নেপালে চলমান সহিংস বিক্ষোভের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের টিম হোটেলে হামলার চেষ্টা হয়েছে। আন্দোলনকারীরা মঙ্গলবার দুপুরে কাঠমান্ডুর ক্রাউন ইম্পেরিয়াল হোটেলের মূল ফটকে ভাঙচুর চালায় এবং ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে। তবে হোটেল কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এ সময় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন খেলোয়াড়রা।
বাংলাদেশ দলের স্ট্রাইকার সুমন রেজা মুঠোফোনে বলেন, “আন্দোলনকারীরা গেট ভাঙার চেষ্টা করেছিল, কয়েকজন ভেতরে ঢুকতেও চেয়েছিল। এসব দেখে আমরা খুব ভয় পেয়ে যাই।”
বাংলাদেশ দল গত ৩ সেপ্টেম্বর এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের প্রস্তুতি হিসেবে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলতে নেপালে গিয়েছিল। ৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত প্রথম ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়। আজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল দ্বিতীয় ম্যাচ, তবে বিক্ষোভের কারণে তা স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজধানীর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সব ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় দেশে ফেরতও সম্ভব হয়নি।
খেলোয়াড়রা জানাচ্ছেন, দুই দিন ধরে তারা কার্যত হোটেলে বন্দি। রাইট উইঙ্গার শাহরিয়ার ইমন বলেন, “আমরা ভালো আছি, তবে টেনশন কাজ করছে। যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরতে চাই।” ডিফেন্ডার তাজ উদ্দিনের ভাষ্য, “এই পরিস্থিতিতে এখানে থাকাটাই চিন্তার বিষয়।”
অভিজ্ঞ লেফটব্যাক ইসা ফয়সাল জানান, তাদের হোটেলের পাশের একটি সংসদ সদস্যের বাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয়, ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
প্রথমবার জাতীয় দলে ডাক পাওয়া আবদুল্লাহ ওমর বলেন, “কল্পনায়ও ছিল না খেলতে এসে এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হবে।”
এদিকে গোলকিপার সুজন হোসেন জানান, দেশে থাকা তার বাবা–মা দুশ্চিন্তায় আছেন। তিনি বলেন, “পরিস্থিতি এখন কিছুটা ভালো। তবে মা–বাবা বারবার ফোন করছেন। আমি তাদের আশ্বস্ত করেছি আমরা ভালো আছি।”
নেপালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধের প্রতিবাদে তরুণদের আন্দোলন শুরু হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ১৯ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে.পি. শর্মা অলি পদত্যাগ করেছেন।


