পোশাকের উপর নির্ভর নয় ‘বিকৃতমস্তিষ্ক অনুভূতি’

0

অভিনন্দন লিজ ট্রুস!! যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী। কোথাও প্ল্যাকার্ডে লেখা পড়েছিলাম “ছোট কাপড় পরে কেউ বিজ্ঞানী হতে পারে না” কিন্তু প্রধানমন্ত্রী হতে পারবে সেটা জানতাম না।

পৃথিবীর বয়স ৪৫৪৩ মিলিয়ন বছর, পৃথিবীর বুকে জীবনের অস্তিত্বের বয়স ৩৫০০ মিলিয়ন বছর, মানুষের আধুনিক রূপ মাত্র ২ লক্ষ বছর আগের আর সভ্যতা মাত্র ৬ হাজার বছর পুরানো। শিল্পায়ন শুরু হয়েছিল ১৮০০ এর দশকে।

মানুষ ১ লক্ষ ৮০ হাজার বছর আগে (বরফ যুগের আগে) পোশাক পরা শুরু করেছিল – সেই থেকে প্রতিনিয়ত নানা আয়োজনে, নানা প্রয়োজনে পোশাকের আকৃতি, আকার, গঠন, গড়ন, রুপ, নকশা পরিবর্তন হচ্ছে মানুষের রুচি, তাপমাত্রার উষ্ণতা, পরিবেশ, পরিমণ্ডল ও বাতাবরণের উপর নির্ভর করে।

জীবনের প্রথম অস্তিত্বের দিন থেকে প্রথম পোশাক পরা পর্যন্ত কত মিলিয়ন বছর যে মানুষ ল্যাংটা ছিল!! তাই বলে এখন ল্যাংটা থাকা বা ২ হাজার বছর আগের নির্দিষ্ট কোন পোশাককে ‘সমবর্তী’ পোশাক হিসেবে পরিধানে বাধ্য করাটা একেবারে অন্যায্য, অশিক্ষা, অশিষ্ট ও অসভ্য আচরণ বৈকি!!

গত তিন দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যের মরুর দেশ কাতারে আছি। কর্মক্ষেত্রে পুরুষ সহকর্মীর পাশাপাশি নারী সহকর্মীরা একসাথে কাজ করি। কর্মক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা ও সমাধান, ক্যান্টিনে বসে চা-গল্প, খাওয়া, জন্মদিন, বিবাহ বার্ষিকী উদযাপন, নতুন সন্তান জন্মদানের উৎসব, পদোন্নতি – এমন কি কখনো কখনো চুল কাটাও উদযাপন করি।

নারী সহকর্মীরা মূলত ভারত, ফিলিপাইন, লেবানন, মিশর, সিরিয়া, প্যালেস্টাইন, তিউনিসিয়া ও নেপালের এবং তাদের বেশিরভাগ ছোট/মিনি স্কার্ট, জিন্স স্কার্ট, ডেনিম স্কার্টের সাথে ক্রপ টপ, ক্যামি টপ, বডিস্যুট, অফ শোল্ডার টপ পরে অফিসে আসে। লেখাপড়া, দক্ষতা, পারদর্শিতায় সেসব নারীরা পুরুষ সহকর্মীর সমকক্ষ ও ঊর্ধ্বস্থ।

পোশাকের কারণে সহকর্মীদের অল্পবিস্তর খোলা দেহ বা স্ফটিক সাদা পা জোড়া দেখে কখনো বিকৃতমস্তিষ্ক উদ্ভূত ‘অনুভূতি’ জাগেনি।

কারণ, প্রথমতঃ কাতার একটি শতভাগ মুসলিম দেশ আবার একই সাথে একটি কসমোপলিটান নগরী। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিভিন্ন জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্রের মানুষ এসে এদেশে কাজ ও বসবাস করা মানুষের পোশাকের ভিন্নতা রয়েছে।

বোরকা, নেকাব, হিজাব পরা নারী যেমন দেখবেন এরচেয়ে বেশি দেখবেন নাম মাত্র পোশাকের নারীদের। কিন্তু মধ্যরাতে নিঃসঙ্গ সেই নাম মাত্র পোশাকের নারীর প্রতি কারও অঙ্গভঙ্গি, ইঙ্গিত, সংকেত, কটূক্তি বিদ্রূপ, ব্যঙ্গ করার সাহস হয় না কারণ এই দেশের আইন। পরক্ষণে আপনি ‘নাই’ হয়ে যাবেন।

আমার মত অনেক প্রবাসীরা স্ত্রী, সন্তান এই দেখে রেখে বিভিন্ন প্রয়োজনে দেশে গিয়ে মাসের পর মাস নিশ্চিন্তে থাকতে পারে কারণ নিরাপত্তা, সুরক্ষা, নিয়মিত বা জরুরি চিকিৎসা, আইনসংক্রান্ত সহযোগিতার দায়িত্ব এই রাষ্ট্রের। এই প্রবাসে ভিক্টিম বা অন্যকারো কোন মাথাব্যথা, দায়িত্ব বা সংশ্লিষ্টতা থাকে না। একই শাসন উপসাগরীয় অন্যান্য দেশগুলোতেও।

সুতারাং আপনার ‘বিকৃতমস্তিষ্ক অনুভূতি’ নির্ভর করে সেই দেশের শাসনব্যবস্থা, আইন প্রয়োগ, সভ্যতা, সংস্কৃতি, কৃষ্টি, শিক্ষার উপর-পোশাকের উপর নয়।

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন