বিমানের সেবার মান কাঙ্ক্ষিত মানের না, এমডির স্বীকারোক্তি

0
Travelion – Mobile

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সেবার মান কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নেই এবং বিমানের ক্রুদের আচরণ পরিবর্তন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার কুর্মিটোলায় বিমানের প্রধান কার্যালয়ে ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আমরা আরও দশটি বাণিজ্যিক এয়ারলাইনসের মতো বিমানকে একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করতে চাই। বিমানকে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে চালানোই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।’

বিমানের গ্রাহক সেবা ও লাগেজ হ্যান্ডলিং সেবা প্রত্যাশিত পর্যায়ে নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিমানের গ্রাহক সেবার মান উন্নয়নের সুযোগ আছে। যদি আমরা প্রত্যাশা অনুযায়ী সেবা দিতে না পারি, মানুষ কেন আমাদের টিকিট কিনবে।’

‘আমাদের অন্যান্য উড়োজাহাজ সংস্থার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হবে,’ যোগ করেন তিনি।

বিমানের এমডি জাহিদ হোসেন বলেন, ‘গ্রাহক সেবার মান বাড়াতে পারলে আমরা আরও যাত্রী পাব। আর তা করতে পারলে আমরা ভালো ব্যবসা করতে পারব।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ককপিট ও কেবিন ক্রুদের যাত্রীদের সঙ্গে আচরণে পরিবর্তন আনতে বলেছি। যাত্রীদের সঙ্গে সম্মানজনক ও মানবিক আচরণ করতে বলেছি।’

তিনি জানান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ব্যবসা সম্প্রসারণ করে বার্ষিক আয় ৬ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা করার পরিকল্পনা করেছে।

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বিমান বছরে ৭০০ মিলিয়ন ডলার আয় করছে। কিন্তু আমরা আমাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করে ১ বিলিয়ন ডলার আয় করতে চাই।’

amar lab – mobile

জাহিদ হোসেন বলেন, ‘ব্যবসা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আমরা আমাদের ২১টি উড়োজাহাজের সর্বোত্তম ব্যবহার করব। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন নতুন গন্তব্যে রুট সম্প্রসারণ করবে বিমান। যেখানে চাহিদা আছে সেখানে আমরা ফ্লাইটের সংখ্যাও বাড়াবো।’

লাগেজ হ্যান্ডলিংয়ে নিম্নমানের সেবার বিষয়ে বিমানের এমডি বলেন, ‘বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা প্রত্যাশিত পর্যায়ে নেই।’

শাহজালালে লাগেজ পেতে দেরি হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে আমি এর জন্য দায়ী। আমি এর জন্য অন্যদের দোষ দেবো না।’

গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সার্ভিসে জনবলের ঘাটতি আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জনবল ঘাটতি পূরণে আমরা নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে আশাবাদী।’

বিমানের সদ্য চালু হওয়া টরন্টো ফ্লাইট সম্পর্কে জাহিদ হোসেন জানান, এই রুটে যাত্রীদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে এবং গড়ে প্রায় আড়াইশ যাত্রী এই রুটে যাতায়াত করছেন।

তিনি বলেন, ‘বিমানের ফ্লাইটে ভারত ও নেপালের প্রায় ৭০-৮০ জন ট্রানজিট যাত্রী টরন্টো যাচ্ছেন যা একটি ভালো লক্ষণ।’

টরন্টো ফ্লাইটে যাত্রীদের একাংশের অ্যালকোহল সরবরাহের দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য জানাতে রাজি হননি।

এপ্রিল ও জুন মাসে বিমানের হ্যাঙ্গারে দুর্ঘটনার বিষয়ে তিনি তদারকির ব্যর্থতাকে দায়ী করেন।

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন