দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে নীরব পাপুলের স্ত্রী-শ্যালিকা

0

দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে বেশিরভাগ প্রশ্নেরই উত্তর দিতে পারেননি কুয়েতে মানব পাচারের অভিযোগে বিচারে মুখোমুখি বাংলাদেশের সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের স্ত্রী ও শ্যালিকা।

আজ বুধবার (২২ জুলাই) দুদকের তলবে কমিশনে হাজির হন পাপুলের স্ত্রী সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিমা ইসলাম ও শ্যালিকা জেসমিনকে। সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে উপ-পরিচালক মো. সালাহ উদ্দিন।

সূত্র জানিয়েছে, দুদকের কর্মকর্তারা যেসব তথ্য চান তার বেশির ভাগের উত্তরে নীরব ছিলেন পাপুলের স্ত্রী ও শ্যালিকা। এসব তথ্যের উত্তর দিতে এবং তথ্য প্রমাণাদি দিতে এসময় দুদক কর্মকর্তাদের কাছে সময় চান তারা।

দুদকের তলবি নোটিশে বলা হয়েছিল, পাপুলের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে গ্রাহককে লোন বরাদ্দ করাসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ মানিলন্ডারিং করে বিদেশে পাচার এবং শত শত কোটি টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন বিষয়ে সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে বক্তব্য শ্রবণ ও গ্রহণ করা প্রয়োজন।

এর আগে পাপুলের যাবতীয় ব্যাংক একাউন্ট এবং তার কোম্পানির লেনদেনের যাবতীয় তথ্য দুর্নীতি দমন কমিশনকে জানাতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) চিঠি দিয়েছে দুদক। একইসঙ্গে পাপুল ও তার কোম্পানির ব্যাংক লেনদেন ফ্রিজ (স্থগিত) করতেও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) জানিয়েছে দুদক। এ ছাড়াপাপুলের স্ত্রী সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা ইসলামসহ পরিবারের চার সদস্যের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে পুলিশের বিশেষ শাখাকে (এসবি) চিঠি দিয়েছে দুদক।

আগের খবর : কুয়েতের সীমান্তে অর্থ পাচারে জড়িতদের পালানো ঠেকাতে কড়া নিরাপত্তা

লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য পাপুলকে গত ৬ জুন রাতে কুয়েতের মুশরিফ এলাকা থেকে গ্রেফতার হন। মারাফি কুয়েতিয়া কোম্পানির অন্যতম মালিক পাপুল বর্তমানে কুয়েতের কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রয়েছেন।। পাচারের শিকার ১১ বাংলাদেশির অভিযোগের ভিত্তিতে পাপুলের বিরুদ্ধে মানবপাচার, অর্থপাচার, ঘুষ প্রদান ও কর্মী শোষণের অভিযোগ এনেছে কুয়েতি প্রসিকিউশন।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গত ২৬ ফেব্রুয়ারি কাজী শহীদুল ইসলাম পাপুলের বিরুদ্ধে মানবপাচারসহ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত উপায়ে শত শত কোটি টাকা অর্জন করে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। কমিশন অভিযোগটি অনুসন্ধানের জন্য একজন কর্মকর্তাও নিয়োগ দেন।

