মরক্কোয় দেড় লাখ বছরের পুরনো ‘অলঙ্কারের’ সন্ধান

0

সম্প্রতি মরক্কোতে এক লাখ ৪২ হাজার থেকে এক লাখ ৫০ হাজার বছর পুরনো ছিদ্রযুক্ত শেল উদ্ধার করেছে প্রত্নতত্ত্ববিদগণ। ধারণা করা হচ্ছে- এটিই পৃথিবীর প্রাচীনতম ব্যবহৃত অলংকার।

দক্ষিণ-পশ্চিম মরক্কোর আটলান্টিক উপকূল থেকে ১০ মাইল ভেতরে বিজমাউন গুহায় ২০১৪ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত খননকালে ৩৩টি সামুদ্রিক শামুকের খোলস বের করা হয়েছিল।

প্রায় আধা ইঞ্চি লম্বা খোলসগুলো উত্তর আফ্রিকার অন্যান্য স্থানে পাওয়া ‘T. গিবোসুলা’ খোলসের চেয়ে লম্বা। ছিদ্রগুলো বেশির ভাগই প্রাকৃতিক গর্ত যা ডিম্বাকৃতি এবং বৃত্তে কাটা হয়েছিল।

অনেক গর্তের কিনারা মসৃণ ও পালিশ করা ছিল। ধারণা করা হচ্ছ- এগুলো কোনো সুতো দ্বারা মালার মতো গাঁথা হয়েছিল এবং পরে তা কোনোভাবে ছিঁড়ে যায়। লাল এবং ফ্যাকাসে হলদে-খয়েরি রঙ এর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে খোলসগুলোতে, মনে হয়- অন্তত কিছু খোলস পেইন্ট করা হয়েছিল।

বিডগুলো মানবজ্ঞান ও যোগাযোগের বিবর্তন অধ্যয়নরত নৃবিজ্ঞানীদের জন্য সম্ভাব্য সূত্র হিসাবে কাজ করে। মানুষ কখন ভাষা ব্যবহার করা শুরু করে- তা নিয়ে গবেষকরা দীর্ঘদিন ধরে আগ্রহী ছিলেন।

কিন্তু মাত্র কয়েক হাজার বছর আগে যখন মানুষ কিছু লিখতে শুরু করেছিল তখন পর্যন্ত ভাষার কোনো বস্তুগত রেকর্ড ছিল না।

কুহন বলেন, উদ্ধারকৃত বিডগুলো মূলত মৌলিক যোগাযোগের একটি জীবাশ্ম রূপ। আমরা জানি না তারা কী বোঝাতে চেয়েছিল, তবে তারা স্পষ্টভাবে প্রতীকী বস্তু যা এমনভাবে স্থাপন করা হয়েছিল যাতে অন্য লোকেরা তাদের দেখতে পারে।

পুঁতিগুলো তাদের দীর্ঘস্থায়ী ফর্মের জন্যও উল্লেখযোগ্য। গেরুয়া বা কাঠকয়লা দিয়ে তাদের শরীর বা মুখ আঁকার পরিবর্তে পুঁতির নির্মাতারা আরো স্থায়ী কিছু তৈরি করেছেন।

কুহন বলেন, তারা যে বার্তাটি দিতে চেয়েছিল তা দীর্ঘস্থায়ী ও গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র : দ্য হিস্টরি ব্লগ

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন