মালদ্বীপের ফার্স্টলেডির কাছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’-এর গ্রাফিতি বই
সবচেয়ে বড় শিক্ষামেলায় বাংলাদেশ
মালদ্বীপের ফার্স্টলেডি সাজিদা মোহাম্মদকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গ্রাফিতি বই ‘আর্ট অব ট্রায়াম্ফ’ উপহার দিলেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. নাজমুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় দেশটির সবচেয়ে বড় শিক্ষামেলা ভারা এক্সপো-২০২৫ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশের স্টলও পরিদর্শনের সময় ফার্স্টলেডিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গ্রাফিতি বইটি উপহার দেন হাইকমিশনার। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের যুবসমাজের অনুপ্রেরণামূলক ভূমিকার কথা এ বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে।
এ সময় সংক্ষিপ্ত আলোচনায় মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা সুযোগ বাড়ানো এবং বিভিন্ন বৃত্তি দেয়ার জন্য বাংলাদেশ এবং হাইকমিশনারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ফার্স্টলেডি ।
সেইসাথে দেশটির মানবসম্পদ উন্নয়নে সহায়তা করার জন্য বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতির প্রশংসা করেন এবং এই ধরনের প্রচেষ্টা দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বসহ পারস্পরিক বিকাশের সেতুবন্ধনকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।
হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম প্রবাসী বাংলাদেশি সাংবাদিকদের বলেন, মালদ্বীপের ফার্স্টলেডিকে ‘দ্য আর্ট অফ ট্রায়াম্ফ’ বইটি উপহার দেন, যা দেশের শিক্ষার শক্তি, স্থিতিস্থাপকতা এবং সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটায়।
হুলহুমালে সেন্ট্রাল পার্কে মালদ্বীপের উচ্চশিক্ষা, শ্রম ও দক্ষতা উন্নয়ন মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই মেলার মূল লক্ষ্য দেশটির তরুণ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি ক্যারিয়ার গঠনের সুযোগ করে দেওয়া ।
তিন দিনব্যাপী ‘ভারা এক্সপো-২০২৫’-এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বাংলাদেশ হাইকমিশনারও বিশেষ অতিথি ছেলেন ড. নাজমুল ইসলাম।
বাংলাদেশ হাইকমিশনের স্টলে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় উচ্চশিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার পরিচিতি তুলে ধরা হয়। দেশের শিক্ষাব্যবস্থার সাতটি মূল ক্ষেত্র— পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট— সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়।
এসব প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রোগ্রাম ও গবেষণার সুযোগ প্রদান করে, যা মালদ্বীপের শিক্ষার্থী ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের সন্তানদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এই অংশগ্রহণ বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে স্থায়ী অংশীদারিত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার প্রতিফলন। শিক্ষা ও যুব উন্নয়নের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
মেলার প্রথম দিন থেকেই শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও তরুণ পেশাজীবীদের ভিড়ে প্রাঙ্গণ উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া এই মেলা চলবে শনিবার রাত ১২টা পর্যন্ত।


