বেশিরভাগ যাত্রীবাহী বিমানে থাকে না ১৩ নম্বর সারির সিট — জানেন কেন?
এর পেছনে রয়েছে শতাব্দীপ্রাচীন এক ভীতি, ধর্মীয় কাহিনি এবং ব্যবসায়িক কৌশলের এক আশ্চর্য জাল। জানলে আপনি অবাক হবেন!
যখন আপনি ফ্লাইটে উঠেন এবং সিট নম্বরের দিকে নজর দেন, তখন কি খেয়াল করেছেন—১২ নম্বর সারির ঠিক পরেই রয়েছে ১৪, কিন্তু ১৩ কোথায়? এটা কোনো সংখ্যা ভুল নয়, বরং একেবারেই পরিকল্পিত।
বিশ্বের বহু নামী এয়ারলাইন্স ইচ্ছাকৃতভাবে ১৩ নম্বর সারি বাদ দিয়ে থাকে। এর কারণ নিছক প্রযুক্তিগত নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে ধর্মীয় কাহিনি, সাংস্কৃতিক কুসংস্কার এবং যাত্রীদের মনস্তত্ত্বকে গুরুত্ব দিয়ে সাজানো একটি ব্যবসায়িক কৌশল।
‘Triskaidekaphobia’ – তেরো সংখ্যার ভয়
পশ্চিমা সংস্কৃতিতে ১৩ সংখ্যাকে অশুভ হিসেবে ধরা হয়। এই ভয়টির একটি প্রাতিষ্ঠানিক নামও রয়েছে —Triskaidekaphobia।
যাত্রীদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা আগে থেকেই বিমানে ভ্রমণ নিয়ে মানসিক চাপ বা উদ্বেগে থাকেন। এর সঙ্গে যদি ‘অশুভ’ বলে বিবেচিত ১৩ নম্বর সারিতে বসার অভিজ্ঞতা যুক্ত হয়, তাহলে সেই যাত্রা তাদের জন্য আরও অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। এজন্যই অনেক বিমান সংস্থা মনস্তাত্ত্বিক স্বস্তি দেওয়ার লক্ষ্যে ১৩ নম্বর সারি বাদ দেয়।
বিশ্বের জনপ্রিয় এয়ারলাইন্স যেমন এমিরেটস (Emirates), রায়ানএয়ার (Ryanair), ক্যাথে প্যাসিফিক (Cathay Pacific), সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স (Singapore Airlines) এই সংস্কার মেনেই যাত্রীদের স্বস্তির জন্য ১৩ নম্বর সারি এড়িয়ে চলে।
কোথা থেকে এল এই ‘অশুভ ১৩’-এর ধারণা?
১৩ সংখ্যাটিকে অশুভ ভাবার শিকড় গেঁথে আছে ধর্ম ও পুরাণে— খ্রিস্টধর্মে, যীশু খ্রিস্টের শেষ নৈশভোজে মোট ১৩ জন উপস্থিত ছিলেন। বিশ্বাস করা হয়, ১৩তম ব্যক্তি ছিলেন জুডাস, যিনি যীশুর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেন।
নর্স পুরাণে, এক নৈশভোজে অনাহূত ১৩তম অতিথি লোকি, প্ররোচিত করেন হুর নামে এক দেবতাকে, যাতে সে বলদ্র নামের প্রিয় দেবতাকে হত্যা করে।
এইসব ঘটনাই পশ্চিমা সমাজে ১৩ সংখ্যার প্রতি নেতিবাচক মনোভাব গড়ে তুলেছে, যার ছায়া এসে পড়েছে এয়ারলাইন্সের আসন বিন্যাসেও।
যদিও বিষয়টি কুসংস্কারের মতো শোনায়, কিন্তু বিমান সংস্থাগুলো একে ব্যবসায়িক কৌশল হিসেবে গ্রহণ করেছে। যাত্রী যদি ১৩ নম্বর সারিতে বসতে অস্বস্তি বোধ করেন, তাহলে তিনি হয়তো সিট বদলাবেন বা ভবিষ্যতে সেই এয়ারলাইন্সে ভ্রমণ না-ও করতে পারেন। এর ফলে যাত্রী সন্তুষ্টি এবং ব্র্যান্ড ইমেজ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তাই যাত্রীদের মনস্তত্ত্বের কথা মাথায় রেখেই অনেক এয়ারলাইন্স ১৩ নম্বর সারি বাদ দেয়।
শুধু ১৩ নয় — ৪ ও ১৭-ও অশুভ!
জার্মানির জাতীয় বিমান সংস্থা লুফথানসা (Lufthansa) ১৩ নয়, বরং ১৭ নম্বর সারি বাদ দেয়। চীনে ৪ নম্বরকে অশুভ মনে করা হয়, কারণ চীনা ভাষায় “৪” (sì) শব্দটির উচ্চারণ “মৃত্যু”-এর উচ্চারণের কাছাকাছি। এজন্য অনেক চীনা বিল্ডিংয়ে ৪ নম্বর তলা পর্যন্ত থাকে না, বিমানের সিট তো অনেক দূরের কথা!


