চট্টগ্রামের আকাশপথ হয়ে আমেরিকা যাচ্ছে ভারতীয় বিমান, কেন?
ভারতের জাতীয় বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়াসহ দেশটির কয়েকটি বড় এয়ারলাইন্সের যাত্রীবাহী ফ্লাইট বর্তমানে আমেরিকার সান ফ্রান্সিসকো রুটে চট্টগ্রাম, মিয়ানমান ও চীনের আকাশসীমা ব্যবহার করছে। ফ্লাইটগুলো উত্তর মেরু বা রাশিয়ার আকাশসীমা এড়িয়ে বিকল্প এই দীর্ঘ রুটে যাতায়াত করছে।
এই নতুন রুটটি সাধারণ রুটের চেয়ে ২ থেকে ৪ হাজার কিলোমিটার বেশি দীর্ঘ, ফলে উড়ান সময় ২-৪ ঘণ্টা বেশি লাগে এবং জ্বালানি ব্যয়ও বাড়ে।
উত্তর আমেরিকা যাতায়াতের প্রধান আকাশপথ এড়িয়ে ভারতীয় ফ্লাইট এত দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে চলাচল করছে কেন- প্রশ্ন জেগেছে এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মনে।
নিজ পেশাগত কাজে অনলাইনে ফ্লাইট রাডার পর্যবেক্ষণ করার সময় বিষয়টি প্রথম লক্ষ্য করেন চট্টগ্রামভিত্তিক ট্রেফেল ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের কর্মকর্তা ইখতিয়ার ইসলাম সাবিত। তিনি আকাশযাত্রাকে জানান, “ট্র্যাক করতে গিয়ে দেখি, এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইট ২৩ জুন সকাল সাড়ে ১১টায় সান ফ্রান্সিসকো বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে ২৪ জুন বিকেল সাড়ে ৪টায় কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানটি আলাস্কা হয়ে রাশিয়ার একটি প্রান্ত, মঙ্গোলিয়া, চীন, মিয়ানমার ও চট্টগ্রামের আকাশসীমা অতিক্রম করে কলকাতায় পৌঁছায়।”
তিনি আরও বলেন, “এত লম্বা পথ ঘুরে ফ্লাইটটি আসছে কেন—এই কৌতুহল থেকেই বিষয়টি আমার নজরে আসে।
চট্টগ্রামভিত্তিক ট্রেফেল ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের ম্যানেজার এমডি মামুন এ বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে আকাশযাত্রাকে জানান, এয়ার ইন্ডিয়ার এই ফ্লাইটটি এখন প্রতিদিন দিল্লি-সান ফ্রান্সিসকো-দিল্লী রুটে চলাচল করছে। তবে ২৪ জুন (মঙ্গলবার) ফ্লাইটটি দিল্লির বদলে কলকাতায় অবতরণ করেছে। বোয়িং ৭৭৭ মডেলের এই উড়োজাহাজটি সান ফ্রান্সিসকো থেকে কোনো যাত্রা বিরতি ছাড়াই সরাসরি কলকাতায় পৌঁছায়।\
তিনি বলেন, “২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পর থেকে আন্তর্জাতিক রুটে বড় পরিবর্তন আসে। এরপর থেকেই বেশিরভাগ পশ্চিমা এবং অংশীদার বিমান সংস্থা রাশিয়ার আকাশসীমা ব্যবহার বন্ধ করে দেয়। ফলে উত্তর মেরুর ওপর দিয়ে যাওয়া ট্রান্স-পোলার রুট আর ব্যবহার করা যাচ্ছে না।”
এই পরিবর্তনের ফলে এয়ার ইন্ডিয়াসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলো এখন প্রশান্ত মহাসাগরীয় রুট ব্যবহার করছে, অর্থাৎ চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া বা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আকাশসীমা অতিক্রম করে যাতায়াত করছে।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগে ট্রান্স-পোলার রুটে সান ফ্রান্সিসকো-দিল্লি ফ্লাইটের দূরত্ব ছিল আনুমানিক ১১-১২ হাজার কিলোমিটার। এখন প্রশান্ত মহাসাগরীয় রুটে তা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪-১৫ হাজার কিলোমিটারে। ফলে জ্বালানি ব্যয় ও ফ্লাইট সময় বাড়ছে।
এমডি মামুন জানান, “এই নতুন রুট ব্যবহারের কারণে বাংলাদেশ, বিশেষ করে চট্টগ্রামের আকাশপথ এখন এসব ফ্লাইটের ওভারফ্লাইয়ের আওতায় এসেছে। ফলে বাংলাদেশ বাড়তি ওভারফ্লাই চার্জ বাবদ রাজস্ব আয় করছে।”
এছাড়াও চীন ও মিয়ানমার লাভবান হচ্ছে। তাদের আকাশসীমা ব্যবহারের জন্য ওভারফ্লাই চার্জ হিসেবে বড় অঙ্কের রাজস্ব আসছে।
সব খবর জানতে, এখানে ক্লিক করে আকাশযাত্রার ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকার অনুরোধ


