিল। একটি ব্যানারে লেখা ছিল, ‘তোমরা দুর্নীতিপরায়ণ ছিলে, এখন তোমরা অপরাধী।’ বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিচ্ছিলেন, এই সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত প্রতিশোধ নেওয়া অব্যাহত থাকবে।

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।