বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও উন্নত করতে উন্মুখ ওমান : বাংলাদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত

জাতীয় দিবসের বাণী

বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর ও সম্প্রসারিত করতে আন্তরিকভাবে আগ্রহী ওমান সালতানাত। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারসহ পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের সাথে সব ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ওমানের রাষ্ট্রদূত জামিল হাজী ইসমাইল আল বালুশি।

ওমানের জাতীয় দিবস উপলক্ষে বিশেষ বাণীতে তিনি বলেন, এই বছর ওমান সালতানাত এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ তাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর উদযাপন করছে—যা দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতার দৃঢ় বন্ধনের প্রতিফলন।

রাষ্ট্রদূত জানান, ১৯৮৩ সালে বাংলাদেশ ওমানে চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স পর্যায়ে কূটনৈতিক মিশন স্থাপন করে এবং ১৯৯৫ সালে তা রাষ্ট্রদূত পর্যায়ে উন্নীত হয়। অন্যদিকে, ২০০১ সালে ওমান ঢাকায় প্রথম প্রতিনিধি অফিস খুলে এবং ২০১২ সালে পূর্ণাঙ্গ দূতাবাস প্রতিষ্ঠা করে। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ২ অক্টোবর ওমান বাংলাদেশে প্রথম আবাসিক রাষ্ট্রদূত নিয়োগের মধ্য দিয়ে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও এক ধাপে উন্নীত হয়।

Travelion – Mobile

বাংলাদেশি প্রবাসীরা দুই দেশের সম্পর্কে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে ওমানে প্রায় ৭ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। সালতানাতের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তাদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহের দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি দুই দেশের জ্বালানি সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করেছে।

জামিল হাজী ইসমাইল আল বালুশি বলেন, বাংলাদেশ ও ওমানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আগামী দিনে আরও সুদৃঢ় হবে এবং সকল ক্ষেত্রে সহযোগিতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে—এই প্রত্যাশা অব্যাহত থাকবে।

বাণীতে ওমানের জাতীয় দিবসের ইতিহাস তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বলেন, ১৭৪৪ সালের ২০ নভেম্বর ইমাম আহমেদ বিন সাইদ আল বুসাইদি আধুনিক ওমানি রাষ্ট্রের ভিত্তি স্থাপন করেন। জাতীয় দিবস ওমানের ঐক্য, স্বাধীনতা ও গৌরবের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর দিন।

Diamond-Cement-mobile

তিনি আরও বলেন, প্রয়াত সুলতান কাবুস বিন সাইদের শাসনামলে শুরু হওয়া নবজাগরণ আজ মহামান্য সুলতান হাইথাম বিন তারিকের নেতৃত্বে আরও এগিয়ে চলছে। ওমান ভিশন ২০৪০ দেশের অর্থনীতিকে বৈচিত্র্যময় ও আধুনিক করার পাশাপাশি একটি উন্নত সমাজ ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে।

২০২৫ সালকে ওমানের অর্থনৈতিক ও আর্থিক সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান—সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা বৃদ্ধি, উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়নে আন্তর্জাতিক চুক্তি,রাজস্ব বৈচিত্র্য আনতে প্রগতিশীল কর ব্যবস্থার প্রস্তুতি, তেল বহির্ভূত খাতে জিডিপির ৬৫% অবদান, সরকারি ঋণ প্রায় ৩৫% হ্রাস, এসব অর্জন ওমানের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক আস্থা বৃদ্ধির প্রমাণ।

পরিবেশ সংরক্ষণে ওমানের অঙ্গীকার তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বলেন, ২০৫০ সালের মধ্যে নেট-শূন্য কার্বন নির্গমন নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সবুজ হাইড্রোজেন প্রযুক্তি বিস্তারে গুরুত্ব দিচ্ছে সালতানাত। ইতোমধ্যে ৩১টি প্রাকৃতিক সংরক্ষণ এলাকা ঘোষণা এবং ৩০ লাখেরও বেশি গাছ রোপণ করা হয়েছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রকৃতি সংরক্ষণে।

তিনি বলেন, “ওমানের জাতীয় দিবস নিষ্ঠা, কাজ ও অর্জনের এক গৌরবময় যাত্রার প্রতীক। সুলতান হাইথাম বিন তারিকের বিচক্ষণ নেতৃত্বে দেশ উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য ধরে এগিয়ে যাচ্ছে। ন্যায়বিচার, সহনশীলতা ও আশাবাদী নাগরিকগোষ্ঠী গড়ে উঠছে—এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথে।”

এভিয়েশন, পর্যটন আর প্রবাসের সব খবর পেতে, এখানে ক্লিক করে আকাশযাত্রার ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকার অনুরোধ

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!