ঘরের কাছের “স্কটল্যান্ড” ভারতের মেঘালয় রাজ্য

0

সাধারণ একটি প্রশ্ন-পৃথিবীতে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয় কোথায়?
উত্তর-ভারতের মেঘালয় রাজ্যের চেরাপুঞ্জিতে। এটুকু পর্যন্ত মোটামুটি সবার জানা। তবে অনেকেই জানেন না এই চেরাপুঞ্জি বাংলাদেশ থেকে কতদূর। ম্যাপ বের করে হিসাব-নিকাশ করে দেখবেন বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে চেরাপুঞ্জি সোজাসুজি কুড়ি কিলোমিটারেরও কম। বাড়ির পাশেই বিশ্বের বৃষ্টিবহুল এই এলাকা, সেখানে আষাঢ় কিংবা শ্রাবণের বৃষ্টি উপভোগ এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা।

তাই বৃষ্টির মৌসুমে ঘুরে আসুন চেরাপুঞ্জি। সঙ্গে রাখবেন মেঘালয়ের রাজধানী ভারতের অন্যতম পর্যটন শহর শিলং। কেউ কেউ বলেন, দার্জিলিং যদি হয় রূপের রানী তা হলে শিলং হচ্ছে রাজা।

ম্যাপ দেখে দূরত্ব কুড়ি কিলোমিটারের কম হলেও সীমান্তের যেখানে ইমিগ্রেশন অফিস আছে, সেই তামাবিল থেকে চেরাপুঞ্জি যেতে আপনাকে ঘুরতে হবে প্রায় ৬০ কিলোমিটার পাহাড়ি পথ।

ভারতের সেভেন সিস্টার্সখ্যাত উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের রাজ্য মেঘালয়। বাংলাদেশী ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এটি “ঘরের কাছেই স্কটল্যান্ড” হিসেবে খ্যাত।  এখানে আছে বিশ্বের সর্বাধিক বৃষ্টিপ্রবণ এলাকা উত্তর ভারতের মেঘালয় রাজ্যের চেরাপুঞ্জি। পাশেই রাজ্যের রাজধানী শিলং। মেঘালয়কে বলাা হয় মেঘেদের বাড়ি, যা পর্যটকদের পাশপাশি শিল্প-সাহিত্য অনুরাগীদের অনুপ্রেরণার  জায়গা। বেড়ানোর জন্য সাধ্যের মধ্যে এরচেয়ে আকর্ষণীয় জায়গা খুব কমই খুঁজে পাওয়া যাবে।

বিশ্বের সবচেয়ে বৃষ্টিবহুল স্থান চেরাপুঞ্জিও মেঘালয়েই অবস্থিত। এ রাজ্যের ভৌগলিক কাঠামো অনেকটা পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং, সিকিম ও হিমাচল প্রদেশের মতো। তবে উল্লিখিত তিনটি জায়গার তুলনায় মেঘালয়ে বেড়ানোর খরচ তুলনামূলক অনেক কম। পুরোটাই ঘন সবুজ বনানীতে আচ্ছাদিত এই রাজ্যের নয়নাভিরাম পাহাড়ি দৃশ্য, দৃষ্টিনন্দন লেকসমূহ, নদী অববাহিকা, বিচিত্র প্রজাতির পশুপাখি সবকিছুই এককথায় অসাধারণ। তবে অনেকেই জানেন না এই চেরাপুঞ্জি বাংলাদেশ থেকে কতদূর। ম্যাপ বের করে হিসাব-নিকাশ করে দেখবেন বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে চেরাপুঞ্জি সোজাসুজি কুড়ি কিলোমিটারেরও কম। বাড়ির পাশেই বিশ্বের বৃষ্টিবহুল এই এলাকা, সেখানে আষাঢ় কিংবা শ্রাবণের বৃষ্টি উপভোগ এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা।

