যুক্তরাজ্যের ব্র্যাডফোর্ডে স্ত্রীকে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে হত্যার দায়ে হাবিবুর রহমান মাসুম (২৬) নামের এক বাংলাদেশিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (স্থানীয় সময়) ব্র্যাডফোর্ড ক্রাউন কোর্ট এই রায় ঘোষণা করে জানায়, মাসুমকে অন্তত ২৮ বছর কারাভোগ করতে হবে।
২০২৩ সালের ৬ এপ্রিল ব্র্যাডফোর্ডের এক নারী আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার সময় স্ত্রী কুলসুমা আক্তারকে (২৭) অনুসরণ করে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাত করেন মাসুম।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, শিশু সন্তানকে ঠেলাগাড়িতে নিয়ে যাওয়ার সময় মাসুম তাঁকে ২৫ বারেরও বেশি ছুরি দিয়ে আঘাত করেন।
হাসপাতালে নেওয়ার পর কুলসুমা মারা যান। তদন্তে উঠে আসে, হাবিবুর ভুয়া পরিচয়ে (একজন চিকিৎসক সেজে) বার্তা পাঠিয়ে স্ত্রীকে আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বের করে আনেন।
ঘটনার পর মাসুম পালিয়ে যান, পরে তাঁকে আইলসবুরি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
২০২৪ সালের ২৭ জুন আদালত তাঁকে হত্যা, হামলা, হত্যার হুমকি ও অনুসরণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেন।
বিচারক রায়ে বলেন, এটি ছিল “ঠান্ডা মাথায় করা, নিষ্ঠুর ও ভয়াবহ সহিংস হামলা।” অভিযুক্ত কোনো অনুশোচনা দেখাননি এবং পুরো বিচারপ্রক্রিয়ায় ছিলেন নির্বিকার।
প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে কুলসুমার ভাই আকতার হুসেইন বলেন, “আমরা বোন হত্যার বিচার পেয়েছি। যদিও তাঁকে ফেরত পাব না, তবে হত্যাকারীর যথাযথ শাস্তি হয়েছে।”
এই ঘটনা যুক্তরাজ্যে নারী সুরক্ষা ও আশ্রয়কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তুলেছে। ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস বলেছে, “এটি প্রমাণ করে যে, অনেক সময় আশ্রয়কেন্দ্রও শতভাগ নিরাপদ নয়।”
হাবিবুর রহমান মাসুম ব্র্যাডফোর্ডশায়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর ছাত্র ছিলেন। তিন বছর আগে উচ্চশিক্ষার জন্য স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে যুক্তরাজ্যে যান। তাঁদের এক সন্তান রয়েছে। বাংলাদেশে তাঁদের বাড়ি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায়।


