নিউইয়র্কে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত প্রবাসী দিদারুলের দেশের বাড়িতে শোকের ছায়া
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত হয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশি দিদারুল ইসলাম (৩৬)। স্বজনদের কাছে তিনি ‘রতন’ নামেই পরিচিত ছিলেন। তাঁর জন্ম মৌলভীবাজারের কুলাউড়া পৌর শহরের উত্তর মাগুরা এলাকায়। তবে পরিবারের সবাই দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন।
নিহতের ফুফু তাহেরা বেগম জানান, বছরখানেক আগে দিদারুল তাঁর স্ত্রী, দুই সন্তান ও বৃদ্ধ মা-বাবাকে নিয়ে বাংলাদেশে বেড়াতে এসেছিলেন। তিনি বলেন, “কত হাসিখুশি ছিল ছেলেটা! আপন ফুফুর চেয়েও বেশি ভালোবাসত। সকালে নিউইয়র্ক থেকে ফোনে জানতে পারলাম, ছেলেটা আর নেই। বিশ্বাসই হচ্ছিল না।”
দিদারুলদের বাড়ির একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকেন কুলাউড়া সরকারি কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক আবু জাফর সাদেক। তিনি বলেন, “ছেলেটা খুব ভদ্র আর সম্ভাবনাময় ছিল। ইংরেজিতে কষ্ট হলে আমার কাছে আসত। নিউইয়র্কে পুলিশে চাকরি পেয়েছিল শুনে খুব খুশি হয়েছিলাম। সেই ছেলেটাই আজ নেই—এটা ভাবতেই কষ্ট হয়।”
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দিদারুলের বাবার নাম আবদুর রব। তিনি একসময় কুয়েতে ছিলেন। পরে দেশে ফিরে কুলাউড়ায় বসতি গড়ে তোলেন। ২০০৯ সালে পুরো পরিবার যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমায়। দিদারুল কুলাউড়া সরকারি কলেজ থেকে ওই বছর এইচএসসি পাস করেন। যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যান এবং তিন বছর আগে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে (NYPD) কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন। পরে মামাতো বোনকে বিয়ে করেন। তাঁদের সংসারে দুটি শিশু রয়েছে, আর তাঁর স্ত্রী বর্তমানে সন্তানসম্ভবা।
তাহেরা বেগম জানান, ঘটনার আগের দিন দিদারুল মাত্র দুই ঘণ্টা বিশ্রাম নিয়ে জরুরি ফোন পেয়ে কাজে বেরিয়ে যান। বের হওয়ার আগেই ভিডিও কলে দুই বোনের সঙ্গে কথা বলেন—এটাই ছিল পরিবারের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা।
গত সোমবার (স্থানীয় সময়) রাতে নিউইয়র্কের ম্যানহাটান পার্ক অ্যাভিনিউর একটি বহুতল ভবনে দিদারুল তাঁর পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলেন। হঠাৎ শেন ডেভন তামুরা (২৭) নামের এক বন্দুকধারী বুলেটপ্রুফ ভেস্ট ও এআর-১৫ রাইফেল নিয়ে সেখানে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি চালান। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন দিদারুলসহ আরও তিনজন। আহত হন দুজন। পরে হামলাকারী নিজেও আত্মঘাতী হন।
মঙ্গলবার সকালে নিউইয়র্ক পুলিশ দিদারুলের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। তাঁর মৃত্যুতে কুলাউড়া ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
#
এভিয়েশন, পর্যটন আর প্রবাসের সব খবর পেতে, এখানে ক্লিক করে আকাশযাত্রার ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকার অনুরোধ