ঐতিহাসিকভাবে মেঘালয় ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতিসমৃদ্ধ  সেখানে আষাঢ় কিংবা শ্রাবণের বৃষ্টি উপভোগ করা এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। তাই কম খরচে সহজে ঘুরে আসতে পারেন শিলং-চেরাপুঞ্জি থেকে। অনেকেই বলে থাকেন, দার্জিলিং যদি হয় রূপের রানী তা হলে শিলং হচ্ছে রাজা। বাংলাদেশের সিলেট তামাবিল থেকে চেরাপুঞ্জি যেতে প্রায় ৬০ কিলোমিটার পাহাড়ি পথ পাড়ি দিতে হয়। এটুকু পথ পেরুতে সময় লাগবে অন্তত দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা। শিলং-এর দূরত্ব এরচেয়ে সামান্য বেশি। সময়ও খানিক বেশি লেগে যায়, তবে সীমান্ত পার হয়ে যখন পাহাড়চূড়ার আঁকাবাঁকা পথে চলতে থাকবেন তখন মনে হবে এই দূরত্ব আরও বেশি হলে মন্দ হতো না।

ভারতের মেঘালয় রাজ্যেরা রাজধানী শিলং বেশ জনপ্রিয় একটি পর্যটন শহর। প্রায় ৬,০০০ ফিট উচ্চতায় অবস্থিত শিলং শহর এবং তার আশেপাশে দেখার জন্য অনেক সুন্দর জায়গা আছে। বিশেষত যারা পুরো পরিবার নিয়ে স্বল্প খরচে দেশের বাইরে ঘুরতে যান তারা শিলংকে বেছে নিতে পারেন।

যাওয়ার আগে জেনে নিন:
মেঘালয়ে আপনি নিজস্ব ব্যবস্থাপনায়ও যেতে পারেন আবার সহায়তা নিতে পারেন নির্ভরযোগ্য কোনো ট্যুর অপারেটরের। দ্বিতীয়টি বেছে নিলে আপনাকে ভিসার আনুষ্ঠানিকতা, যাতায়াত ও থাকা-খাওয়া নিয়ে কোনো চিন্তা করতে হবে না। যদিও এতে খরচটা একটু বেশি পড়বে তবে আপনার ভ্রমণ হবে অনেক নিরাপদ এবং দক্ষ ট্যুরিস্ট গাইডের সঙ্গও পাবেন। তবে নিজ ব্যবস্থাপনায় গেলে একটু সতর্ক থাকতে হবে। ভালো ইংরেজি জানলে তা খুব কাজে লাগবে কারণ মেঘালয়ে এই ভাষার ব্যাপক প্রচলন রয়েছে। অবশ্য শিলং শহরে অনেক বাংলাভাষী লোকজনও পাবেন। হোটেল ও ড্রাইভার দুটির ক্ষেত্রেই বাঙালি কিংবা নেপালিদের বেছে নেওয়ার এবং খাসিয়াদের এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন। হোটেল রুম এবং ট্যাক্সি রিজার্ভের সময় সুনিপুণভাবে দরদাম করতে ভুলবেন না। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রাতে বাইরে ঘোরাঘুরি এড়িয়ে চলুন। কারণ রাতের শিলং কিন্তু দিনের মতো নিরাপদ নয়। তামাবিল সীমান্তে যাওয়ার আগেই খেয়াল করে সোনালী ব্যাংকে ভ্রমণ কর পরিশোধ করুন। ডাউকি বাজারে মানি এক্সচেঞ্জ আছে যেগুলো থেকে আপনার যাত্রাপথের খরচের জন্য প্রয়োজনীয় ভারতীয় রুপির ব্যবস্থা করতে পারবেন।

পাসপোর্ট ও ভিসা:
বিদেশ ভ্রমনের জন্য আপনার একটি পাসপোর্ট ও সংশ্লিষ্ট দেশের ভিসা থাকা আবশ্যক। তাই আপনার যদি পাসপোর্ট না থাকে তাহলে পাসপোর্ট করে নিন। শিলং/মেঘালয় সিলেট দিয়ে যেতে চাইলে ভিসা এপ্লিকেশনের পোর্ট অব এন্ট্রি-এক্সিট অবশ্যই ‘BY ROAD DAWKI’ সিলেক্ট করবেন।

ভ্রমণ কর/ট্রাভেল ট্যাক্স:
বাংলাদেশ থেকে বিদেশ ভ্রমণ করলে সরকারকে ভ্রমণ কর বা ট্রাভেল ট্যাক্স দিতে হয়। স্থলপথে ভ্রমণ করের পরিমাণ ৫০০ টাকা যা আগে থেকেই বা বর্ডারে সোনালি ব্যাংকের বুথে জমা দিতে হয়। আমার মতে বর্ডারে সময় ও ঝামেলা এড়াতে যাত্রা শুরুর আগেই ভ্রমণ কর দিয়ে দেয়া উচিৎ। ডাউকিতে ভ্রমণ কর নেয়ার কোন সিস্টেম নেই। এখানে আগে কর দিয়ে না গেলে ঝামেলা হয় আর শেষ ব্যবস্থা হিসেবে ১০০-৩০০ টাকা বেশি দিলে ওরা ব্যাবস্থা করে দেয়।

