বাহরাইনে গৃহকর্মী শোষণের অভিযোগে ‘ত্রাণকর্তা’ প্রবাসী নারী গ্রেপ্তার

তিনি ছিলেন পলাতক গৃহকর্মীদের কাছে এক ‘ত্রাণকর্তা’। খাবার, আশ্রয়, চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে যে নারী তাদের আশায় বুক বাঁধাতেন, তিনিই গড়ে তুলেছিলেন গৃহকর্মী সরবরাহকারী চক্র, যার আড়ালে শোষণ করতেন গৃহকর্মীদের।

বাহরাইনের রাজধানী মানামায় পলাতক গৃহকর্মীদের আশ্রয় দেওয়ার নামে মানব পাচার করতেন এমন এক প্রবাসী নারীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মানব পাচার বিরোধী বিভাগ। তাকে শহরের একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে আটক করা হয়, যা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অভিবাসী শ্রমিকদের আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো অভিযানে ধরা পড়া ওই নারী নিজেকে ‘ত্রাণকর্তা’ হিসেবে পরিচয় দিতেন। তিনি মূলত পৃষ্ঠপোষকদের বাসা থেকে পালিয়ে আসা নারী গৃহকর্মীদের আশ্রয় ও নতুন চাকরির মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে নিজের দখলে রাখতেন এবং আর্থিকভাবে তাদের শোষণ করতেন।

তদন্তে উঠে এসেছে—তিনি মূলত তিন-চার বছর আগে বাহরাইনে এসেছিলেন খণ্ডকালীন গৃহকর্মী হিসেবে। কিন্তু পরে তিনি পালিয়ে আসা গৃহকর্মীদের আশ্রয় দেওয়ার আড়ালে তাদের শোষণ ও পাচারের কারবার শুরু করেন। প্রতি গৃহস্থ পরিবারে গৃহকর্মী পাঠানোর বিনিময়ে তিনি ৩৫ বাহরাইনি দিনার নিতেন এবং শ্রমিক পরিবহনকারী চালকদের ৫ দিনার দিতেন।

Travelion – Mobile

অভিযানের সময় পুলিশ ওই অ্যাপার্টমেন্টে এক গৃহকর্মীকেও পায়, যিনি সম্প্রতি তার নিয়োগকর্তার বাসা থেকে পালিয়ে এসেছিলেন।

Diamond-Cement-mobile

এ ঘটনায় তৃতীয় উচ্চ ফৌজদারি আপিল আদালত অভিযুক্ত নারীকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ৫০০ দিনার জরিমানা করেছে। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, তিনি সচেতনভাবে একজন অবৈধ অভিবাসীকে সহায়তা ও আশ্রয় দিয়েছেন।

পাচারকারীর সঙ্গে যুক্ত আরেক গৃহকর্মী, যার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তাকে ১০ দিনার জরিমানা করা হয়েছে এবং তাকে বাহরাইন থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাহরাইনের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মানব পাচার প্রতিরোধে দেশজুড়ে অভিযান চালানো হচ্ছে। এমন অপরাধ ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারি, জনসচেতনতা এবং নাগরিকদের সহযোগিতা জরুরি বলে মনে করছে প্রশাসন।

সব খবর জানতে, এখানে ক্লিক করে আকাশযাত্রার ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকার অনুরোধ

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!