পাপুলের বিরুদ্ধে দুদকে জমা দেওয়া ১৭৪ পাতার অভিযোগে বলা হয়, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের এই পরিচালক বিদেশে ব্যবসার আড়ালে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা অবৈধভাবে অর্জন করে বিভিন্ন দেশে পাচার করেছেন। এর মধ্যে তিনি ২০১৬ সালে বাংলাদেশ থেকে ২৮০ কোটি টাকা হুন্ডি ও বিভিন্ন ব্যক্তির ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পাচার করেছেন। এরমধ্যে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের মতিঝিল শাখার মাধ্যমে ১৩২ কোটি টাকা ও প্রাইম ব্যাংকের এক কর্মকর্তার মাধ্যমে ৪০ কোটি টাকা ইউসিবিএলের মাধ্যমে ১০ কোটি ও প্রাইম ব্যাংকে ঋণ সৃষ্টি করে ১০ কোটি টাকা পাচার করেন। বাকি টাকা পাপুল তার শ্যালিকা জেসমিন প্রধান এবং জেডডব্লিউ লীলাবালি নামক প্রতিষ্ঠানের হিসাবে জমা রাখেন। কয়েকজন ব্যাংক মালিক অর্থপাচারে পাপুলকে সহযোগিতা করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ৫০ কোটি টাকার শেয়ার ক্রয় করে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের পরিচালক হয়েছেন পাপুল। আর স্ত্রীর নামে একই ব্যাংকের ৩০ কোটি টাকার শেয়ার কিনে অংশীদার হয়েছেন। গুলশান-১ এর ১৬ নম্বর সড়কে গাউসিয়া ডেভেলপমেন্টের প্রকল্পে মেয়ে ও স্ত্রীর নামে দুটি ফ্ল্যাট, গুলশান-২ এর পিংক সিটির পেছনে গাউসিয়া ইসলামিয়া প্রকল্পে স্ত্রীর নামে ৯ হাজার বর্গফুটের ফ্ল্যাট, স্ত্রী ও নিজের নামে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরসহ বিভিন্ন স্থানে ৯১ কোটি টাকার সম্পদ আছে।

এছাড়া সোনালী ব্যাংকের ঢাকার ওয়েজ আর্নার্স শাখায় স্ত্রীর নামে ৫০ কোটি টাকার ওয়েজ আর্নার্স বন্ড ও মেয়ের নামে ২০ কোটি টাকার বন্ড আছে। শ্যালিকার নামে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে দুটি বিলাসবহুল গাড়ি কিনে নিজে ব্যবহার করছেন। এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকে নিজ নামে ৪০ কোটি, মেয়ের নামে ১০ কোটি ও স্ত্রীর নামে ২০ কোটি টাকার স্থায়ী আমানত রয়েছে। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় স্ত্রীর নামে একটি ছয়তলা বাড়ি আছে।


আরও পড়তে পারেন
: কুয়েতে কমছে বাংলাদেশি কর্মীর কোটা

এছাড়া শ্যালিকার নাম ব্যবহার করে দিগন্ত মিডিয়ার বেনামে পরিচালক ছিলেন পাপুল। ফাঁসি কার্যকর হওয়া জামায়াত নেতা মীর কাশেম আলীর সঙ্গে তার বিপুল পরিমাণ ব্যবসা ছিল। মীর কাশেম আলীর ফাঁসি হওয়ার পর পাপুল তার বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুধু তাই নয়, ব্যাংক পরিচালক হয়েও বেআইনিভাবে ইউসিবিএল ব্যাংক থেকে ১ হাজার দুশ কোটি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি ইস্যু করে চার পরিচালক বোর্ড সভায় অনুমতি ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি সুবিধা ভোগ করেছেন। এই ব্যাংক গ্যারান্টি নিয়ে পাপলু রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে পাথর সরবরাহের ব্যবসা করেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে অভিযোগে।

করোনাময় বিশ্ব : কেমন আছেন কুয়েতপ্রবাসী বাংলাদেশিরা – (পর্ব ৩)

করোনাময় বিশ্ব : কেমন আছেন কুয়েতপ্রবাসী বাংলাদেশিরা – (পর্ব ৩)১৫ জুলাই, বুধবার – কুয়েত সময় : সন্ধ্যা ৭.৩০ টা, বাংলাদেশ সময় : রাত ১০.৩০ টা সঞ্চলনায় : আ. হ জুবেদ, বিশেষ প্রতিনিধি-আকাশযাত্রা অতিথি :শরীফ মোহাম্মদ মিজান, প্রবাসী সাংবাদিক, কুয়েতমো. জালাল উদ্দিন, প্রবাসী সাংবাদিক, কুয়েতআল আমিন রানা, প্রবাসী সাংবাদিক, কুয়েতসাদেক রিপন, প্রবাসী সাংবাদিক, কুয়েত

Posted by AkashJatra on Wednesday, July 15, 2020

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

Loading...