টাকা/ডলার:
আপনার কত খরচ হতে পারে সেই হিসেবে টাকার বিনিময়ে ডলার এনডোর্স করে নিতে হবে। অথবা ডাউকি থেকে টাকার বিনিময়ে রুপি করে নেয়া যায়। আর ডলার নিলে ডাউকি বাজারে খুব কম রেট দেয়। ডলার ভাংগাতে পারবেন শিলং এ স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া অথবা পুলিশ বাজারের মানি এক্সচেঞ্জ থেকে। সবাই একই রকম রেট দেয়। ডলার এক্সচেঞ্জ করলে রশীদ যত্ন করে রাখুন। অনেক সময় ইমিগ্রেশনে দেখতে চাইতে পারে। আর একটা ব্যপার হল, যদি ডলার নেন তাহলে শিলং ছাড়া ভাল রেটে রুপিতে চেঞ্জ করতে পারবেন না। তাই চাইলে দেশে থেকেও কিছু রুপি নিয়ে যেতে পারেন যাতে করে ডলার ভাঙ্গানোর আগ পর্যন্ত খরচ চালিয়ে নিতে পারেন। তবে মনে রাখবেন ইন্ডিয়ান রুপি ইন্ডিয়ার বাইরে নেয়া ও বাইরে থেকে নিয়ে ইন্ডিয়ায় প্রবেশ করা অবৈধ।

ভ্রমনের উপযুক্ত সময়:
শিলং ও চেরাপুঞ্জির প্রধান বৈশিষ্ট্য হল এখানে প্রচুর বৃষ্টি হয়। আর একারণেই বর্ষার সিজনই উপযুক্ত সময় মেঘালয়ে বেড়াতে যাওয়ার। তাই মে থেকে অক্টোবরই ভাল সময়। নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি এখানে প্রচুর শীত পড়ে (৫-১৫ ডিগ্রী মাত্র)। এখন আপনি আপনার সুবিধামত সময় বেছে নিন।

কীভাবে যাবেন

মেঘালয়ে যেতে হলে আপনাকে আগে সড়ক, রেল কিংবা আকাশপথে সিলেট শহরে পৌঁছতে হবে। শিলং-চেরাপুঞ্জি ভ্রমণের জন্য বিআরটিসি-শ্যামলীর সার্ভিস গ্রহণ করা যেতে পারে। গাড়ি ছাড়ে প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে এবং ফিরে আসে সোমবার রাত ১০টায়। সেক্ষেত্রে ভিসা ফিসহ যাতায়াত বাস ভাড়া সাড়ে পাঁচ হাজার জমা দিতে হয়। আর যদি আপনার ভিসা আগেই করা থাকে তাহলে আপনি শুধু বাসের টিকেট কেটেই যেতে পারেন। মনে রাখবেন ট্রাভেল ট্যাক্স ৫০০ টাকা দিতে হবে, যা রওনা দেওয়ার আগে সোনালী ব্যাংক থেকে দিয়ে যাওয়াই ভালো। ঢাকা থেকে সারা রাতে সিলেট, সেখান থেকে বাসে কিংবা সিএনজি অটো রিকশায় তামাবিল। ভারতের পাহাড়গুলোর ঠিক পাদদেশে বাংলাদেশের এই প্রান্তে সমতলভূমিতে ইমিগ্রেশন-কাস্টম অফিস।

সীমান্ত পার হলেই জায়গাটার নাম ডাউকি। ইমিগ্রেশন-কাস্টমের আনুষ্ঠানিকতা সেরে ভাড়া করতে হবে ট্যাক্সি। শুরুতে শিলং যাওয়াই ভালো। শিলং শহর আর তার আশপাশের জায়গাগুলো ঘুরে বেড়িয়ে তারপর সেখান থেকেই এক দিনের জন্য চেরাপুঞ্জি ঘুরে আসা যাবে।

আর যারা শুধু চেরাপুঞ্জি যেতে চান, তারা ডাউকি থেকেই ট্যাক্সি ভাড়া করবেন চেরাপুঞ্জিতে। তবে সেখানে থাকার মতো বেশি হোটেল এখনও গড়ে ওঠেনি, ফলে আগে থেকে হোটেল বুকিং না থাকলে বিপাকে পড়ে শিলং চলে যেতে হতে পারে।

