নেপালে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলাদেশ দূতাবাসের পহেলা বৈশাখ উদযাপন

নেপালে বিপুল উৎসাহ ও উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস।। দিনব্যাপী এ আয়োজনে নেপাল সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও মিশনপ্রধান, নেপালি ব্যবসায়ী এবং প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে নেপালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শফিকুর রহমান পহেলা বৈশাখের উৎপত্তি, ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, এ উৎসব আজ বাংলাদেশের একটি সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে, যা বাঙালি জাতিসত্তার স্বতন্ত্র ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ধারণ করে।

তিনি বলেন, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ‘হালখাতা’ ও নব সূচনার আহ্বান নিয়ে এই দিনটি বাঙালির সামাজিক জীবনে ফিরে আসে। ধর্মীয়, সামাজিক ও ভৌগোলিক সীমারেখা অতিক্রম করে এটি প্রাচীন বাঙালি সংস্কৃতি ও রীতির এক প্রাণবন্ত বহিঃপ্রকাশ।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন নেপালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শফিকুর রহমান
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন নেপালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শফিকুর রহমান

দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে একই সময়ে নববর্ষ উদযাপনের প্রসঙ্গ টেনে রাষ্ট্রদূত বলেন, এই উৎসব রাষ্ট্রসীমা ছাড়িয়ে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে সাংস্কৃতিক বন্ধন, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক বোঝাপড়া জোরদার করে।

Travelion – Mobile

এ প্রসঙ্গে তিনি প্রাচীন আধ্যাত্মিক সাহিত্য‘চর্যাপদ’-এর কথা উল্লেখ করেন, যা বাংলা ভাষার প্রাচীনতম লিখিত নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত এবং দক্ষিণ এশিয়ার অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও নেপালের ঐতিহ্যগত এই সংযোগ দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় ও পর্যটন সহযোগিতার ভিত্তি আরও শক্তিশালী করেছে।

অনুষ্ঠানের গেস্ট অব অনার সার্কের মহাসচিব মো. গোলাম সারওয়ার, বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রশংসা করেন। তিনি দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে আঞ্চলিক সাংস্কৃতিক বিনিময়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং পহেলা বৈশাখকে বৈচিত্র্যের মাঝে সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে অভিহিত করেন।

Diamond-Cement-mobile

অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় বাংলা নববর্ষের গান পরিবেশনের মাধ্যমে দূতাবাস প্রাঙ্গণে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। বাংলা গানের পাশাপাশি নেপালি গানও পরিবেশন করা হয়, যা দুই দেশের গভীর সাংস্কৃতিক বন্ধনকে প্রতিফলিত করে।

নেপালি শিল্পী সাবু লামা ও স্থানীয় শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে বাংলা গান পরিবেশন বিশেষ আকর্ষণ হয়ে ওঠে। এছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশিরাও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেন। শিশুদের জন্য বিভিন্ন খেলাধুলা ও পুরস্কার বিতরণের আয়োজন উৎসবে বাড়তি আনন্দ যোগ করে।

দূতাবাস প্রাঙ্গণ বর্ণিল ফেস্টুন ও ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি উপকরণ দিয়ে সাজানো হয়। নকশিকাঁথা, জামদানিসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী পোশাক প্রদর্শন করা হয়। অতিথিদের পরিবেশন করা হয় পান্তা-ইলিশ, পিঠা ও নানা ধরনের মিষ্টান্নসহ ঐতিহ্যবাহী খাবার।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে পহেলা বৈশাখ এবং নেপালের নববর্ষ—উভয়ই এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে উদযাপিত হয়, যা এ অঞ্চলের অভিন্ন ঋতুচক্র ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিফলন। অনুষ্ঠানটি নৈশভোজের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়।

সব খবর জানতে, এখানে ক্লিক করে আকাশযাত্রার ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকার অনুরোধ

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!