ব্রুনাইয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বর্ণিল আয়োজন

0

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতীয় দিবস উদযাপনে ব্রুনাই দারুসসালামে বাংলাদেশের হাইকমিশন রাজধানী তারকা হোটেলে বিদেশী অতিথিদের উপস্থিতিতে জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

২৬ মার্চ সন্ধ্যায় রাজধানী বন্দর সেরি বেগাওয়ানের গাাডংয়ের রিজকুন আন্তর্জাতিক হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন ব্রুনাইয়ের পরিবহন ও তথ্য যোগােযাগ মন্ত্রী দাতো সেরি সেতিয়া আওং আবদুল মুতালিব এবং তার সহধর্মিণী। এছাড়া ব্রুনাইয়ে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিক, ব্রুনাই সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের সদস্য, ব্যবসায়ী, বাংলাদেশ কমিউনিটির ব্যক্তিত্বদের সরব উপস্থিতিতে বর্ণিল হয়ে ওঠে সুবর্ণজয়ন্তী উৎসব।

ব্রুনাইয়ে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার নাহিদা রহমান সুমনা তার বক্তব্যে, সীমান্ত বন্ধ করা ও কঠোর স্বাস্থ্য বিধি কার্যকরের মাধ্যমে কোভিড-১৯ মহামারির সফলভাব মোকাবেলার জন্য ব্রুনাই সরকারকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, এমন ব্যবস্থা ব্রুনাইকে একটি নিরাপদ এবং মডেল দেশে পরিনত করেছে, যখন অনেক দেশ এখনও করোনা মহামারিকে আয়ত্বে অনতে সক্ষম হয়নি।

তিনি মহামারির শুরুর দিনগুলিতে প্রবাসী বাংলাদেশি সম্প্রদায় বিশেষ করে স্বল্প দক্ষ কর্মীদের সহায়তার জন্য ব্রুনাই সরকারের প্রতিকৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন। এ ছাড়া বাংলাদেশের শিবিরে বসবাসরত এক মিলিয়ন রোহিঙ্গা শরানার্থীকে উদার অনুদানের জন্য ব্রুনাই দারুসসালামের সুলতান হাজ্বি হাসসান আল-বলকিয়াহর প্রতি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা জানান।

ব্রুনাইয়ের পরিবহন ও তথ্য যোগােযাগ মন্ত্রী ও  তার সহধর্মিণী বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে নিয়ে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের কেক কাটছেন। পাশে অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত- কূটনীতিকরা
ব্রুনাইয়ের পরিবহন ও তথ্য যোগােযাগ মন্ত্রী ও তার সহধর্মিণী বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে নিয়ে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের কেক কাটছেন। পাশে অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত- কূটনীতিকরা

হাইকমিশনার স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিসংগ্রাম ও তৎপরবর্তী স্বাধীন বাংলাদেশ গঠনে বঙ্গবন্ধুর অনন্য নেতৃত্ব ও অসামান্য অবদানের কথা তুলে ধরে বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর এই মাহেন্দ্রক্ষণে আমরা জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করছি এবং এমন সময়ে জাতিসংঘের উন্নয়ননীতি বিষয়ক কমিটি বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা প্রদান করেছে। এই অর্জন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব এবং বাংলাদেশের মানুষের কঠোর পরিশ্রমের ফসল।

প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলেছে উল্লেখ করে হাইকমিশনার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, আমরা ২০৩০ সালের মধ্যে সহস্রাব্দ উন্নয়ন অভিষ্ট অর্জন, ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্র গঠনের মাধ্যমে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণ করব।

ব্রুনাইয়ের পরিবহন ও তথ্য যোগােযাগ মন্ত্রী দাতো সেরি সেতিয়া আওং আবদুল মুতালিব, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির প্রশংসা করেন এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের জনগণকে শুভেচ্ছা জানান।

অনুষ্ঠানে পরিবহন ও তার সহধর্মিণী বাংলাদেশের হাইকমিশনার নাহিদা রহমান সুমনাকে নিয়ে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের কেক কাটেন। এ সময় দূতালয় প্রধান জিলাল হোসেনসহ বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকালে হাইকমিশন প্রাঙ্গনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উপস্থিতিতে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসের সূচনা করেন ব্রুনাইয়ে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার নাহিদা রহমান সুমনা। এ উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, জাতির পিতা ও তাঁর পরিবারের শহীদ সদস্য এবং মুক্তিযুদ্ধের বীর শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন, বিশেষ দোয়া ও বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন