মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে মিউনিখগামী ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের একটি বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার বিমান মাঝআকাশে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়ে।
গত ২৫ জুলাই ওয়াশিংটনের ডালাস বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে উড্ডয়নেরকিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানের বাঁ দিকের ইঞ্জিনটি আচমকা বিকল হয়ে যায়। পাইলট সঙ্গে সঙ্গেই ‘মে ডে’ সংকেত পাঠান কন্ট্রোল টাওয়ারে। জানা গিয়েছে, এ সময় য় ৫ হাজার ফুট উচ্চতায় ছিল যাত্রীবোঝাই বিমানটি।
ইঞ্জিন বিকলের পর সঙ্গে সঙ্গে জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন পাইলট। তবে অবতরণের আগে বিমানটিকে ২ ঘণ্টা ৩৮ মিনিট ধরে ওয়াশিংটনের উত্তর-পশ্চিমে চক্কর কাটাতে হয় জ্বালানি হালকা করতে।
ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটিকে ৬ হাজার ফুট উচ্চতায় স্থির রেখে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (ATC)-এর কাছ থেকে ধাপে ধাপে জ্বালানি ফেলার অনুমতি চেয়ে নেন পাইলটরা। অন্য বিমানের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখে কীভাবে নিরাপদে জ্বালানি ফেলা যায়, সে ব্যাপারে নির্দেশ দেয় কন্ট্রোল টাওয়ার।
সবশেষে, জ্বালানি হালকা করার পর দুই পাইলট ডালাস বিমানবন্দরের রানওয়ে ১৯ সেন্টারে ILS (Instrument Landing System)-এর মাধ্যমে জরুরি অবতরণ করেন।
ইঞ্জিন সম্পূর্ণ বিকল হয়ে যাওয়ায় অবতরণের পর বিমানটি নিজের ক্ষমতায় নড়তে পারেনি। টাগ ট্রাকের সাহায্যে রানওয়ে থেকে সরাতে হয়। সোমবার পর্যন্ত সেটি ডালাস বিমানবন্দরেই ছিল।
পাইলটদের তৎপরতা এবং এয়ারপোর্টের কন্ট্রোল ও গ্রাউন্ড টিমের দ্রুত সহযোগিতাতেই বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পান সমস্ত যাত্রী। কেউ আহত হননি। ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স ও মার্কিন বেসামরিক বিমান পরিবহণ সংস্থা FAA ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
তবে ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের এই ঘটনায় পাইলটের দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং নিয়ন্ত্রিত ফ্লাইট অপারেশনের ফলে এ যাত্রায় প্রাণে বাঁচলেন সকলে।


