কুয়েতে পাপুলের কোটি কোটি টাকার সরকারি দরপত্র বাতিল

0

কুয়েতে মানব ও মুদ্রা পাচার এবং ঘুষ প্রদানের অভিযোগে গ্রেপ্তার বাংলাদেশের সংসদ সদস্য শহিদ ইসলাম পাপুলের প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া বিভিন্ন সরকারি কাজের কোটি কোটি টাকা দরপত্র বাতিল করা হচ্ছে। জুনে কুয়েতের বিমানবন্দর এবং মসজিদ কমপ্লেক্স রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতার কাজ বাতিল করার পর সম্প্রতি তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান মারাফিয়া কুয়েতিয়া গ্রুপের নতুন একটি দরপত্র বাতিল করে দিয়েছে দেশটির ধর্ম মন্ত্রণালয়। এ নিয়ে পাপুলের তিনটি সরকারি কাজের দরপত্র বাতিল হলো।

দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে ২৫ লাখ কুয়েতি দিনার বা প্রায় ৬৭ কোটি টাকার নতুন কাজটি পেয়েছিল পাপুলের প্রতিষ্ঠান। কুয়েতের সবচেয়ে ছোট প্রদেশ হাউলরির ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন ভবন ও মসজিদের তিন বছরের পরিচ্ছন্নতা সেবার কাজের জন্য প্রতিষ্ঠানটি কার্যাদেশ পাওয়ার অপেক্ষায় ছিল। ঈদুল আজহার ছুটির ঠিক আগে কুয়েতের সরকারি দরপত্র বিষয়ক কর্তৃপক্ষ তাদের সবশেষ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কুয়েতের ইংরেজি দৈনিক আরব টাইমস এবং আরবি দৈনিক আল কাবাসের প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে। পত্রিকাগুলোর খবরে বলা হয়, প্রায় দুই মাস ধরে মানব ও অবৈধ মুদ্রা পাচারের অভিযোগে আটক থাকায় কুয়েতের জনশক্তি কর্তৃপক্ষ পাপুলের কুয়েতিয়া মারাফিয়াকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটিকে সরকারি কোনো কাজ দিতে নিষেধ করেছে কর্তৃপক্ষ।

মানব ও মুদ্রা পাচারের অভিযোগে কুয়েতের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টের (সিআইডি) কর্মকর্তারা জুনের ৬ তারিখ শহিদ ইসলামকে তাঁর বাসা থেকে আটক করে। এরপর গোয়েন্দাদের কাছে জিজ্ঞাসাবাদে শহিদ ইসলাম কুয়েতের রাজনীতিবিদ, সরকারি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রভাবশালী লোকজনকে ঘুষ দিয়ে অনৈতিকভাবে ব্যবসা পরিচালনার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে মানব ও অবৈধ মুদ্রা পাচারের পাশাপাশি ভিসা ব্যবসা ও ঘুষ দিয়ে কাজ পাওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে ওই সব অভিযোগের বিষয়ে আদালতে এখনো পূর্ণাঙ্গ শুনানি শুরু হয়নি।

গত ২৭ জুলাই আদালত শহিদ ইসলামসহ চারজনকে ৯ আগস্ট পর্যন্ত কারাগারে রাখার নির্দেশ দেন। গত ৬ জুন আটকের পর থেকে মোট তিন দফায় বাংলাদেশের স্বতন্ত্র ওই সাংসদের আটকাদেশ বাড়ানো হয়েছে।

শহিদ ইসলামের আটকাদেশের মেয়াদ আগামীকাল রোববার শেষ হচ্ছে। আজ সুপ্রিম কোর্টে আটকাদেশ পুনর্বিবেচনা–বিষয়ক বিচারের চেম্বারে শহিদ ইসলামের পাশাপাশি কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশিক্ষণবিষয়ক সহকারী আন্ডার সেক্রেটারি মেজর জেনারেল শেখ মাজন আল-জারাহ এবং অন্য দুই কুয়েতি নাগরিক হাসান আবদুল্লাহ আল খাদের এবং নওয়াফ আলী আল শালাহিকেও হাজির করার কথা রয়েছে। এঁদের সবার বিরুদ্ধে শহিদ ইসলামের কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে তাঁকে অনৈতিকভাবে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এদিকে পাপুলের ভিসা বাণিজ্যের অন্যতম সহযোগী মো. আমান শিকদার নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশিকে কুয়েতের সিআইডি গত বুধবার আটক করেছে বলে দেশটি প্রবাসীদের সূত্র জানিয়েছে।

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।