বাহরাইন বিএনপির নতুন কমিটি নিয়ে বিতর্ক, অসন্তোষ ও পদত্যাগ

বাহরাইন বিএনপির নতুন ১৫১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা হওয়ার পরপরই শুরু হয়েছে নানা বিতর্ক ও অসন্তোষ। কমিটি গঠনে অনিয়ম ও পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে কয়েকজন নেতা পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। অনেকে কমিটিকে ‘বাণিজ্যের ফসল’ বলে দাবি করেছেন। পাশাপাশি ‘আওয়ামী লীগের একাংশের সমর্থিত’ বলেও মন্তব্য অনেকের। অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে দায়িত্বশীল শীর্ষ নেতারা বলছেন, এটিক বিচ্ছিন্ন ঘটনা । দীর্ঘদিন পর কমিটি ঘোষণা হয়েছে, এ নিয়ে কিছু আলোচনা-বিতর্ক হওয়া স্বাভাবিক।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শনিবার (৮ মার্চ) ভার্চুয়াল মিটিংয়ে ফয়সাল মাহমুদ চৌধুরীকে সভাপতি এবং আলাউদ্দিন আহমেদকে সাধারণ সম্পাদক করে বাহরাইন বিএনপির নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটির ঘোষণা দেন কেন্দ্রীয় বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও মধ্যপ্রাচ্য সমন্বয়ক আহমেদ আলী মুকিব । দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্বাক্ষরিত ১৫১ সদস্যের এই কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয় গত ১৩ ফেব্রুয়ারি।

কমিটির সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক এরশাদ মোস্তফা ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন,”বিগত স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার শাসনামলে যারা বাহরাইনের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলেছে, তাদের সঙ্গে রাজনীতি করা সম্ভব নয়। আমি শহীদ জিয়ার আদর্শের সৈনিক। তাই আহমেদ আলী মুকিব যে বিতর্কিত পকেট কমিটি দিয়েছেন, তা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি।”

Travelion – Mobile

আগের খবর : অবশেষে বাহরাইন বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষণা

কমিটির সহ-সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম সরকারও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে লেখেন, “আওয়ামী দালালবাজ কমিটি থেকে আমার পদ প্রত্যাহার করলাম। আহমেদ আলী মুকিবের দেওয়া এই দালালবাজ কমিটির নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”

Diamond-Cement-mobile

অশিক্ষিত ব্যক্তির নেতৃত্বে দল কখনোই এগোতে পারে না। ঘৃণাভরে চাপিয়ে দেওয়া এই কমিটি প্রত্যাখ্যান করছি।” তিনি আরও জানান, সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আর্থিক দেন-দরবারের বিষয়টি প্রকাশ করা হবে এবং নৈতিক স্খলনের দায়ে দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত আহমেদ আলী মুকিবের পদত্যাগ দাবি করছি।

নতুন কমিটিকে ফুল দিয়ে বরণ করে নিচ্ছে নেতাকর্মীরা। ছবি : সংগৃহীত
নতুন কমিটিকে ফুল দিয়ে বরণ করে নিচ্ছে নেতাকর্মীরা। ছবি : সংগৃহীত

গত বছরের ১৬ নভেম্বর, কেন্দ্রীয় বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও মধ্যপ্রাচ্য সমন্বয়ক আহমেদ আলী মুকিবের আহ্বানে বাহরাইন বিএনপির সকল ইউনিটের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে মানানমার গালফ গেট হোটেলে সুধী সমাবেশ ও মতবিনিময় সভা হয়। ওই সভায় বাহরাইনের সকল ইউনিটের নেতাদের দলের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছান। তারা সিদ্ধান্ত নেন, নতুন কমিটিতে যেকোনো পদে যে নামই ঘোষণা করা হোক না কেন, সবাই সর্বসম্মতিক্রমে মেনে নেবে এবং একই প্ল্যাটফর্মে থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে। সভার এই সিদ্ধান্ত সকলের স্বাক্ষরিত রেজুলেশনের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়।

এ বিষয়ে নবগঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন আহমেদ বলেন, “এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এত বড় সংগঠনের কমিটি দীর্ঘদিন পর ঘোষণা করা হয়েছে, এ নিয়ে কিছু আলোচনা হবেই। তবে আমরা চেষ্টা করছি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ রেখে বাহরাইন বিএনপিকে মধ্যপ্রাচ্যের মডেল সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে। এখন পর্যন্ত আমি অফিসিয়ালি কারও কোনো পদত্যাগপত্র পাইনি। যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসব লিখছেন, তারা আদৌ বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত কি না, সে বিষয়েও সন্দেহ আছে। কারণ আমাদের কমিটি নিয়ে বেশিরভাগ নেতাকর্মী উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের সভাপতি ফয়সাল মাহমুদ ভাই শিগগিরই বাহরাইনে আসবেন। উনি আসলে আমরা সিনিয়র নেতাকর্মীদের সঙ্গে বসে সব মতবিরোধ নিরসনের চেষ্টা করব। ঐক্যবদ্ধভাবেই আমরা সবাই মিলে বাহরাইন বিএনপিকে শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে কাজ করব।”

একদিকে নতুন কমিটি নিয়ে দলের ভেতরে মতবিরোধ, এক পক্ষের পদত্যাগ আর অসন্তোষ, অন্যদিকে নেতৃত্বের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান-এই দুই অবস্থান বাহরাইন বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করেন বাংলাদেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলটির বাহরাইনের সাধারণ সদস্য ও সমর্থকরা।

সব খবর জানতে, এখানে ক্লিক করে আকাশযাত্রার ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকার অনুরোধ

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!