মানুষের জীবন বাঁচাতে ১৬৬ বার রক্ত দিয়েছেন যে ওমানি

0

রক্তদানের মাধ্যমে রোগীদের জীবন বাঁচাতে ওমানি নাগরিক আহমেদ বিন হামাদ আল-খরাসির যাত্রা ৩৪ বছর আগে ১৯৮৬ সালে শুরু হয়েছিল, যখন তাঁর বয়স ছিল২৩ বছর। “আমি পরিবার নিয়ে বেড়ানোর সময় কেউ একজন আমাদেরকে তার পরিবারের সদস্যকে রক্তদানের জন্য সহায়তা করতে বলেছিল। আমরা জানতে পেরেছিলাম যে, আমার স্ত্রীর একই গ্রুপের রক্তের অধিকারী এবং আমার স্ত্রী তার রক্ত দিতে রাজি হওয়ায় অবিলম্বে মাসকাট ফিরে এসেছিলেন” তিনি স্মরণ করেন।

৫৮ বছর বয়েসী আহমেদ বিন হামাদ বছরে গড়ে পাঁচবার রক্ত​​দান করেন। এ পর্যন্ত তিনি ১৬৬ বারেরও বেশি রক্ত দিয়েছেন। তিনি শুধু নন, প্রয়োজনের সময় নিঃস্বার্থভাবে হাসপাতালে রক্ত ​​দান করে পরিবারের বাকি সদস্যরাও তার পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন। তাঁর স্ত্রী ২৪ বার রক্ত দিয়েছেন এবং তার চার কন্যা মোট ১২ বার রক্ত দিয়েছেন। সবমিলিয়ে তার পরিবার ২০২ ব্যাগ বা মোট ৯০ হাজার ৪৫০ মিলিমিটার রক্ত দান করেছে।

নিজের রক্তদানের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে ওমান নিউজ এজেন্সিকে আহমেদ বলেন, রক্তদানের কারণে তিনি কোনও সমস্যায় পড়েননি। আমি যখনই রক্ত ​​দান করি তখন অনুভব করি যে আমার হৃদয় এবং আমার শরীর পুরোপুরি সক্রিয় রয়েছে। । উপরন্ত, রক্ত​​দান সম্ভাব্য স্বাস্থ্যের সমস্যাগুলি সনাক্ত করতে সহায়তা করে।”

তিনি গর্বের সাথে বলেন,”রক্ত দান করা অন্যকে সাহায্য করার ক্ষেত্রে আমার আত্মবিশ্বাসকে বাড়িয়ে তোলে, কারণ কারও জীবন বাঁচাতে এর মূল্য কী তা আমি বুঝতে পারি, আপনারাও বুঝতে পারবেন। ডাক্তাররা আমাকে না বলা পর্যন্ত থামার পরিকল্পনা আমার নেই, আমি স্বেচ্ছায় রক্তদান করে যাবো। এর পরে আমি রক্তদানের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা ছড়াতে প্রচারণায় নামবো।”

টাইমস অব ওমানের প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনা মহামারির শুরু থেকেই এ পর্যন্ত ১২ বার স্বেচ্ছায় রক্ত দিতে এগিয়ে এসেছেন আল-খরাসি। তিনি বলেন” মহামারি চলাকালীন রক্তের প্রয়োজন খুব বেশি। কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি করতে একজনের রক্তে তিনজন রোগীর উপকার করতে পারে। ওমানে ৭ হাজার ইউনিটেরও বেশি রক্তের প্রয়োজন রয়েছে। আমি কমিউনিটিকে এই কাজের জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছি।”

ওমানের রক্তদানের কর্মসূচিগুলি বেশির ভাগই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ব্লাড ব্যাংক পরিষেবা (ডিবিবিএস) বিভাগ দ্বারা পরিচালিত হয়। মাঝে মাঝে তারা সামাজিক এবং কর্পোরেট সংস্থার সহযোগিতাবো কর্মসূচি পরিচালনা করে থাকে।

আহমেদ পরামর্শও দিয়েছেন, প্রতিটি উইলিয়াতে ওয়ালিসের তত্ত্বাবধানে স্বেচ্ছাসেবক কমিটি গঠন করা, পাশাপাশি স্বেচ্ছায় রক্তদানের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে এই কমিটিগুলির জন্য বার্ষিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করার।

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন