বিমানবন্দরে প্রবাসী কর্মীদের হয়রানি বন্ধ হবে : প্রধানমন্ত্রী

0

বিমানবন্দরে প্রবাসী কর্মীদের হয়রানি বন্ধে নজরদারি আরও শক্তিশালী করা হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন,‘আমরা কর্মীদের জন্য স্মার্ট কার্ডের ব্যবস্থা করেছি। স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে কিন্তু বিমানবন্দরে কর্মীর এম্বারকেশন কার্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রিন্ট হয়ে যায়। যার ফলে বিমানবন্দরে কর্মীদের হয়রানি বন্ধ হবে। কর্মীরা যেন ফিরে আসার সময় বিমানবন্দরে হয়রানি না হয়। কারণ সেখানে কিছু কর্মচারী থাকেই যাদের কর্মীর কাছ থেকে টাকা পয়সা হাতিয়ে নেওয়ার প্রবণতা থাকে। সেজন্য আমরা অভিবাসী কর্মীদের জন্য আলাদা ডেস্কের ব্যবস্থা নিচ্ছি। সেখানে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারির ব্যবস্থা আছে এবং গোয়েন্দা সংস্থাকে কাজে লাগানো আছে। সেখানে কিছু হলে আমরা যাতে সঙ্গে সঙ্গে জানতে পারি এবং সঙ্গে সঙ্গে যথাযথ ব্যবস্থা যাতে নিতে পারি সে পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি। এটাকে আরও শক্তিশালী করা হবে। বিমানবন্দরে যেন কর্মীরা হয়রানির শিকার না হন।’

বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস-২০১৯’ উদযাপন অনুষ্ঠানে তিনি এ এসব কথা বলেন।

ধোঁকায় ফেলে বিদেশে কর্মী পাঠালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুশিয়ারি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ধোঁকায় পরে কেউ কেউ তার ছেলে-মেয়ে এমনকি স্ত্রীকেও বিদেশ পাঠিয়ে দেয়। আবার অনেক স্বামী তার স্ত্রীকে বিক্রি করে দেওয়ার ঘটনাও আমরা পেয়েছি। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। দেশের কোথাও যেন কেউ ধোঁকায় না পড়ে। যারা এমন করবে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ধোঁকায় ফেললে দেশের রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর বিষয়ে ব্যবস্থা নেবো। পাশাপাশি বিদেশি রিক্রুটিং এজেন্সিও একই কাজ করলে আমরা সেদেশের সরকারকে অনুরোধ করবো ব্যবস্থা নিতে যাতে এধরনের ঘটনা না ঘটে।’

বিদেশে যাওয়ার আগে সব কিছু যাচাই-বাছাই করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে বলবো তারা যেন শুধু অর্থ উপার্জনের দিকে দৃষ্টি দিয়ে কর্মীদের অযথা বিদেশে না পাঠায়। আমাদের গ্রাম-বাংলার মানুষ কিছু কিছু সময় দালালের খপ্পরে পড়ে যায়। সোনার হরিণের খোঁজে সব কিছু বিক্রি করে বিদেশ চলে যায়। যেহেতু এখন রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ আছে, চাকরি থেকে শুরু করে সব কিছু যাচাই-বাছাইয়ের সুযোগ আছে তাই ভালো করে যাচাইবাছাই করে নেবেন। এর পরেও কিছু লোক ধোঁকায় পড়ে চলে যায়।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখন থেকে বিদেশ যেতে হলে প্রশিক্ষণ নিয়ে যেতে হবে। প্রশিক্ষণ না নিয়ে আর কাজের জন্য বিদেশে যাওয়া যাবে না। এ দিকে আমরা ব্যাপক নজরদারি করছি। এর আগে আমরা লক্ষ্য করেছি, অনেকেই প্রশিক্ষণ না নিয়ে প্রশিক্ষণের কথা বলে বিদেশ যেত। কিন্তু এখন থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়া ছাড়া আর যাওয়া যাবে না। প্রশিক্ষণ নেওয়া বাধ্যতামূলক। এজন্য আমি প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে বলবো, আরও বেশি গভীরভাবে নজর দিতে যেন তারা সঠিক প্রশিক্ষণ নিয়ে বিদেশে যায়।’

তিনি বলেন, যে যে জায়গায় যতগুলো ট্রেনিং হয় তার ওপরেও একটু নজরদারি করে উপযুক্ত ট্রেনিং যাতে তারা পায় এবং ভাষা শিক্ষার ওপরও আমরা গুরুত্ব দিয়েছি। তাই ৯টি ভাষা দিয়ে একটি অ্যাপস তৈরী করে দেয়া হয়েছে যাতে তারা সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষা শিক্ষা করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষতা উন্নয়ন নীতিমালার আলোকে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)-কে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষ জনবল সৃষ্টির দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া ৬টি ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি এবং ৬৪টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ৫৫টি ট্রেডে ৬ লাখ ৮২ হাজার কর্মীকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।

বাসীকল্যাণ এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমেদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। প্রবাসীকল্যাণ এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান ব্যারিষ্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা’র (আইওএম) বাংলাদেশের মিশন প্রধান জর্জি জিগাউরি এবং বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সী (বায়রা) সভাপতি বেনজির আহমেদ এমপি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব সেলিম রেজা অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বিদেশগামী কর্মীদের সুরক্ষার জন্য বীমা পলিসি কর্মসূচির উদ্বোধন করেন এবং প্রবাসী কর্মীদের মেধাবী সন্তানদের মাঝে বৃত্তি প্রদান করেন। একইসঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস উপলক্ষ্যে সরকার ঘোষিত ৪২ জন প্রবাসী সিআইপি’র মধ্য থেকে অনুষ্ঠানে দু’জনকে সিআইপিকে সম্মাননা প্রদান করেন।

প্রধানমন্ত্রী পরে অভিবাসী মেলার উদ্বোধন করেন এবং বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। অন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠানে একটি ভিডিও চিত্রও প্রদর্শিত হয়।

মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, সংসদসদস্যবৃন্দ, সরকারের উচ্চ পদস্থ বিভিন্ন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনিতিকবৃন্দ, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

Loading...