‘ছেলের লাশটা আইন্না দেও,শেষবার এট্টু দেখতে চাই’

প্রায় এক মাস ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি হাসপাতালের মর্গে পড়ে আছে প্রবাসী বাংলাদেশি রেমিট্যান্সযোদ্ধা মো. সবুজের (৩৬) মরদেহ। নানা আইনি জটিলতায় এখনও সম্ভব হয়নি দেশে আনা। অপেক্ষায় আছেন পরিবার। দ্রুত লাশ ফিরিয়ে আনার আহ্বান তাদের।

আকুতি জানিয়ে সবুজের মা পারুল বেগম বলেন,‘লাশের অপেক্ষায় চোখ ঝাপসা অইয়া গেছে, তবু আসতেছে না। ছেলের লাশটা আইন্না দেও। শেষবারের মতোন ছেলেডার মুখ এট্টু দেখতে চাই।’

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছোট দুর্গাপুর গ্রামের ছেলে মো. সবুজ প্রায় দুই বছর আগে শ্রমিক হিসেবে দুবাই যান । এ বছরের ২২ আগস্ট সন্ধ্যায় স্থানীয় এক প্রবাসীর সঙ্গে টাকার লেনদেন নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে সবুজের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। ঘটনাস্থলেই নিহত হন তিনি। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে।

Travelion – Mobile
Diamond-Cement-mobile

সবুজের বড় ভাই সুলতান মিজি বলেন, “ভাইয়ের লাশ আনার জন্য আমরা বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দূতাবাসে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু মামলার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় আর আইনি জটিলতার কারণে লাশ আনা যাচ্ছে না। আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছি।” তিনি সরকারের প্রতি দ্রুত লাশ ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান।

সবুজের স্ত্রী রিভা আক্তার (২৫) বলেন, “আমাদের ছোট ছেলে বারবার বাবার খোঁজ করে। কিন্তু ওকে কীভাবে বোঝাই? সামনে যেন অন্ধকার দেখতে পাচ্ছি।” তিনি স্বামী হত্যার বিচার দাবি করেন এবং লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সহযোগিতা চান।

গ্রামের মানুষজনও এ ঘটনায় শোকাহত। প্রতিবেশীরা জানান, সবুজ শান্ত-ভদ্র প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে পরিবারটির ওপর নেমে এসেছে নেমে এসেছে অমানিশার মতো দুঃখ।

এভিয়েশন, পর্যটন আর প্রবাসের সব খবর পেতে, এখানে ক্লিক করে আকাশযাত্রার ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকার অনুরোধ

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!