বাহরাইনে নতুন হালাল নিয়ম চালু হয়েছে, যার আওতায় মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শকরা পণ্য পরীক্ষা করবেন এবং নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে যাচাই করবেন। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে হালাল পণ্যের উৎপাদন ও রপ্তানিতে শরিয়া সম্মতি নিশ্চিত করা এবং বাহরাইনকে আন্তর্জাতিক বাজারে একটি হালাল রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।
পৌরসভা ও কৃষিমন্ত্রী ওয়ায়েল আল মুবারক জানিয়েছেন, “বাহরাইন একটি পূর্ণাঙ্গ হালাল ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলছে, যা আন্তর্জাতিক মান ও উত্তম অনুশীলনের ভিত্তিতে তৈরি। এতে বাহরাইনের তৈরি পণ্য বিশ্বের বিভিন্ন বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে।”
২০২৪ সালের ৬১ নম্বর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, হালাল পণ্য প্রস্তুতির শুরু থেকে বিক্রি পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে ইসলামিক বিধান অনুসরণ বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি, এগুলোকে বাহরাইনের গুণমান নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে হবে।
পরিদর্শন ও অডিট ব্যবস্থা
নতুন ব্যবস্থায় মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শকরা সাইট পরিদর্শন করবেন, নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করবেন এবং উৎপাদন প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করবেন। প্রতিটি কোম্পানিকে মন্ত্রণালয় বা অনুমোদিত সংস্থার দেওয়া হালাল সনদপত্র রাখতে হবে এবং নিজেরাও নিয়মিত চেক করতে হবে।
সনদ প্রদানের নিয়ম ও তত্ত্বাবধান
হালাল সনদ প্রদান করতে আগ্রহী সংস্থাগুলিকে অবশ্যই অনুমোদিত হতে হবে এবং তাদের সক্ষমতা প্রমাণ করতে হবে। ২০২৪ সালের ৬ নম্বর ধারায় এই সংস্থাগুলির দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে, যেমন—খাদ্য ও পরিষেবার নিয়ম পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনে মন্ত্রণালয়ের সাথে কাজ করা।
আইনি পদক্ষেপ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
যেসব প্রতিষ্ঠান নিয়ম না মানবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ২০২৪ সালের ৭৬ নম্বর সিদ্ধান্তের ১৩ নম্বর ধারায় জরিমানার বিধানও রয়েছে।
অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও স্বচ্ছতা
‘বাহরাইন হালাল প্ল্যাটফর্ম’ নামে একটি অনলাইন সিস্টেম চালু হচ্ছে, যেখানে ক্রেতারা দেখতে পারবেন পণ্যটি হালাল সনদপ্রাপ্ত কিনা এবং সেটি কোন সংস্থা দিয়েছে। প্রত্যয়নকৃত পণ্যে একটি অফিসিয়াল চিহ্ন থাকবে, যাতে তারিখ ও নম্বর থাকবে।
আন্তর্জাতিক মান ও প্রশিক্ষণ
বাহরাইন আন্তর্জাতিক হালাল সংস্থার সঙ্গে সংযুক্ত হচ্ছে এবং বিদেশি নিয়মের সঙ্গে নিজের নিয়মের সামঞ্জস্য নিশ্চিত করছে, যাতে বাহরাইনের পণ্য সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়ায় রপ্তানি করা যায়।
পরিদর্শক ও নিরীক্ষকদের নতুন নিয়ম ও পদ্ধতি নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া, বাহরাইন মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সইয়ের বিষয়েও চিন্তা করছে।
মন্ত্রী আল মুবারক বলেন, “আমরা এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংসদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি।”
সব খবর জানতে, এখানে ক্লিক করে আকাশযাত্রার ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকার অনুরোধ


