নীরব কষ্টেই নিভে গেল লেবাননপ্রবাসী মেহেদির জীবন

দূর প্রবাসে জীবিকার সন্ধানে গিয়ে আর ফেরা হলো না লেবাননপ্রবাসী বাংলাদেশি রেমিট্যান্সযোদ্ধা, কুমিল্লার যুবক মেহেদি হাসানের। নীরব কষ্টের ভার বইতে না পেরে নিভে গেল তার জীবনের প্রদীপ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

ঘটনাটি ঘটে গত ২৮ ডিসেম্বর (রবিবার)। ওই দিন লেবাননের রাজধানী বৈরুতের উপশহর কুক্কুদি এলাকায় নিজ আবাসিক কক্ষে ঝুলন্ত অবস্থায় মেহেদি হাসানের মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ।

নিহত মেহেদি হাসান ছিলেন কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া থানার বড়দসিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আব্দুল হাকিমের ছেলে।

Travelion – Mobile

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, জীবিকার তাগিদে ২০১৫ সালে তিনি লেবাননে পাড়ি জমান। প্রবাসজীবনে নানা প্রতিকূলতার মাঝেও তিনি কুক্কুদি এলাকায় একটি স্থানীয় পেট্রোল পাম্পে কর্মরত ছিলেন।

প্রবাসে কাজ করতে গিয়ে তার জীবনে আসে ভালোবাসা। ফরিদপুর জেলার রাজবাড়ির এক নারী কর্মীর সঙ্গে পরিচয় থেকে প্রেম এবং পরে সেই সম্পর্ক বিয়েতে গড়ায়। তাদের সংসারে জন্ম নেয় একটি সন্তানও। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দাম্পত্য জীবনে অশান্তি বাড়তে থাকে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

Diamond-Cement-mobile

গত কয়েক মাস ধরে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিল না। পারিবারিক কলহের প্রভাব পড়ে তার মানসিক অবস্থার ওপর। একপর্যায়ে দেশে থাকা পরিবার-পরিজনের সঙ্গেও যোগাযোগ কমে যায়, পরে সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। নীরবে, নিভৃতে, নিজের ভেতরেই জমতে থাকে অভিমান আর হতাশা।

শেষ পর্যন্ত সেই নীরব কষ্টই কেড়ে নিল একটি তাজা প্রাণ।

মেহেদি হাসানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই বাংলাদেশে তার পরিবার ও লেবাননে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। স্বজনরা বলছেন, প্রবাসের একাকিত্ব, পারিবারিক টানাপোড়েন আর মানসিক চাপ—সব মিলিয়ে তিনি ভেঙে পড়েছিলেন।

এই ঘটনা আবারও প্রবাসীদের মানসিক স্বাস্থ্য, একাকিত্ব এবং পারিবারিক সংযোগের গুরুত্বকে সামনে এনে দাঁড় করাল। দূর দেশে রেমিট্যান্সযোদ্ধাদের হাসির আড়ালে লুকিয়ে থাকা বেদনার গল্পগুলো অনেক সময়ই থেকে যায় অদৃশ্য। মেহেদি হাসানের মৃত্যু সেই নীরব কষ্টেরই করুণ স্মারক।

এভিয়েশন, পর্যটন আর প্রবাসের সব খবর পেতে, এখানে ক্লিক করে আকাশযাত্রার ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকার অনুরোধ

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!