মালয়েশিয়ায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বড় ২৪ ঘণ্টার বইয়ের দোকান

মালয়েশিয়ায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বড় ২৪ ঘণ্টার বইয়ের দোকান চালু করেছে বুকএক্সেস। ‘দ্য লাইব্রেরি বাই বুকএক্সেস’ নামে নতুন এই ফ্ল্যাগশিপ স্টোরটি পেটালিং জয়ার বান্দার সানওয়ের সানওয়ে স্কয়ার মলে অবস্থিত।

১০ ডিসেম্বর মধ্যরাতে উদ্বোধনের সময় সব বয়সী প্রায় দুই হাজার বইপ্রেমী উপস্থিত ছিলেন। প্রায় ৩ হাজার ৫৩০ বর্গমিটার আয়তনের এই বিশাল স্টোরে রয়েছে দুই তলা মেজের মতো নকশা, উঁচু বুকশেলফ, প্রায় এক কিলোমিটার হাঁটার পথ এবং পড়াশোনা, কাজ কিংবা নীরবে বই পড়ার জন্য আরামদায়ক কোণা।

বুকএক্সেসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা অ্যান্ড্রু ইয়াপ ও জ্যাকলিন এনজি জানান, এই উদ্যোগটি সাহসী হলেও ঝুঁকি নেওয়ার জন্য সময়টি উপযুক্ত। অ্যান্ড্রু ইয়াপ বলেন, ডিজিটালাইজেশনের ভিড়ে মানুষ ক্লান্ত। তারা আবার কাগজের বইয়ের দিকে ফিরছে। রাত সাড়ে বারোটাতেও দোকান ভরা এটাই তার প্রমাণ।

Travelion – Mobile

তিনি আরও বলেন, মালয়েশিয়ানরা পড়তে চান, কিন্তু তাদের জন্য সহজে প্রবেশযোগ্য জায়গার অভাব রয়েছে। ‘দ্য লাইব্রেরি’ সেই প্রয়োজন পূরণ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

৩,৫৩০ বর্গমিটার আয়তনের এই স্টোরে উঁচু বুকশেলফ ও ছাদে ঝুলন্ত বইয়ের প্রদর্শনী।
৩,৫৩০ বর্গমিটার আয়তনের এই স্টোরে উঁচু বুকশেলফ ও ছাদে ঝুলন্ত বইয়ের প্রদর্শনী।

জ্যাকলিন এনজি বলেন, বান্দার সানওয়ের অবস্থান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশপাশে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় থাকলেও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও অ্যাসাইনমেন্ট করার জন্য পর্যাপ্ত অনুকূল জায়গা নেই। তার মতে, ‘দ্য লাইব্রেরি’ শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ হয়ে উঠবে।

শুধু পড়াশোনার জায়গা নয়, নতুন বইয়ের সন্ধান ও সৃজনশীলতাকে উসকে দিতে নান্দনিকভাবেও সাজানো হয়েছে স্টোরটি। শিল্পকর্ম, ভাস্কর্য ও ইনস্টলেশনের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের কৌতূহল জাগাতে চায় কর্তৃপক্ষ। ইনস্টাগ্রাম-উপযোগী আকর্ষণের মধ্যে রয়েছে ছাদ থেকে ঝুলন্ত ‘ফ্লাইং বুকস’ এবং মালয়েশিয়ান শিল্পী CO2-এর তৈরি ‘হোয়েল ফল’—যা ক্ষতিগ্রস্ত বই দিয়ে নির্মিত একটি ব্যতিক্রমী ছাদ-ইনস্টলেশন।

দোকানের বিভিন্ন স্থানে থাকা কৌণিক ভাস্কর্যগুলো সানওয়ে সিটির টিন-খনির ইতিহাসের প্রতি ইঙ্গিত করে। পাশাপাশি জাপানি শিল্পী ইয়ায়োই কুসামা অনুপ্রাণিত কুমড়ো আকৃতির ইনস্টলেশন শিল্পপ্রেমীদের নজর কাড়ছে।

Diamond-Cement-mobile

দিন-রাতের এক অনন্য মিলনকেন্দ্রে রূপ দিতে লাইব্রেরির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে একাধিক লাইফস্টাইল পার্টনার—কেনি হিলস বেকার্স, বেকন স্টেশনারি, ফ্র্যাকচার ফ্যাশন স্টুডিও ও গুড মোজো স্মুদিজ।

উদ্বোধনী দিনে দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখর ছিল পুরো স্টোর। অনেকেই প্রতিটি কোণা ঘুরে দেখেন, ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। ক্লাং থেকে আসা বিজয় নায়ার (৩৭) ও তার স্ত্রী পবিত্রা পিল্লাই (৩৩) তাদের ১৮ মাসের ছেলে অর্জুনকে নিয়ে উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন। বিজয় নায়ার বলেন, “২৪ ঘণ্টার বইয়ের দোকানের ধারণাটি দারুণ। মধ্যরাতের পর খোলা জায়গা পাওয়া কঠিন। যারা পড়া দিয়ে মানসিক চাপ কমাতে চান, তাদের জন্য এটি আদর্শ।”

সানওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আলিয়া কারমিলা (২০) জানান, তিনি প্রাইমারি স্কুল থেকেই বুকএক্সেসের নিয়মিত ক্রেতা। তার ভাষ্য, “ফ্যান্টাসি বইয়ের সংগ্রহ ভালো এবং দামও তুলনামূলক কম।”

ইংরেজি শিক্ষক পার্ল এনজি (৪৭) বলেন, “২৪ ঘণ্টা খোলা থাকাটা অসাধারণ। যেকোনো সময় এসে বই কিনতে পারব।” তার স্বামী ড্যানিয়েল চং (৪৬) হাসতে হাসতে যোগ করেন, “খাবার, বই আর সুন্দর পরিবেশ সবই আছে। মনে হয় এটি আমাদের দ্বিতীয় বাড়ি হয়ে যাবে।”

এভিয়েশন, পর্যটন আর প্রবাসের সব খবর পেতে, এখানে ক্লিক করে আকাশযাত্রার ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকার অনুরোধ

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!