মালদ্বীপের আড্ডুতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সেবা, প্রবাসীদের স্বস্তি-উচ্ছাস
দূরে প্রবাসে থেকেও দেশের সেবা যখন দরজায় এসে পৌঁছায়, তখন তার আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। ঠিক এমনই স্বস্তি ও আনন্দের অনুভূতি পেয়েছেন মালদ্বীপের আড্ডু সিটিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
রাজধানী মালে থেকে প্রায় সাড়ে ৫০০ কিলোমিটার দূরের দ্বীপ আড্ডু সিটিতে ১ থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত কনস্যুলার সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে মালদ্বীপে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন। এ সেবা কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেন মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম। সঙ্গে ছিল বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রতিনিধি দল।
হাইকমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চার দিনের এই কার্যক্রমে আড্ডু সিটির প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য তাৎক্ষণিক ও গুরুত্বপূর্ণ কনস্যুলার সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে প্রবাসীদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতে সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়।
এই সেবা কার্যক্রমে প্রায় ১০০ জন প্রবাসী পাসপোর্ট সংক্রান্ত সেবা গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপে নিবন্ধনের জন্য সহায়তা প্রদান করা হয়। এছাড়া প্রবাসীদের জন্য ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সদস্যপদ কার্ডও বিতরণ করা হয়।
সেবা কার্যক্রম প্রসঙ্গে হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, “প্রবাসী বাংলাদেশিরা আমাদের অর্থনীতির অন্যতম শক্ত ভিত্তি। দূরবর্তী দ্বীপে বসবাসকারী প্রবাসীরা যেন সহজে ও হয়রানি ছাড়া প্রয়োজনীয় সেবা পান—এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রবাসীদের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন কাজ করে যাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, প্রবাসীদের সমস্যা ও বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতেও রাজধানীর বাইরে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য এ ধরনের কনস্যুলার সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার চেষ্টা থাকবে।
সেবা পেয়ে উচ্ছ্বসিত প্রবাসী বাংলাদেশিরা জানান, পাসপোর্ট সংক্রান্ত কাজে রাজধানী মালেতে যাতায়াত করতে তাদের বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে কর্মস্থল থেকে ছুটি নেওয়াও হয়ে পড়ে কঠিন। বিশেষ করে যারা স্বল্প বেতনে কাজ করেন, তাদের জন্য মালেতে গিয়ে সেবা নেওয়া ছিল বড় চাপের বিষয়।
প্রবাসীরা বলেন, “হাইকমিশন সরাসরি আড্ডু সিটিতে এসে সেবা দেওয়ায় আমরা সত্যিই কৃতজ্ঞ। এতে আমাদের সময়, টাকা এবং ভোগান্তি—সবই কমেছে।”
তারা আরও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ভবিষ্যতে আড্ডুর আশপাশের অন্যান্য দ্বীপেও যদি এ ধরনের কনস্যুলার সেবা কার্যক্রম চালু করা হয়, তাহলে প্রবাসী বাংলাদেশিরা আরও উপকৃত হবেন।
প্রবাসীদের মতে, বাংলাদেশ হাইকমিশনের এই উদ্যোগ প্রবাসীদের কল্যাণে সরকারের আন্তরিকতা ও দায়বদ্ধতার একটি বাস্তব উদাহরণ।


