যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকধারীর গুলিতে বাংলাদেশি অভিবাসী পুলিশ সদস্যসহ নিহত ৫

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের সেন্ট্রাল ম্যানহাটানে এক বন্দুকধারীর গুলিতে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন পুলিশ কর্মকর্তা এবং হামলাকারী নিজেও রয়েছে। সোমবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত পুলিশ সদস্য দিদারুল ইসলাম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র এরিক অ্যাডামস।

৩৬ বছর বয়সী দিদারুল ইসলাম বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হিসেবে গিয়েছিলেন। তিনি সাড়ে তিন বছর ধরে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে (এনওয়াইপিডি) কর্মরত ছিলেন।

Travelion – Mobile

দিদারুল ইসলাম বিবাহিত ছিলেন এবং তার দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে। তার স্ত্রী বর্তমানে আট মাসের গর্ভবতী। নিউইয়র্ক পুলিশ কমিশনার জেসিকা এস টিশ দিদারুলকে ‘বীর’ আখ্যা দিয়ে বলেন, তিনি কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন দিয়েছেন।

ঘটনার সময় বন্দুকধারী একটি রাইফেল হাতে ম্যানহাটনের একটি আকাশচুম্বী ভবনে প্রবেশ করে। এরপর সে দিদারুল ইসলামসহ চারজনকে গুলি করে হত্যা করে। পরে সন্দেহভাজন বন্দুকধারী ২৭ বছর বয়সী শেন তামুরাকেও মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

পুলিশ ধারণা করছে, চারজনকে হত্যা করার পর তামুরা নিজেই আত্মহত্যা করেছেন।

ঘটনাস্থল ছিল পার্ক অ্যাভিনিউর ৩৪৫ নম্বর ভবন, যেখানে এনএফএল, হেজ ফান্ড জায়ান্ট ব্ল্যাকস্টোন, কেপিএমজি, ডয়চে ব্যাংক এবং আয়ারল্যান্ড কনস্যুলেটসহ একাধিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অফিস রয়েছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

সন্দেহভাজনকে নজরদারি ক্যামেরায় দেখা গেছে বড় একটি অ্যাসল্ট রাইফেল হাতে ভবনে প্রবেশ করতে। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে ভবনে ঢোকার পর ভবনের ৩৩তম তলায় তার মরদেহ পাওয়া যায়।

Diamond-Cement-mobile

তদন্তে জানা গেছে, বন্দুকধারী শেন তামুরা লাস ভেগাসের বাসিন্দা এবং তার গাড়ি থেকে এম-৪ রাইফেল ও একটি রিভলবার উদ্ধার করা হয়েছে। তার মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আগেও রেকর্ড ছিল বলে জানিয়েছে লাস ভেগাস কর্তৃপক্ষ।

নিউইয়র্কের পুলিশ কমিশনার জানান, ঘটনাস্থল বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং তদন্ত চলছে।

নিউইয়র্কের মেয়র এরিক অ্যাডামস এক ভিডিও বার্তায় বলেন, “এই হামলায় অনেকেই আহত হয়েছেন। তাদের আঘাতের মাত্রা এখনো নির্ধারণ করা যায়নি।”

এফবিআই-এর নিউইয়র্ক ফিল্ড অফিস থেকেও তদন্তে সহায়তা করা হচ্ছে।

নিউইয়র্কের দুই সিনেটর চাক শুমার এবং কার্স্টেন গিলিব্র্যান্ড সামাজিক মাধ্যমে ঘটনার জন্য গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

এভিয়েশন, পর্যটন আর প্রবাসের সব খবর পেতে, এখানে ক্লিক করে আকাশযাত্রার ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকার অনুরোধ

সূত্র: সিএনএন, বিবিসি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!