থাকবেন কই

বাংলাদেশে থাকতেই ইন্টারনেটে শিলংয়ের কোনো হোটেলে অগ্রিম বুকিং দিলে খুবই ভালো হবে। তুলনামূলক সস্তা হোটেলগুলো নগরীর প্রাণকেন্দ্র পুলিশ বাজারে অবস্থিত। শিলংয়ে হোটেলে বসেই আশপাশের দর্শনীয় স্থানগুলোয় বেড়ানোর জন্য হরেকরকম প্যাকেজ পাবেন। এ ছাড়া চেরাপুঞ্জি বেড়ানোর প্যাকেজও পাবেন এখান থেকেই। শিলংয়ে আরো কিছু হোটেলের নাম নিচে দেয়া হল:

হোটেল মুনসন
ভাড়া: ২৫০০ রুপি সিজন অফ সিজন হলে ১৫০০ রুপি ডাবল বেড।

আসুতোস ইনন

জি.এস রোজ, শিলং । ফোন: +91-0364-2221276, +91-9436165135
ভাড়া: ২০০০ রুপী পযর্টক বেশি হলে। কম থাকলে ১০০০/১২০০ রুপি ডাবল বেড।

হোটেল হিল ষ্টার

পুলিশ বাজার, শিলং। ফোন: 0364-2223666
ভাড়া: ৮০০ রুপি ডাবল বেড অন/অফ সিজন একই রেট

চেরাপুঞ্জিতে হলিডে রিসোর্ট, কনিফেরাস রিসোর্ট, পলো অর্কিড রিসোর্ট, সোহরা প্লাজা, হালারি রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড লজিং প্রভৃতি সদা প্রস্তুত আপনাকে উষ্ণ আতিথেয়তা দিতে।

যা যা দেখবেন:

শিলং পিক ও সোহপেতবিনেং পিক: এই দুটি উঁচু জায়গা শিলং শহর থেকে যথাক্রমে ১০ কিলোমিটার ও ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। শিলং পিক হচ্ছে সারা মেঘালয় রাজ্যের উচ্চতম জায়গা যা সমুদ্রপৃষ্ট থেকে ১,৯৬১ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। ঘন সবুজ বনানী সৌন্দর্য বাড়িয়ে একে একটি আদর্শ পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করেছে। পাখির চোখে গোটা শিলং শহরকে দেখতে পারবেন এখান থেকে। মন চাইবে পুরো দিনটাই এখানে কাটিয়ে দিতে। সোহপেতবিনেং পিকের উচ্চতা ১,৩৪৩ মিটার। খাসিয়া, জৈন্তিয়া, ভই প্রভৃতি সম্প্রদায়ের কাছে এটি একটি তীর্থস্থান।

ওয়ার্ডস লেক ও উমিয়াম লেক: শিলং শহরের অভ্যন্তরে অবস্থিত ওয়ার্ডস লেক একটি কৃত্রিম লেক। এটি পলক লেক নামেও পরিচিত। বিচিত্র বর্ণের সব ফুল আর পাইন গাছ ১০০ বছরের পুরনো এই লেকের প্রধান আকর্ষণ। চোখজুড়ানো উমিয়াম লেক শিলং শহর থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দূরে। এর আরেকটি নাম হচ্ছে বড়পানি লেক। নৌকা বাওয়া, নৌকা চড়া, স্কিয়িংসহ আরও অনেক সুযোগ-সুবিধা থাকায় জলক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য এটি একটি চমৎকার স্থান।

ঝরনাসমূহ: হ্যাপি ভ্যালি এলাকায় অবস্থিত সুইট ফলস হচ্ছে মেঘালয়ের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ঝরনাগুলোর একটি। শিলং শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রেংথিয়াম ফলস আরেকটি ফিতাসদৃশ ঝরনা। সুনা ভ্যালিতে অবস্থিত বিশপ ও বিডেন ফলস হচ্ছে আরও দুটি নজরকাড়া ঝরনা। এলিফ্যান্ট ফলস ও স্প্রেড ঈগল ফলসও সৌন্দর্যের বিচারে পিছিয়ে নেই। তবে সবগুলো দেখার মতো সময় না থাকলে বেছে নিন এলিফ্যান্ট ফলসকেই।

পার্কসমূহ: সারা মেঘালয় রাজ্যেই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে চমৎকার সব পার্ক। তবে সবচেয়ে বেশি পর্যটকের সমাবেশ ঘটে শিলং শহরে অবস্থিত লেডি হায়দারি পার্কেই। রাজ্যের প্রথম লেডি এবং আসামের গভর্নরের স্ত্রী হায়দারির নামেই নামকরণ হয়েছে পার্কটির। এক কিলোমিটারেরও বেশি জায়গাজুড়ে বিস্তৃত পার্কটিতে রয়েছে একটি মিনি চিড়িয়াখানা, যেখানে দেখা মিলবে ৭৩ প্রজাতির পাখি, ১৪০ প্রজাতির সরীসৃপ, ভালুক, লোপার্ডসহ আরও বন্যপ্রাণীর। এর পাশাপাশি বিপুল প্রজাতির ফুল আর আকর্ষণীয় বৃক্ষরাজি তো আছেই। মেঘালয়ের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য পার্কগুলো হচ্ছে চেরাপুঞ্জির থাংখারাং পার্ক ও ইকো পার্ক, রি ভই জেলার নেহেরু পার্ক, খারসাতি পার্ক ও থ্রিলস ফান পার্ক এবং জৈন্তিয়া হিল জেলার লালং পার্ক ও লুকসি (কুলপি) পার্ক।

শিলং গলফ কোর্স: ছবির মতো সুন্দর শিলং গলফ কোর্স ভারতের মধ্যে তৃতীয় প্রাচীনতম। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গলফ অ্যাসোসিয়েশন ও জাদুঘর একে ‘গ্লেনঈগল অব দ্য ইস্ট’ হিসেবে গণ্য করে। ১৮৮৯ সালে নয় হোলের গলফ কোর্স হিসেবে যাত্রা করলেও ১৯২৪ সালে ক্যাপ্টেন জ্যাকসন ও সি.কে. রোডস এটিকে ১৮ হোলে রূপান্তর করেন। পাইন ও রডোডেনড্রন গাছে আচ্ছাদিত এক উঁচু-নিচু উপত্যকায় অবস্থিত গলফ কোর্সটি সমুদ্রপৃষ্ট থেকে ৫,৩০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত।

চেরাপুঞ্জি: চেরাপুঞ্জির অবস্থান শিলং শহর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪,৫০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত চেরাপুঞ্জি বিশ্বের সবচেয়ে আর্দ্র স্থান হিসেবে পরিচিত। এক বছরে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের হিসেবে চেরাপুঞ্জি ‘গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে’ অন্তর্ভুক্ত। দারুণ সব উপত্যকা ও নদী চেরাপুঞ্জির সৌন্দর্য অনেকখানি বাড়িয়ে দিয়েছে। সারা বছরই ভ্রমণ করা যায় জায়গাটিতে। শিলং থেকে কার অথবা পাবলিক বাসে করে সকালে চেরাপুঞ্জি গিয়ে আবার বিকেলে ফেরা সম্ভব। আর যদি সব আকর্ষণীয় জায়গা খুব ভালোভাবে ঘুরে দেখতে চান তাহলে একরাত থাকতে পারেন। চেরাপুঞ্জি হলিডে রিসোর্ট, কনিফেরাস রিসোর্ট, পলো অর্কিড রিসোর্ট, সোহরা প্লাজা, হালারি রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড লজিং প্রভৃতি সদা প্রস্তুত আপনাকে উষ্ণ আতিথেয়তা দিতে।

কেভস বা গুহাসমূহ: খাসি হিলস, জৈন্তিয়া হিলস ও গারো হিলসের গুহাগুলো মেঘালয়ে যাওয়া পর্যটকদের জন্য এক বিশেষ আকর্ষণ। মৌসুমাই কেভ, ক্রেম মৌমলুহ ও ক্রেম ডেম খাসি হিলসের প্রধান প্রধান গুহা। জৈন্তিয়া হিলসের গুহাগুলো হলো ক্রেম কটসাটি ও দ্য কেভ অব ইওসিন এজ যেগুলো অন্ধকার ও ভীতিকর। বক-বাক দোবাকল, সিজু-দোবাকল ও তেরেংকল-বালওয়াকল হলো গারো হিলসের দীর্ঘতম ও দুর্গম কিছু গুহা।

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।