কেরালা বন্যা ত্রাণ তহবিল নিয়ে বিতর্ক : ওমানে ইন্ডিয়ান স্কুল বোর্ডের ব্যাখ্যা
কেরালার ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য সংগৃহীত অর্থ ব্যবহার নিয়ে ওমানে ইন্ডিয়ান স্কুল বোর্ডের বিরুদ্ধে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ।
ওমানের ইন্ডিয়ান স্কুলগুলোর বোর্ড অব ডিরেক্টরস (বিওডি) স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, ২০১৮ সালের কেরালা বন্যার জন্য অভিভাবকদের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থ শেষ পর্যন্ত ওমানের ভারতীয় স্কুলগুলোর শিক্ষার্থী কল্যাণ ও শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যয় করা হয়েছে। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে ওই অর্থ ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি।
শনিবার বোর্ডের বার্ষিক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে বিষয়টি উঠে আসে। বোর্ড চেয়ারম্যান সৈয়দ সালমান জানান, কেরালায় বন্যাদুর্গতদের কাছে অর্থ পাঠানো হয়নি। বরং সেই অর্থ ওমানের বিভিন্ন অঞ্চলের ইন্ডিয়ান স্কুলগুলোর পরিচালনা ও উন্নয়ন কাজে ব্যবহার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এই অর্থ ২০১৯ সালে ইন্ডিয়ান সোশ্যাল ক্লাব (ISC)-এর অনুরোধে সংগ্রহ করা হয়েছিল। ওমানে মানবিক সহায়তার জন্য অর্থ সংগ্রহের অনুমতি কেবল এই ক্লাবেরই রয়েছে। স্কুল বোর্ড তাদের অনুরোধে স্কুলগুলোর মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে এবং তা বোর্ডের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়।
তবে বারবার যোগাযোগের পরও কেরালায় অর্থ পাঠানোর নির্দিষ্ট পদ্ধতি বা নির্দেশনা পাওয়া যায়নি বলে জানান সালমান। তিনি আরও বলেন, ওমানের আইন অনুযায়ী স্কুল বোর্ড নিজ উদ্যোগে দেশের বাইরে অর্থ পাঠাতে পারে না। এ কারণে ত্রাণ তহবিলটি ছয় বছরেরও বেশি সময় অব্যবহৃত ছিল এবং আগের তিনটি বোর্ডও একই সমস্যার মুখে পড়ে।
করোনা পরবর্তী সময়ে ওমানে ইন্ডিয়ান স্কুলগুলো আর্থিক চাপে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব স্কুল কেবল শিক্ষার্থীদের ফিতেই চলে, বাইরের কোনো আর্থিক সহায়তা পায় না। বিশেষ করে মাসিরা, খাসাব, থুমরাইত, রুস্তাক, দুকম ও সাহাম এলাকার স্কুলগুলো সীমিত সম্পদে পরিচালিত হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে বর্তমান বোর্ড বিষয়টি পর্যালোচনা করে ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়, অব্যবহৃত অর্থ শুধু শিক্ষার্থী কল্যাণ ও শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে।
তবে এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কমিউনিটির কিছু নেতা। সামাজিক কর্মী পি এম জাবির বলেন, ইন্ডিয়ান সোশ্যাল ক্লাব প্রয়োজনীয় অনুমতি নিয়ে তাদের সংগ্রহ করা অর্থ কেরালার মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে পাঠিয়েছে। স্কুল বোর্ডের সংগৃহীত অর্থ না পাঠিয়ে অন্য কাজে ব্যয় করা গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
২০১৮ সালে কেরালায় ভয়াবহ বন্যার পর উপসাগরীয় দেশগুলোতে প্রবাসী ভারতীয়দের পক্ষ থেকে ব্যাপক তহবিল সংগ্রহ করা হয়েছিল। এই ভিন্নমত ও ব্যাখ্যার কারণে তহবিল ব্যবহারে আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির দাবি উঠেছে।
উল্লেখ্য, ওমানের নিয়ম অনুযায়ী মানবিক সহায়তার জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে হলে সমাজ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের আগাম অনুমতি প্রয়োজন।
সব খবর জানতে, এখানে ক্লিক করে আকাশযাত্রার ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকার অনুরোধ


