সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির পর মধ্যপ্রাচ্যের দেশ বাহরাইনধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছে। কয়েক সপ্তাহের উত্তেজনার পর দেশজুড়ে হালকা বৃষ্টিও যেন শান্তির প্রতীক হয়ে উঠেছে।
মঙ্গলবার রাজধানী মানামা জুড়ে হালকা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়েছে। বাসিন্দারা এটিকে এক শান্ত ও ভাবনাময় মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন, কারণ ধীরে ধীরে সড়ক ও জনজীবন আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে।
গত ৪০ দিনেরও বেশি সময় ধরে দেশটি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় ছিল। তবে এই সময়েও দৈনন্দিন জীবন পুরোপুরি থেমে যায়নি। রেস্তোরাঁ, শপিং মল ও দোকানপাট বেশিরভাগ সময় খোলা ছিল। কর্তৃপক্ষের পরামর্শে কেবল কিছু সময়ের জন্য সেগুলো বন্ধ রাখা হয়েছিল।
মানুষ নিয়মিত কেনাকাটা, বাইরে খাওয়া ও চলাফেরা চালিয়ে গেছে। অনেকেই বলছেন, দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি আস্থা থাকায় তারা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পেরেছেন।
বাহরাইন সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, শত্রুপক্ষের হামলার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১৯৪টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৫১৫টি ড্রোন ধ্বংস করেছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এটি বাহরাইনের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার সক্ষমতার প্রমাণ।
ওয়েসিস মলে- কথা বলা এক আরব প্রবাসী, যিনি ২০ বছরের বেশি সময় ধরে বাহরাইনে আছেন, বলেন, “আমি কখনো নিজের দেশে ফিরে যাওয়ার কথা ভাবি না। বাহরাইন নিরাপদ, এটি আমার দ্বিতীয় বাড়ির মতো।”
তরুণদের মধ্যেও একই ধরনের আস্থা দেখা গেছে। একজন কিশোর জানায়, তার পরিবার দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর ভরসা করে তাকে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে দেয়। আরেকজন বলেন, গুরুত্বপূর্ণ স্থানের আশপাশে দৃশ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা তাদের মনে নিরাপত্তার অনুভূতি বাড়ায়।
এদিকে বাহরাইন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্লাইট চলাচলও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়েছে। অল্প সময়ের সতর্কতামূলক বন্ধের পর এখন বিমান চলাচল আবার নিয়মিত চলছে।
সব মিলিয়ে, খোলা জনস্থান, স্বাভাবিক দৈনন্দিন কার্যক্রম এবং হালকা বৃষ্টির মধ্যে বাহরাইনে আবারও শান্তি ও স্বস্তির পরিবেশ ফিরে আসছে।
সব খবর জানতে, এখানে ক্লিক করে আকাশযাত্রার ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকার অনুরোধ


