বাহরাইনে প্রবাসীদের ড্রাইভিং লাইসেন্স রেসিডেন্সির সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাব, বিতর্ক তুঙ্গে

বাহরাইনে প্রবাসীদের ড্রাইভিং লাইসেন্স তাদের রেসিডেন্সি পারমিটের মেয়াদের সঙ্গে যুক্ত করার একটি প্রস্তাবিত বিল নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। আইনপ্রণেতারা অনুমোদন দিলে এই পরিবর্তন কার্যকর হতে পারে।

প্রস্তাবিত দুটি বিলের একটি অনুযায়ী, প্রবাসীদের লাইসেন্সের মেয়াদ তাদের বসবাসের অনুমতির ওপর নির্ভর করবে। অন্য প্রস্তাবে বিদেশি আবেদনকারীদের জন্য আলাদা নিয়ম নির্ধারণে নির্বাহী বিধিমালার সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে।

এ প্রস্তাবগুলোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক সংসদীয় কমিটি। তাদের মতে, এই উদ্যোগ ট্রাফিক জট কমাতে সহায়ক হতে পারে, কারণ এতে প্রবাসীদের লাইসেন্স ইস্যু প্রক্রিয়ায় কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ বাড়বে।

Travelion – Mobile

তবে সরকার এ বিষয়ে বাস্তবায়ন জটিলতার কথা তুলে ধরেছে। তারা জানিয়েছে, বর্তমানে লাইসেন্স ইস্যু বা নবায়নের জন্য বৈধ রেসিডেন্সি বাধ্যতামূলক। তাই নতুন করে লাইসেন্সকে সরাসরি রেসিডেন্সির সঙ্গে যুক্ত করলে ফি, নবায়নের সময়সীমা এবং ভিন্ন মেয়াদের রেসিডেন্সির ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

সরকার আরও জানায়, সব ক্ষেত্রে এই প্রস্তাব কাঙ্ক্ষিত ফল নাও দিতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়, বাহরাইনের “গোল্ডেন রেসিডেন্সি” ১০ বছরের জন্য বৈধ, যা সাধারণ ড্রাইভিং লাইসেন্সের ৫ বছরের মেয়াদের দ্বিগুণ। ফলে দুই ব্যবস্থাকে একসঙ্গে যুক্ত করা যৌক্তিক নাও হতে পারে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ প্রস্তাব নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। তাদের মতে, এতে লাইসেন্স নবায়নের সময় এক থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে ভিন্নতা তৈরি হতে পারে এবং ট্রাফিক বিভাগের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়বে। এছাড়া, বিদেশিদের গাড়ি চালানোর অধিকার সীমিত করা হলে তা মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

দ্বিতীয় বিলটি আরও বেশি সমালোচনার মুখে পড়েছে। এতে নির্বাহী বিধিমালার মাধ্যমে বিদেশিদের জন্য আলাদা নিয়ম নির্ধারণের প্রস্তাব থাকলেও সরকার বলছে, বর্তমান আইনেই এ ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে। বিচার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও একমত হয়ে জানিয়েছে, এই প্রস্তাব ট্রাফিক জট কমাবে না এবং চলাচলের স্বাধীনতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।

এদিকে,জাতীয় মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে, ড্রাইভিং লাইসেন্স সংক্রান্ত মৌলিক নীতিমালা আইনের মধ্যেই থাকা উচিত এবং অতিরিক্ত ক্ষমতা নির্বাহী কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হলে আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদের সঙ্গে সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

সব ধরনের আপত্তি সত্ত্বেও সংসদীয় কমিটি বিলের মূল কাঠামো অপরিবর্তিত রেখেছে। তবে প্রস্তাবনার একটি ছোট সংশোধনী আনা হয়েছে, যেখানে ২০১৮ সালের সংশোধনের উল্লেখ পরিবর্তন করে “এবং এর সংশোধনসমূহ” যুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

সব খবর জানতে, এখানে ক্লিক করে আকাশযাত্রার ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকার অনুরোধ

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!